২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন ২০২৬: যাচাইকৃত ৪টি পছন্দ

২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন খুঁজতে গিয়ে শুধু বড় ডিসপ্লে বা ক্যামেরার নম্বর দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল মডেল বেছে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে KoyTaka ডেটাবেস ও বাংলাদেশি অফিসিয়াল উৎস মিলিয়ে এই গাইডে যাচাই করা চারটি ফোনের দাম, স্পেসিফিকেশন ও সীমাবদ্ধতা দেওয়া হলো। সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, সবার জন্য এক ফোন সেরা নয়; Infinix Hot 70 ভারসাম্যপূর্ণ, Galaxy M17 5G 5G ও AMOLED-এ এগিয়ে, আর Poco C81 বড় ব্যাটারিতে বাজেট পূরণ করে।
এখানে দেখানো দাম কোনো ব্র্যান্ডের স্থায়ী অফিশিয়াল এমআরপি নয়, বরং KoyTaka ডেটাবেসে ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যাচাই করা তালিকাভুক্ত বাজারদাম। স্টক, রঙ, ওয়ারেন্টি ও চলমান অফারের কারণে চূড়ান্ত মূল্য বদলাতে পারে, তাই অর্ডারের আগে বিক্রেতার শর্ত মিলিয়ে নিন। প্রতিটি পছন্দের পাশে নির্দিষ্ট কাজ ও সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়েছে, যাতে ফিচার তালিকার বদলে নিজের ব্যবহারের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন: দ্রুত তুলনা
চারটি মডেলই ২০২৪–২০২৬ সালের লঞ্চ, তাই পুরনো স্টকের তুলনায় সফটওয়্যার ও ব্যাটারি দুই দিকেই এগিয়ে। নিচের টেবিলটি কোনো ল্যাব-ভিত্তিক সামগ্রিক র্যাঙ্কিং নয়; যাচাই করা স্পেসিফিকেশন ও ব্যবহারভেদে উপযোগিতার দ্রুত মানচিত্র। বাজারদামগুলো তারিখযুক্ত হওয়ায় আজকের দোকানদর কিছুটা কম বা বেশি হলে সেটিকে অফার বা স্টকভেদ হিসেবে ধরুন।
| মডেল | KoyTaka দাম (৪ আগস্ট ২০২৬) | ডিসপ্লে | ক্যামেরা | ব্যাটারি ও চার্জিং | কার জন্য |
|---|---|---|---|---|---|
| Infinix Hot 70 | ৳ 18,999 | 6.78" IPS LCD, 120Hz | 50MP + 8MP সেলফি | 6000mAh, 45W | সেরা সামগ্রিক |
| Samsung Galaxy M17 5G | ৳ 18,900 | 6.7" Super AMOLED, 90Hz | 50MP OIS + 13MP সেলফি | 5000mAh, 25W | 5G ও AMOLED |
| Infinix Hot 50 Pro 4G | ৳ 18,999 | 6.78" FHD+ IPS, 120Hz | 50MP ট্রিপল + 13MP সেলফি | 5000mAh, 33W | ধারালো ডিসপ্লে |
| Xiaomi Poco C81 | ৳ 15,000 | 6.9" IPS LCD, 120Hz | 13MP + 8MP সেলফি | 6300mAh, 15W | বড় ব্যাটারি, কম দাম |
দামের ব্যবধান ৩,৯৯৯ টাকা হলেও প্রতিটি ফোন আলাদা কাজের জন্য সাজানো, তাই শুধু দাম দেখে তুলনা করা ঠিক হবে না। Hot 70-তে পাওয়া যায় সবচেয়ে দ্রুত চার্জিং, M17 5G-তে পাওয়া যায় প্রিমিয়াম AMOLED স্ক্রিন, আর C81-তে মেলে সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। যাদের বাজেট ১৫ হাজারের নিচে, তাদের জন্য আলাদা ১৫,০০০ টাকার নিচের সেরা ফোন গাইড আছে।
কীভাবে যাচাই করা হলো: পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা
প্রথমে KoyTaka ডেটাবেস থেকে ১৪,৫০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে থাকা ফোনগুলো আলাদা করা হয়েছে, যেখানে মোট ২৩৬টি ফোন পড়ে। এরপর প্রতিটি মডেলের দাম ও স্পেসিফিকেশন বাংলাদেশি অফিসিয়াল উৎস ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। দাম বা স্পেসিফিকেশনে দ্বন্দ্ব পাওয়া মডেলগুলো মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, Realme C100i-এর ব্যাটারি নিয়ে উৎসভেদে ৬,৩০০mAh ও ৭,০০০mAh — দুই রকম তথ্য মিলেছে, তাই সেটিকে নিশ্চিত পছন্দ হিসেবে দেখানো হয়নি। OPPO A6-এর অফিসিয়াল দাম ২০ হাজারের উপরে, আবার ডেটাবেসে কম দাম দেখানো ছিল, ফলে দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। Motorola Moto G57 Power-এর বাজারদর ২৫ হাজারের কাছাকাছি, তাই সেটিও এই বাজেটের তালিকায় আসেনি।
শুধু দাম নয়, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, ক্যামেরা ও সফটওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। লঞ্চের বছর নতুন হলে সফটওয়্যার সাপোর্ট বেশি দিন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ। দাম-উৎসের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রাইস মেথডোলজি পেজে বিস্তারিত আছে।
বাজেটের সীমা ধার্য করা হয়েছে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত, কারণ এই রেখার ঠিক পরেই দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ২০–২৫ হাজারের মধ্যে AMOLED, 5G ও ভালো ক্যামেরার মডেল বেশি মেলে, কিন্তু বাজেট-বাঁধা ক্রেতাদের জন্য ২০ হাজারের নিচেই সেরা মানের ফোন পাওয়া যায়। তাই এই গাইডে ২০ হাজারের নিচের মডেলগুলোতেই ফোকাস রাখা হয়েছে, আর দামের ওঠানামা ধরতে ডেটাবেসের তারিখযুক্ত স্ন্যাপশট ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিসপ্লে ও ব্যাটারি: এই বাজেটে প্রত্যাশা
২০ হাজারের বাজেটে এখন ১২০Hz রিফ্রেশ রেট ও ৫,০০০mAh-এর উপরে ব্যাটারি স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তবে সব ফোনে দুটোই একসঙ্গে পাওয়া যায় না। ডিসপ্লে বিচারের সময় রেজোলিউশন, রিফ্রেশ রেট ও প্যানেলের ধরন — তিনটিই মিলিয়ে দেখা জরুরি। ব্যাটারির ক্ষেত্রে চার্জিং গতি ব্যাটারির আকারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধীর চার্জারে বড় ব্যাটারিও অসুবিধার।
এই তালিকায় M17 5G-র Super AMOLED সবচেয়ে ভালো রং ও কনট্রাস্ট দেয়, অন্যদিকে Hot 50 Pro 4G-র FHD+ প্যানেলে টেক্সট সবচেয়ে ধারালো। Hot 70 ও C81-এর ১২০Hz IPS প্যানেল মসৃণ স্ক্রলিং দেয়, তবে রেজোলিউশন ৭২০p হওয়ায় ধারালোত্বে পিছিয়ে। AMOLED ও IPS-এর ব্যবহারিক পার্থক্য বুঝতে AMOLED বনাম IPS গাইডে পড়তে পারেন।
ব্যাটারিতে C81-এর ৬,৩০০mAh সবচেয়ে বড়, আর Hot 70-এর ৪৫W চার্জিং সবচেয়ে দ্রুত। M17 5G ও Hot 50 Pro 4G-র ৫,০০০mAh ব্যাটারি স্বাভাবিক ব্যবহারে সারাদিন চলে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন-অন দরকার হলে C81, আর দ্রুত রিচার্জ দরকার হলে Hot 70 বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
Infinix Hot 70: সেরা সামগ্রিক পছন্দ
৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০Hz ডিসপ্লে, ৬,০০০mAh ব্যাটারি আর ৪৫W চার্জিং — ১৮,৯৯৯ টাকায় এই প্যাকেজটিই ২০২৬ সালের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অফার। Helio G100 Ultimate চিপসেট দৈনন্দিন কাজ ও হালকা গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট গতি দেয়, আর Android 16 আউট-অফ-বক্স থাকে। ৫০MP ক্যামেরা ভালো আলোয় বিস্তারিত ছবি তোলে, তবে কম আলোয় নাইট মোডের সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে হবে।
৪৫W চার্জার দিয়ে ৬,০০০mAh ব্যাটারি দ্রুত ভরে ওঠে, যা এই বাজেটে বিরল। IP64 ধুলা ও পানির ছিটা সুরক্ষা দৈনন্দিন ব্যবহারে মানসিক শান্তি দেয়, আর NFC থাকায় বিকাশ-নগদ পেমেন্টও সহজ হয়। ১২০Hz রিফ্রেশ রেটে স্ক্রলিং মসৃণ, তবে রেজোলিউশন ৭২০p হওয়ায় খুব কাছ থেকে দেখলে পিক্সেল কিছুটা টের পাওয়া যায়।
সামগ্রিকভাবে, দামের তুলনায় যা পাওয়া যায় তার বিচারে Hot 70-ই এই তালিকার সেরা সামগ্রিক পছন্দ। ব্যাটারি, চার্জিং, ডিসপ্লে ও সফটওয়্যার — চার দিক মিলিয়ে কোনো বড় কমপ্রোমাইজ নেই। বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন ও সর্বশেষ দামের জন্য Infinix Hot 70 প্রোডাক্ট পেজ দেখুন।
Samsung Galaxy M17 5G: 5G ও AMOLED-এর পছন্দ
২০ হাজারের মধ্যে 5G কানেক্টিভিটি ও Super AMOLED ডিসপ্লে — দুটোই চাইলে Galaxy M17 5G-ই একমাত্র যাচাইকৃত বিকল্প। ৯০Hz AMOLED প্যানেল গাঢ় কালো ও উজ্জ্বল রং দেয়, যা ভিডিও দেখা ও স্ক্রলিংয়ে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে। Exynos 1330 প্রসেসর দৈনন্দিন কাজে স্থির পারফরম্যান্স দেয়, আর One UI-র সফটওয়্যার আপডেট প্রতিশ্রুতি এই বাজেটে সেরা।
৫০MP OIS মূল ক্যামেরা কম আলোতেও স্থির ছবি তুলতে সাহায্য করে, যা এই দামের ফোনে বিরল। ৫,০০০mAh ব্যাটারি সারাদিন স্বাচ্ছন্দ্যে চলে, তবে ২৫W চার্জিং Hot 70-এর ৪৫W-র তুলনায় ধীর। 5G নেটওয়ার্ক এখনো বাংলাদেশের সব জায়গায় চালু নয়, তাই কেনার আগে নিজের এলাকার কভারেজ মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
যারা ব্র্যান্ড, ডিসপ্লে গুণমান ও 5G-কে প্রাধান্য দেন, তাদের জন্য M17 5G-ই সঠিক পছন্দ। AMOLED-এ কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা ও OIS ক্যামেরার স্থিরতা বাকি তিন মডেলের চেয়ে উন্নত, আর ডিসপ্লে প্রযুক্তির পার্থক্য উপরের গাইডে বিস্তারিত আছে। সবচেয়ে সস্তা 5G ফোনের পূর্ণ তালিকা ২৫,০০০ টাকার নিচের 5G গাইডে আছে, আর সর্বশেষ দামের জন্য Galaxy M17 5G পেজ দেখুন।
Infinix Hot 50 Pro 4G: ধারালো FHD+ ডিসপ্লে
২০ হাজারের মধ্যে সবচেয়ে ধারালো ছবি চাইলে Hot 50 Pro 4G-এর ১০৮০p FHD+ ডিসপ্লে এগিয়ে থাকে। ৬.৭৮ ইঞ্চির এই ১২০Hz প্যানেলে টেক্সট ও ছবি Hot 70-এর ৭২০p স্ক্রিনের তুলনায় বেশি স্পষ্ট লাগে। Helio G100 চিপসেট ও ৫০MP ট্রিপল ক্যামেরা দৈনন্দিন কাজে নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা দেয়।
৩৩W চার্জিংয়ে ৫,০০০mAh ব্যাটারি দ্রুত ভরে, আর ১৩MP সেলফি ক্যামেরা ভিডিও কলের জন্য যথেষ্ট। মডেলটি ২০২৪ সালের আগস্টে লঞ্চ হওয়ায় বাজারে ভালো অফার পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। তবে Android 14 দিয়ে লঞ্চ হওয়ায় সফটওয়্যার আপডেট সাপোর্ট Hot 70-এর তুলনায় কম।
ডিসপ্লে রেজোলিউশন ও ছবির ধারালোত্বকে যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ। আর যারা দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট চান, তারা একটু এগিয়ে Hot 70-এর দিকেও তাকাতে পারেন। Hot 50 Pro 4G প্রোডাক্ট পেজ থেকে বর্তমান অফার দেখে নিন।
Xiaomi Poco C81: বড় ব্যাটারির বাজেট পছন্দ
১৫,০০০ টাকায় ৬,৩০০mAh ব্যাটারি ও ৬.৯ ইঞ্চির বড় ১২০Hz ডিসপ্লে — Poco C81 ব্যাটারি-প্রথম ক্রেতাদের লক্ষ্য করে বানানো। ২০২৬ সালের এপ্রিলে লঞ্চ হওয়া এই ফোনটি একবার চার্জে হালকা ব্যবহারে দেড় দিন সহজেই চলে। ১৩MP ক্যামেরা মৌলিক কাজের জন্য যথেষ্ট, তবে ক্যামেরাই এটির সবচেয়ে দুর্বল দিক।
বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখা ও স্ক্রলিং ভালো লাগে, আর ১২০Hz রিফ্রেশ রেট কাজটাকে মসৃণ করে। দাম বাঁচিয়ে রাখা ক্রেতাদের জন্য বাকি ৩,৯৯৯ টাকা অন্য খরচে কাজে লাগতে পারে। তবে ১৫W চার্জিং ধীর, তাই ফুল চার্জে সময় একটু বেশি লাগবে।
বাজেট কঠোর ও ব্যাটারি বড় চাইলে Poco C81-ই বুদ্ধিমানের পছন্দ। ক্যামেরা বা দ্রুত চার্জিং বেশি জরুরি হলে একটু বাড়িয়ে অন্য তিনটি মডেল বিবেচনা করুন। Poco C81 প্রোডাক্ট পেজ থেকে দাম ও স্টক যাচাই করে নিন।
কোন ফোন আপনার জন্য উপযুক্ত?
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন — 5G দরকার কি না, ক্যামেরা নাকি ব্যাটারি বেশি জরুরি, আর ফোনটি কত বছর ব্যবহার করার ইচ্ছা। 5G ও প্রিমিয়াম ডিসপ্লে চাইলে Galaxy M17 5G, আর সর্বোচ্চ ব্যাটারি ও দ্রুত চার্জিং চাইলে Infinix Hot 70 ধরুন। বাজেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলে Poco C81, আর ধারালো স্ক্রিনে কনটেন্ট দেখার অভ্যাস থাকলে Hot 50 Pro 4G নিন।
ছাত্র বা প্রথম ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য Poco C81-এর কম দাম ও বড় ব্যাটারি ব্যবহারিক সুবিধা দেয়। অফিসের কাজ ও ভিডিও কল বেশি হলে M17 5G-র AMOLED ও 5G ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বলে মনে হয়। সিদ্ধান্ত নিতে কমপেয়ার টুল ব্যবহার করে পাশাপাশি স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে দেখতে পারেন।
মনে রাখবেন, এই বাজেটে দামের ছোট পার্থক্যের চেয়ে বিক্রেতার সুনাম ও ওয়ারেন্টির ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই মডেলের জন্য দুই দোকানে ভিন্ন দাম দেখলে সেটি অফার বা স্টকভেদ হতে পারে, তাই রেটিং ও রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো। সঠিক বিক্রেতা ও যাচাইকৃত ফোন বেছে নিলে ২০ হাজারের বাজেটেই দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী পেয়ে যাবেন।
কেন কিছু জনপ্রিয় মডেল বাদ পড়ল
বাজারে জনপ্রিয় অনেক মডেলই এই তালিকায় আসেনি, কারণ দাম বা স্পেসিফিকেশন যাচাইয়ে দ্বন্দ্ব পাওয়া গেছে। Realme C100i-এর ব্যাটারি নিয়ে উৎসভেদে ভিন্ন তথ্য, আর OPPO A6-এর অফিসিয়াল দাম ২০ হাজারের উপরে। Motorola Moto G57 Power-এর বাজারদর ২৫ হাজারের কাছাকাছি থাকায় সেটি এই বাজেটের গাইডে মানানসই নয়।
HONOR X6c-এর বাজারদর ভেরিয়েন্টভেদে ২০ হাজারের কাছাকাছি ওঠানামা করে, তাই নিশ্চিত পছন্দ হিসেবে দেখানো হয়নি। Vivo Y29 5G-এর দামও ভেরিয়েন্ট ও চ্যানেলভেদে বদলায়, ফলে একক দাম দেওয়া বিভ্রান্তিকর হবে। দাম যাচাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে উপরের মেথডোলজি পেজে পড়তে পারেন।
অফিসিয়াল নাকি ইমপোর্টেড: ওয়ারেন্টির পার্থক্য
একই মডেলের অফিসিয়াল ও ইমপোর্টেড ভার্সনের দামে ১–৩ হাজার টাকার পার্থক্য থাকতে পারে, তবে ওয়ারেন্টির ধরন ভিন্ন। অফিসিয়াল ফোনে ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টারে জাতীয় ওয়ারেন্টি মেলে, আর ইমপোর্টেড ফোনে সাধারণত দোকানের নিজস্ব ওয়ারেন্টি থাকে। দামে লোভ দেখে ইমপোর্টেড কিনলে পরে সার্ভিস পেতে ঝামেলা হতে পারে, তাই বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড অবশ্যই রাখুন।
বাংলাদেশে ফোন কেনার সময় অনলাইন-অফলাইন কেনার গাইডে দেখানো নিয়মগুলো মেনে চলা ভালো। সিল করা বক্স, ব্র্যান্ডের অথরাইজড স্টিকার ও সঠিক বিল — এই তিনটি বিষয় দেখেই ইমপোর্টেড ও অফিসিয়ালের পার্থক্য ধরতে পারবেন। সন্দেহ থাকলে বিক্রেতাকে ফোনের IMEI ও ওয়ারেন্টি শর্ত লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে বলুন।
কেনার আগে করণীয়: IMEI ও NEIR যাচাই
কেনার আগে ফোনের IMEI নম্বর দিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের NEIR পোর্টালে ডিভাইসটি যাচাই করে নিন। নকল বা অননুমোদিত ডিভাইস নেটওয়ার্কে সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই এই ধাপটি এড়ানো উচিত নয়। যাচাইয়ের পর ফোনে সিম দিয়ে কল করে নেটওয়ার্ক, স্পিকার ও মাইক্রোফোন পরীক্ষা করুন।
স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল, চার্জিং পোর্ট, ক্যামেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর — সবকিছু দোকানেই মিলিয়ে নিন। ব্যাটারির প্রথম চার্জ নিয়ে পুরনো দিনের ধারণা আর প্রযোজ্য নয়, আধুনিক ফোন যেকোনো সময় চার্জে দেওয়া যায়। ফেরত নীতি পরিষ্কার না থাকলে কেনাকাটার আগে বিক্রেতার শর্ত লিখিতভাবে জেনে রাখুন।
সবশেষে: কোন ফোনটি নেবেন
২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন বলতে কোনো একক মডেল নেই — সঠিক পছন্দ নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের ধরনের ওপর। Infinix Hot 70 সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, Galaxy M17 5G সবচেয়ে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেয়, আর Poco C81 সবচেয়ে সাশ্রয়ী। বাজেট, ক্যামেরা ও 5G — এই তিনটি বিষয় আগে ঠিক করলে তালিকাটা নিজে থেকেই ছোট হয়ে যাবে।
দোকানে যাওয়ার আগে অনলাইনে দাম মিলিয়ে নিন, কারণ অফারভেদে ৫০০–১,০০০ টাকার পার্থক্য থাকতে পারে। কেনার পর প্রথম সপ্তাহে ফোনটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে কোনো সমস্যা পেলে বিক্রেতাকে জানান। সম্পূর্ণ মোবাইল ডেটাবেসে আরও মডেলের দাম ও স্পেসিফিকেশন দেখে তুলনা করতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
Infinix Hot 70 কি 5G সাপোর্ট করে?
না, Hot 70 একটি 4G ফোন — Helio G100 Ultimate চিপসেটে 5G মডেম নেই। 5G ব্যবহার করতে চাইলে এই তালিকা থেকে Galaxy M17 5G বেছে নিন। বাংলাদেশে 5G কভারেজ এখনো সীমিত, তাই কেনার আগে নিজের এলাকার নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে নিন।
২০,০০০ টাকার ফোন সাধারণত কত বছর চলবে?
যত্ন নিলে এই বাজেটের ফোন ৩–৪ বছর সহজেই চলবে, তবে সফটওয়্যার আপডেটের সময়সীমা মডেলভেদে আলাদা। Hot 70 ও M17 5G নতুন লঞ্চ হওয়ায় আপডেট সাপোর্ট বেশি দিন পাবে, আর ২০২৪ সালের Hot 50 Pro 4G-এর ক্ষেত্রে সাপোর্ট কম। ব্যাটারি অবনতির পর রিপ্লেসমেন্ট খরচও মাথায় রাখা ভালো।
বাজেট একটু বাড়ালে ২২–২৫ হাজারে কী পাওয়া যায়?
এই রেঞ্জে সাধারণত আরও ভালো ক্যামেরা, AMOLED ডিসপ্লে ও দ্রুত চার্জিং পাওয়া যায়, যেমন Galaxy A16 5G বা Redmi Note 15 4G। তবে ২০ হাজারের মধ্যে থাকা Hot 70-এর ব্যাটারি ও চার্জিং বড় দামের ফোনের সঙ্গে পাল্লা দেয়। বাজেট বাড়ানোর আগে বাড়তি খরচে আসলেই কী সুবিধা পাচ্ছেন, তা যাচাই করা জরুরি।
এই চারটি ফোনের মধ্যে ক্যামেরায় কোনটা এগিয়ে?
Galaxy M17 5G-র ৫০MP OIS ক্যামেরা কম আলোয় স্থির ও বিস্তারিত ছবি তোলে, তাই ক্যামেরায় এটিই সেরা। Hot 70 ও Hot 50 Pro 4G-র ৫০MP ক্যামেরা ভালো আলোয় ভালো করে, তবে OIS না থাকায় হাত কাঁপলে ঝাপসা হতে পারে। Poco C81-র ১৩MP ক্যামেরা শুধু মৌলিক প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত।
ফোন কেনার সেরা সময় কোনটা?
নতুন মডেল লঞ্চের পর পুরনো মডেলে ছাড় পড়ে, তাই নির্দিষ্ট মডেল কেনার আগে লঞ্চ-সাইকেল দেখে নেওয়া ভালো। বর্ষা বা উৎসব মৌসুমে বাংলাদেশি খুচরা বিক্রেতারা ঘোষিত অফারে দাম কমায়। তবে অফারের চেয়ে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি ও NEIR-যাচাই করা ফোনই দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী।


