KoyTaka
Home/Blog/reviews/itel Power 80 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও যাচাই

itel Power 80 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও যাচাই

October 15, 2026
Share:
itel Power 80 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও যাচাই

itel Power 80 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও যাচাই

শক্ত-সহ্য ফোন বলতে আগে আট-দশ হাজার টাকার বেশি খরচ মনে হতো, কারণ রগ্ড ডিজাইনের বাজারটা ছোট ছিল। itel সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশে এনেছে Power 80, যেখানে ক্যাজ ফ্রেম, IP68/IP69 সুরক্ষা আর ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি পাওয়া যায় ১৮ হাজার টাকার আশপাশে। এই গাইডে অফিসিয়াল দাম, বাজারের চলমান অফার, পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর কী কী দাবি সীমাবদ্ধতা নিয়ে লেখা হয়েছে, সবকিছু ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যাচাই করা।

কাজের মাঠে, নির্মাণ প্রকল্পে বা দীর্ঘ ট্রেকে ফোন বাঁচিয়ে রাখা সহজ ব্যাপার নয়, আর ভাঙা স্ক্রিনের খরচ প্রায় নতুন ফোনের দামের কাছাকাছি। Power 80 ঠিক এই সমস্যার জন্য তৈরি, কারণ এতে আলাদা প্রোটেক্টিভ কেস ছাড়াই ড্রপ ও পানির ঝুঁকি কমানোর দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিটি দাবির পেছনে ল্যাব-টেস্টের শর্ত আছে, তাই কোন দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য সেটাও এই লেখায় স্পষ্ট করা হলো।

itel Power 80 দাম ও ভ্যারিয়েন্ট

বাংলাদেশে itel Power 80-এর অফিসিয়াল দাম ১৮,৪৯০ টাকা, একমাত্র ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে। ফোনটি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেশে অফিসিয়ালি লঞ্চ হয় এবং এখন অথরাইজড রিটেইলারে স্টকে আছে। ৪ জিবি ও ৬৪ জিবি একটি ভ্যারিয়েন্টের কথা শোনা গেলেও তা বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা গেছে, একটি অনলাইন রিটেইলার অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ ১৭,৯৯০ টাকায় বিক্রি করছে, আর আরেকটিতে দাম ১৮,৪৯০ টাকা। অর্থাৎ অফিসিয়াল দামের চেয়ে হাজার টাকা কম পাওয়ার সুযোগ এখন বাজারে সত্যি, তবে দাম যেকোনো দিন বদলাতে পারে। কেনার দিন দাম নিজে যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ এই লেখার সংখ্যাগুলো শুধু ওই তারিখের পর্যবেক্ষণ।

মডেলঅফিসিয়াল দামব্যাটারিস্ক্রিনচার্জিং
itel Power 80৳ 18,4907,000 mAh6.78" 120Hz18W
realme C100i৳ 17,9997,000 mAh6.8" 120Hz15W
Redmi 15C৳ 17,9996,000 mAh6.9" 120Hz33W
OPPO A6x৳ 19,9996,500 mAh6.75" 120Hz15W
realme C100x৳ 21,9998,000 mAh6.8" 120Hz45W

টাইটে দেখা যাচ্ছে, ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে ব্যাটারি-কেন্দ্রিক ফোনের ভালোই ভিড়। Power 80 এই তালিকায় একমাত্র ফোন যার আনুষ্ঠানিক পানি ও ধুলো সুরক্ষার রেটিং সবচেয়ে উঁচু স্তরে। বাকি ফোনগুলোর দাম KoyTaka ক্যাটালগের অফিসিয়াল রেকর্ড থেকে নেওয়া, যাচাই পদ্ধতি দাম যাচাই পাতায় বিস্তারিত আছে।

ডিজাইন, ক্যাজ ফ্রেম ও সুরক্ষা

Power 80-এর সবচেয়ে বড় পরিচয় এর ক্যাজ ফ্রেম, অর্থাৎ চারপাশ জুড়ে শক্ত ফ্রেম যা আঘাতের শক্তি শোষণ করে ছড়িয়ে দেয়। itel দাবি করে এই গঠন ২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ড্রপ প্রতিরোধে সাহায্য করে, আর ফোনটি SGS ৫-স্টার গোল্ড লেবেল সার্টিফিকেশন পেয়েছে। সাথে আছে MIL-STD-810H মানের নির্বাচিত টেস্ট পাসের দাবি, যা মিলিটারি-গ্রেড ডিউরেবিলিটি টেস্টের একটি স্বীকৃত তালিকা।

itel Power 80 ফোনের পেছনের দিক, ক্যাজ ফ্রেম ডিজাইন ও ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল

পানির দিকের রেটিং দুই স্তরের, IP68 মানে নির্দিষ্ট গভীরতায় ডুবে থাকতে পারা আর IP69 মানে উচ্চচাপের গরম পানির জেটও সহ্য করা। প্রস্তুতকারকের নোট অনুযায়ী এই রেটিং ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল, সাধারণ ব্যবহারে প্রতিদিনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি নয়। তাই বৃষ্টি, ধুলো ও হঠাৎ পানি পড়ার মতো দুর্ঘটনায় ফোনটি টিকে যাওয়ার কথা, কিন্তু ইচ্ছ করে গভীর পানিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা করার কিছু নেই।

পেছনের প্যানেল জুড়ে উল্লম্ব গ্রুভ টেক্সচার, কোণে বাম্পার ক্যাপ আর নিচের দিকে স্পিকার স্লট — পুরো চেহারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রগ্ড। Tundra Green, Meteorite Black ও Lava Orange নামে তিনটি রঙে ফোনটি বাজারে আছে। প্রস্তুতকারক দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও ওজনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি, তাই পাউচে বহনযোগ্যতা নিয়ে অনুমানের চেয়ে দোকানে হাতে নিয়ে দেখাই ভালো।

বাস্তব কথা হলো, নির্মাণসাইট, রিকশা-গ্যারেজ, মাঠ-ঘাট বা ছোট বাচ্চাওয়ালা পরিবারের কাছে এই ডিজাইনের মূল্য আসল অর্থে বোঝা যায়। সাধারণ ফোনে প্রতি বছর স্ক্রিন বা ব্যাক প্যানেল বদলানোর খরচ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হতে পারে। সেই তুলনায় কেসবিহীন টেকসই বিল্ট দীর্ঘমেয়াদে আসলেই খরচ বাঁচাতে পারে, যদি ফোনটির অন্য দিকগুলোও চাহিদা মেমায়।

ডিসপ্লে — তথ্য ও বাস্তবতা

স্ক্রিনে আছে ৬.৭৮ ইঞ্চির IPS LCD প্যানেল, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট আর ৭২০×১৫৭৬ পিক্সেল রেজল্যুশন। প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল ঘনত্ব প্রায় ২৫৬ ppi, যা এই দামের বড় স্ক্রিনে স্বাভাবিক ব্যবহারে মোটামুটি পরিষ্কার ছবি দেয়। স্ক্রিনের উপরে মাঝখানে পঞ্চ-হোল সেলফি ক্যামেরা, তাই ভিডিও দেখার সময় বাধা প্রায় নেই বললেই চলে।

HD+ রেজল্যুশন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, কারণ একই দামে কিছু ফোনে FHD প্যানেল পাওয়া যায়। তবে ৬.৭৮ ইঞ্চিতে HD+ প্যানেলের স্ক্রিন-শার্পনেস দৈনন্দিন কাজে বেশিরভাগ মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, বিশেষ করে ভিডিও আর সোশ্যাল ফিডে। বরং ১২০Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রল ও গেমিংয়ে স্পষ্ট মসৃণতা দেয়, যা HD+ এর ছোট্ট ঘাটতি ভুলিয়ে দেয়।

অফিসিয়াল মাইক্রোসাইট দাবি করে স্ক্রিনটি তীব্র রোদেও পড়া যায়, যা আউটডোর ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। প্রস্তুতকারক সর্বোচ্চ ব্রাইটনেসের নির্দিষ্ট নম্বর প্রকাশ করেনি, তাই রোদের তীব্রতার সাথে ফলাফল বদলাতে পারে বলে ধরে নেওয়া ভালো। দোকানে কিনতে গেলে খোলা আকাশের নিচে স্ক্রিনটা একবার দেখে নেওয়াই সবচেয়ে বিশ্বস্ত যাচাই।

পারফরম্যান্স — কী আশা করবেন

প্রসেসর হিসেবে আছে Unisoc T7250 চিপ, ১২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি অক্টা-কোর প্রসেসর। এতে দুটি Cortex-A75 কোর ১.৮ GHz এবং ছয়টি Cortex-A55 কোর ১.৬ GHz-এ চলে, গ্রাফিক্স সামলায় Mali-G57 MP1। ৬ জিবি র‍্যামের সাথে দৈনন্দিন অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও ব্যাংকিং অ্যাপে ফোনটি স্বাভাবিক গতি দেওয়ার কথা।

গেমিং নিয়ে সৎ কথা বলা দরকার, কারণ এই চিপ গ্রাফিক্স-ভারী গেমের জন্য তৈরি নয়। হালকা ক্যাজুয়াল গেম ঠিকঠাক চলবে, কিন্তু ভারী গেমের উচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসে ফ্রেম ড্রপ স্বাভাবিক। যাঁরা দিনে কয়েক ঘণ্টা গেম খেলেন, তাঁদের জন্য এই বাজেটে অন্য ফোন দেখা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

স্টোরেজ ১২৮ জিবি, যা ছবি, ভিডিও আর অ্যাপ রাখার জন্য যথেষ্ট, প্রয়োজনে মাইক্রোএসডি কার্ডে বাড়ানো যায়। USB Type-C পোর্ট ও OTG সাপোর্ট আছে, তাই ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা কীবোর্ড সরাসরি লাগানো যায়। সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দ্রুত আনলক করে, আর ফেস আনলকও আছে।

ক্যামেরা — ৫০ মেগাপিক্সেলের বিচার

পেছনের ক্যামেরায় আছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান লেন্স, LED ফ্ল্যাশ ও HDR মোড, ভিডিও তোলে ১০৮০p ৩০fps-এ। সেলফির জন্য সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের লেন্স, যা ভিডিও কল আর সাধারণ ছবির জন্য যথেষ্ট। অফিসিয়াল পেজে লেন্সের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত কনফিগারেশন প্রকাশ পায়নি, তাই বাস্তব ছবির মান দোকানে বা ইউটিউব রিভিউতে দেখে বিচার করা ভালো।

এই দামের ফোনে ক্যামেরা নিয়ে বড় স্বপ্ন পোষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, আর Power 80-ও তার ব্যতিক্রম নয়। ভালো আলোয় দিনের ছবি পরিষ্কার ও রঙিন আসার কথা, আর সন্ধ্যার কম আলোয় নয়েজ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। যাঁদের প্রধান কাজ ক্যামেরা, তাঁদের জন্য এই বাজেটে ক্যামেরা-কেন্দ্রিক মডেলই বেছে নেওয়া উচিত।

তবে এই ফোনের ক্রেতা সাধারণত মাঠের কাজ বা আউটডোর রেকর্ডিংয়ের জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করেন। সেই প্রয়োজনে টেকসই বডি আর টেকসই ক্যামেরার সমন্বয়ই আসলে বেশি কাজের, কারণ ভাঙা লেন্স দিয়ে কোনো ছবি তোলা যায় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে Power 80-এর ক্যামেরা তার লক্ষ্যবৃন্দকে ঠিকভাবেই পরিবেশন করে।

ব্যাটারি — ৭০০০ এমএএইচের হিসাব

ফোনটির হৃদয় ৭০০০ এমএএইচের বিশাল ব্যাটারি, যা এই বাজেটের বাংলাদেশি বাজারে সবচেয়ে বড় ধারণক্ষমতার একটা অংশ। চার্জিং সাপোর্ট ১৮W ওয়্যার্ড, সাথে রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং আছে, অর্থাৎ তার দিয়ে অন্য গ্যাজেটও শেয়ার করা যায়। প্রস্তুতকারক দাবি করে এক চার্জে প্রায় ১০ ঘণ্টা টানা শর্ট-ভিডিও দেখা যাবে, যা মাঠের দীর্ঘ দিনে প্র্যাকটিক্যাল নিশ্চয়তা দেয়।

itel Power 80 ফোনে পানির স্প্ল্যাশ, IP68 ও IP69 সুরক্ষার প্রতীকী দৃশ্য

ব্যাটারির আয়ু বাঁচাতে itel একটি সেলফ-রিপেয়ার প্রযুক্তির দাবি করেছে, যেখানে প্রতি ২০০ চার্জ সাইকেলে ব্যাটারি নিজেকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। কোম্পানির কথায় এই প্রক্রিয়া ব্যাটারির অবক্ষয় প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে, তবে এটি প্রস্তুতকারকের নিজস্ব ল্যাব দাবি। স্বাধীন পরীক্ষায় ফলাফল কেমন তা এখনো প্রকাশ হয়নি, তাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যাটারি স্বাস্থ্য নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন আগেভাগে করা যাবে না।

১৮W চার্জার দিয়ে ৭০০০ এমএএইচ পূর্ণ করতে সময় বেশি লাগবে, এটা গাণিতিকভাবেই স্পষ্ট। প্রস্তুতকারক পূর্ণ চার্জের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেনি, তাই রাতের বেলা চার্জে লাগিয়ে ঘুমানোই বাস্তবসম্মত অভ্যাস হবে। যাঁরা তাড়াহুড়োতে ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ চান, তাঁদের জন্য ৩৩W বা ৪৫W ফাস্ট চার্জিংওয়ালা বিকল্প দেখা উচিত।

মাঝারি ব্যবহারে দুই দিন সহজলভ্য, আর ভারী ব্যবহারেও এক দিন অনায়াসে পার হবে—এটাই এই ব্যাটারির আসল শক্তি। নেটওয়ার্ক দুর্বল এলাকায় ফোন বারবার সিগন্যাল খুঁজলে ব্যাটারি দ্রুত ক্ষয় পায়, যা সব ফোনেই হয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো রিজার্ভ এই ব্যাটারিতে আছে, তাই ফিল্ডওয়ার্কারদের জন্য এটি আস্থার জায়গা।

সফটওয়্যার, AI ও UltraLink

ফোনটিতে কার্যকর Android 16, উপরে itel OS 16 ইন্টারফেস, যা পরিচ্ছন্ন ও হালকা অভিজ্ঞতার দাবি রাখে। কত বছর OS আপডেট পাওয়া যাবে তা প্রস্তুতকারক অফিসিয়ালি ঘোষণা করেনি, তাই দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আগে যাচাই করা ভালো। নিরাপত্তার খোঁজ রাখতে সেটিংস থেকে সময়মতো আপডেট ইনস্টল করার অভ্যাস রাখাই নিরাপদ।

itel Power 80 ফোনের এক্সপ্লোডেড ভিউ, ভেতরের গঠন ও বিল্ড কোয়ালিটির বিবরণ

এআই ফিচার হিসেবে কল নয়েজ রিডাকশন, ডিসপ্লে ব্রাইটনেস অ্যাডাপ্টেশন আর ৪.৫G সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্টের দাবি করা হয়েছে। এগুলো পরিবেশ বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মান সমন্বয় করার কথা, যা ঝড়-বৃষ্টি বা কোলাহলপূর্ণ মাঠে কলের সময় কাজে লাগার কথা। বাস্তব কার্যকারিতা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে, তাই প্রথম সপ্তাহে সেটিংস ঘেঁটে দেখে নেওয়া ভালো।

সবচেয়ে অদ্ভুত ফিচার UltraLink, যা নেটওয়ার্ক না থাকলেও দুই ফোনের মধ্যে কল করার দাবি করে। প্রস্তুতকারকের নোট বলছে খোলা জায়গায় এটির পাল্লা সর্বোচ্চ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত তাত্ত্বিক, বাস্তবে ভবন ও বাধা এটি কমিয়ে দেবে। জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগের একটা বিকল্প হিসেবে এটি দামি, তবে এটি রেগুলার ফোনের বিকল্প নয়—এটা মনে রাখাই ভালো।

এই দামে বিকল্প কোন ফোনগুলো

১৮ হাজার টাকার কাছাকাছি realme C100i-এর মতো অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী আছে, একই ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি আর ১২০Hz স্ক্রিন নিয়ে। তবে C100i-তে IP69 ধরনের উচ্চস্তরের পানি সুরক্ষার দাবি নেই, তাই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কাজে Power 80-এর এগিয়ে থাকা স্পষ্ট। দুই ফোনের বিস্তারিত তুলনা realme C100 দামের গাইড থেকে পড়া যাবে।

Redmi 15C কিনতে চাইলে ৩৩W দ্রুত চার্জিং আর ৬.৯ ইঞ্চির বড় স্ক্রিনের সুবিধা পাবেন, যদিও ব্যাটারি ৬০০০ এমএএইচ। OPPO A6x-এর আকর্ষণ শক্তিশালী প্রসেসর আর ১১২৫ nits উজ্জ্বলতার দাবি, যা উন্মুক্ত আলোয় দেখার অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারে। আর ৪ হাজার টাকা বাড়ালে realme C100x-এ ৮০০০ এমএএইচ ব্যাটারি আর ৪৫W চার্জিং পাওয়া যায়, যা ব্যাটারি-প্রধান চাহিদার আরেক সমাধান।

নিজের প্রয়োজনটা আগে ঠিক করুন, তারপর ফোন বেছে নিন—এটাই সবচেয়ে সহজ নিয়ম। যাঁর প্রধান চিন্তা ভাঙা-চোরা, তাঁর জন্য Power 80; যাঁর প্রধান চিন্তা গতি, তাঁর জন্য A6x; যাঁর প্রধান চিন্তা চার্জের গতি, তাঁর জন্য Redmi 15C বা C100x। এক নজরে তুলনা করতে তুলনা টুল ব্যবহার করলে পাশাপাশি স্পেসিফিকেশন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

একই বাজেটে itel-এর নিজস্ব পুরোনো মডেলও তুলনায় আসতে পারে, তাই itel-এর সব অপশন দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। A100 Pro অনেক সস্তা, তবে তার ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও ৯০Hz স্ক্রিন Power 80-এর কাছে হার মানে। নতুন ফোনের দাম ঠিকঠাক থাকলে পুরোনো মডেল কেনার যুক্তিটা দুর্বলই থেকে যায়।

কোথা থেকে কিনবেন ও দাম যাচাই

অফিসিয়াল ওয়ারেন্টির ফোন কিনতে বিশ্বস্ত অথরাইজড রিটেইলার বা বড় অনলাইন স্টোর বেছে নিন, যেখানে বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড পাওয়া যায়। কেনার আগে বক্সের সিল অক্ষত কি না আর ইমিআই নম্বর বক্সের সাথে মিলছে কি না—দুটোই দেখে নেওয়া জরুরি। ওয়ারেন্টি কার্ডে অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টারের নাম ও মোহর থাকলে ভরসা আরও বাড়ে।

দামের তথ্য সবসময় তারিখসহ রাখুন, কারণ অনলাইনে একই ফোনের দাম রিটেইলারভেদে হাজার টাকা পর্যন্ত বদলায়। আমাদের দাম যাচাই পাতায় কোন উৎস থেকে কীভাবে সংখ্যা আনা হয় তার পদ্ধতি খোলাভাবে লেখা আছে। অফার দাম দেখলে কার্ড ডিসকাউন্ট বা ইএমআই শর্তও জেনে নিন, কারণ সেগুলো আসল খরচ বদলে দিতে পারে।

দাম তুলনা ও স্পেসিফিকেশন যাচাইয়ের জন্য দাম যাচাই পাতা সহ সাইটের অন্যান্য গাইডও কাজে লাগানো যায়। রিভিউ ক্যাটাগরি-তে একই বাজেটের আরও ফোনের বিশ্লেষণ আছে, আর কেনার গাইডে বাজেটভিত্তিক তালিকা পাওয়া যায়। সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা জানতে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সমস্যা- নিয়ে আলোচনাটাও একবার পড়ে দেখতে পারেন।

সততার নোট — যা বাদ রাখা হলো

KoyTaka ক্যাটালগে এই মুহূর্তে Power 80-এর আলাদা প্রোডাক্ট রেকর্ড নেই, তাই এই গাইডের সব তথ্য অফিসিয়াল ও রিটেইলার সূত্র থেকে সরাসরি যাচাই করা। MIL-STD-810H দাবিটি নির্বাচিত টেস্ট পাসের, অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ ক্ষতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা নয়—প্রস্তুতকারকও তা স্বীকার করে। IP68/IP69 রেটিং ল্যাব পরীক্ষার শর্তসাপেক্ষ, তাই দৈনন্দিন দুর্ঘটনায় সুরক্ষা মানুন, ইচ্ছাকৃত ডুবো পরীক্ষার গ্যারান্টি নয়।

ব্যাটারির স্থায়িত্ব, চার্জের সময় আর এআই ফিচারের কার্যকারিতা আমরা নিজেরা ল্যাব-টেস্ট করিনি, তাই কোম্পানির দাবিগুলো দাবি হিসেবেই উদ্ধৃত হয়েছে। UltraLink-এর ২ কিলোমিটার পাল্লা প্রস্তুতকারকের তাত্ত্বিক হিসাব, বাস্তব পরিবেশে তা কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ভবিষ্যতে ক্যাটালগে রেকর্ড যোগ হলে বা অফিসিয়াল দাম বদলালে এই গাইডের দামের অংশ হালনাগাদ করা হবে।

চূড়ান্ত রায় — কে কিনবেন

যাঁরা ফোনকে যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন—মাঠ, সাইট, রাস্তা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জায়গায়—তাঁদের জন্য Power 80 এই বাজেটে দুর্দান্ত মানানসই। ক্যাজ ফ্রেম, IP68/IP69 আর ৭০০০ এমএএইচের সমন্বয় ১৮,৪৯০ টাকায় সত্যিই বিরল, বিশেষ করে যারা বারবার ফোন ভাঙেন। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ ১৭,৯৯০ টাকায় পেলে তো দাম-প্রতি-মানের হিসাবটা আরও শক্ত হয়।

যাঁরা ভারী গেম খেলেন, সেরা ক্যামেরা চান বা দীর্ঘমেয়াদি আপডেটের নিশ্চয়তা চান, তাঁদের জন্য এটি সেরা পছন্দ নয়। HD+ স্ক্রিন, ১৮W চার্জিং আর অনিশ্চিত আপডেট পলিসি—এই তিনটি সীমাবদ্ধতা সচেতনভাবে মেনে নিতে হবে। মেনে নিতে পারলে এই ফোন দুই বছর নিশ্চিন্তে চলবে, আর না পারলে বিকল্প তালিকা থেকে সিদ্ধান্ত নিন।

সংক্ষেপে, Power 80 কোনো অলরাউন্ডার নয়, বরং একটা নির্দিষ্ট সমস্যার পরিষ্কার সমাধান। টেকসই বিল্ট আর বিশাল ব্যাটারিই এর মূল পণ্য, বাকি সব সেটিকে সাপোর্ট করার জন্য। আপনার কাজের পরিবেশ যদি ফোনের সাথে নির্দয় হয়, তাহলে এই ১৮ হাজার টাকা আসলেই বুদ্ধিমানের বিনিয়োগ।

itel Power 80 কি সত্যিই পানিতে নষ্ট হবে না?

অফিসিয়াল রেটিং বলছে IP68 ও IP69, অর্থাৎ ল্যাব শর্তে নির্দিষ্ট গভীরতা ও উচ্চচাপের পানি এটি সহ্য করতে পারে। তবে এই রেটিং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফল, পুরনো বা ধাক্কা লেগে যাওয়া ফোনে একই সুরক্ষা বজায় থাকার নিশ্চয়তা নেই। বৃষ্টি, ছিটকে পড়া বা হঠাৎ ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনায় ফোনটি বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি।

১৮ হাজার টাকায় Power 80 না realme C100i, কোনটা নেব?

দুই ফোনেই ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি আর ১২০Hz স্ক্রিন, তাই মূল পার্থক্য সুরক্ষার স্তরে। Power 80-তে IP68/IP69 ও ক্যাজ ফ্রেম আছে, C100i-তে সেই ধরনের আনুষ্ঠানিক রগ্ড রেটিংয়ের দাবি নেই। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করলে Power 80, আর সাধারণ ব্যবহারে দাম-সমান বিকল্প চাইলে C100i দেখতে পারেন।

১৮W চার্জারে ৭০০০ এমএএইচ কত সময়ে চার্জ হয়?

প্রস্তুতকারক পূর্ণ চার্জের নির্দিষ্ট সময় অফিসিয়ালি জানানি, তাই কোনো সুনির্দিষ্ট ঘণ্টা বলে দেওয়া যাবে না। ১৮W চার্জিং আর ৭০০০ এমএএইচের হিসেবে বিবেচনা করলে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাওয়ার সম্ভাবনাই প্রকৃত। রাতে ঘুমানোর আগে চার্জে লাগিয়ে রাখাই এই ফোনের সবচেয়ে বাস্তব চার্জিং অভ্যাস।

UltraLink দিয়ে নেটওয়ার্ক ছাড়া কল করা যাবে কি?

হ্যাঁ, UltraLink ফিচারটি সেলুলার নেটওয়ার্ক ছাড়াই UltraLink-সক্ষম আরেকটি ফোনের সাথে কলের দাবি করে। প্রস্তুতকারকের মতে খোলা জায়গায় পাল্লা সর্বোচ্চ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত, তবে এটি তাত্ত্বিক সীমা মাত্র। দেয়াল, ভবন বা জঙ্গলের ঘনত্ব বাস্তবে পাল্লা উল্লেখযোগ্য কমিয়ে দেবে, তাই এটি জরুরি যোগাযোগের বিকল্প, নিয়মিত ফোনের নয়।

Power 80-এ হালকা গেমিং ঠিকঠাক চলবে কি?

Unisoc T7250 চিপ ক্যাজুয়াল গেমের জন্য যথেষ্ট, সাধারণ পাজল বা কার্ড গেম মসৃণই চলবে। PUBG-ধরনের ভারী গেম নিম্ন গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলা যাবে, কিন্তু মসৃণ অভিজ্ঞতার আশা করা ঠিক নয়। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা গেম আপনার প্রধান কাজ হলে এই বাজেটে গেমিং-কেন্দ্রিক অন্য মডেল দেখাই ভালো।

More from KoyTaka

View all