OPPO A6x দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও রিভিউ

৬৫০০mAh ব্যাটারি আর ১২০Hz ডিসপ্লে-সহ OPPO A6x-এর অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে কত, তা নিয়ে দোকান আর অনলাইনে গল্পের কমতি নেই। অনেক জায়গায় পুরোনো লঞ্চ-অফারের দাম এখনো লেখা থাকে, কিন্তু বর্তমান অফিসিয়াল দাম সেই হিসাব থেকে অনেক দূরে। ২০ আগস্ট ২০২৬-এ OPPO বাংলাদেশের অফিসিয়াল ই-স্টোর ও স্টার টেকের দাম মিলিয়ে এই গাইডে A6x-এর প্রকৃত দাম, স্পেসিফিকেশন আর সীমাবদ্ধতা যাচাই করে দেখানো হলো।
সংক্ষেপে বললে, OPPO A6x ৪/৬৪GB ভ্যারিয়েন্টে অফিসিয়ালি ১৯,৯৯৯ টাকা আর ৪/১২৮GB-তে ২১,৯৯৯ টাকা। এই দামে স্ন্যাপড্রাগন ৬৮৫, ৬.৭৫ ইঞ্চির উজ্জ্বল LCD আর দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ পাওয়ায় ফোনটি বাজেট সেগমেন্টে আলাদা জায়গা দখল করে। তবে NFC নেই, ফাস্ট চার্জিং নেই — সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই গুলোও জানা দরকার।
OPPO A6x দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন ও রিভিউ
OPPO A6x (মডেল CPH2819) ২০২৫ সালের শেষদিকে বাংলাদেশের বাজারে আসে এবং এখনো অফিসিয়াল ই-স্টোরে ইন স্টক। ফোনটির মূল আকর্ষণ তিনটি — ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের বড় ডিসপ্লে, ৬৫০০mAh ব্যাটারি আর Snapdragon 685 প্রসেসর। নিচের টেবিলে অফিসিয়াল দামের সঙ্গে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনা দেওয়া হলো।
| মডেল | অফিসিয়াল দাম | ডিসপ্লে | চিপসেট | ব্যাটারি | ক্যামেরা |
|---|---|---|---|---|---|
| OPPO A6x 4/64GB | ৳ 19,999 | 6.75″ HD+ LCD, 120Hz | Snapdragon 685 | 6500mAh, 15W | 13MP + 5MP |
| OPPO A6x 4/128GB | ৳ 21,999 | 6.75″ HD+ LCD, 120Hz | Snapdragon 685 | 6500mAh, 15W | 13MP + 5MP |
| OPPO A6c 4/64GB | ৳ 18,999 | 6.75″ HD+ LCD, 120Hz | Unisoc T7250 | 7000mAh, 15W | 13MP + 5MP |
| OPPO A6k 4/64GB | ৳ 23,999 | 6.75″ HD+ LCD, 120Hz | Snapdragon 685 | 6500mAh, 15W | 50MP + 5MP |
| Vivo Y05 4/64GB | ৳ 17,999 | 6.74″ IPS LCD, 120Hz | Unisoc T7225 | 6500mAh, 15W | 8MP + 5MP |
অফিসিয়াল ই-স্টোরে ৪/৬৪GB ভ্যারিয়েন্টের দাম ১৯,৯৯৯ টাকা, যা ক্যাটালগের তালিকাভুক্ত দামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। স্টার টেকেও একই মডেল ১৯,৯৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর এমআরপি ডট কম ১৮,৯৯৯ থেকে ২০,৯৯৯ টাকার মধ্যে দেখাচ্ছে। তাই দোকানে গেলে ১৮,৯৯৯ থেকে ১৯,৯৯৯ টাকার মধ্যে দরদাম করাই বাস্তবসম্মত।
লঞ্চের সময় সীমিত সময়ের জন্য কম দামে অফার ছিল, কিন্তু সেই প্রমোশন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে যে দামে ফোনটি মিলছে, সেই দামেই A6x-কে মূল্যায়ন করা উচিত — পুরোনো অফারের হিসাবে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। দামের বিস্তারিত হিসাব এই গাইডের শেষে দামের সৎ হিসাব অংশে আছে।
ডিসপ্লে: ১২০Hz LCD এই দামে কেমন
A6x-এ আছে ৬.৭৫ ইঞ্চির HD+ (৭২০×১৫৭০) LCD প্যানেল, যার রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১২০Hz। স্বাভাবিক অবস্থায় ৮০০ নিট আর HBM মোডে ১১২৫ নিট পর্যন্ত ব্রাইটনেস দেয় — রোদে পড়ার জন্য যথেষ্ট উজ্জ্বল। টাচ স্যাম্পলিং রেট ২৪০Hz পর্যন্ত, তাই স্ক্রলিং আর গেমে সাড়া দ্রুত লাগে।
২৫৬ppi পিক্সেল ডেনসিটিতে HD+ রেজোলিউশন টেক্সট পড়ার জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার, তবে খুব কাছ থেকে দেখলে পিক্সেল চেনা যায়। এই দামে AMOLED আশা করা ঠিক হবে না; A6x-এর LCD কালো রঙে AMOLED-এর গভীরতা দিতে পারে না। তবে ভিভিড মোডে ৮৫% DCI-P3 কভারেজ থাকায় রংগুলো জীবন্ত আর চোখে আরামদায়ক।
ভিডিও দেখা আর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং-এর জন্য ডিসপ্লেটি দারুণ, বিশেষ করে ১২০Hz-এর মসৃণতা এই দামে বিরল। রাতে ব্যবহারের সময় ন্যূনতম ব্রাইটনেসও যথেষ্ট কম, চোখে চাপ পড়ে না। ডিসপ্লে প্রযুক্তি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে AMOLED বনাম IPS LCD গাইডটি পড়তে পারেন।
১২০Hz সব সময় চালু রাখলে ব্যাটারি একটু বেশি খরচ হয়; চাইলে সেটিংস থেকে ৬০Hz-এ নামিয়ে আনা যায়। বattery saver মোডে রিফ্রেশ রেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়, ফলে জরুরি সময়ে ব্যাটারি টেকে বেশি। স্বাভাবিক স্ক্রলিং আর ভিডিও দেখার জন্য ১২০Hz-ই সেরা, আর পাঠ্য পড়ার জন্য ৬০Hz যথেষ্ট।
পারফরম্যান্স: Snapdragon 685 কতটা দ্রুত
Snapdragon 685 (৬nm) চিপসেটে ২.৮GHz পর্যন্ত ক্লক করা ৮-কোর Kryo CPU আর Adreno 610 GPU আছে। দৈনন্দিন কাজে — মেসেজিং, ইউটিউব, ফেসবুক, ব্যাংকিং অ্যাপ — কোনো ধরনের ঝাঁকুনি ছাড়াই চলে। ColorOS 15-এর সঙ্গে Android 15 মিলে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা মসৃণ থাকে।
৪GB LPDDR4X র্যাম বেস ভ্যারিয়েন্টে আছে, যা একসঙ্গে ৮–১০টি সাধারণ অ্যাপ চালাতে যথেষ্ট। হেভি মাল্টিটাস্কিং বা ৬–৭টি অ্যাপের মধ্যে বারবার সুইচ করলে র্যামের ঘাটতি টের পাওয়া যায়। ৬৪GB UFS 2.2 স্টোরেজের পাশাপাশি microSD কার্ড স্লট আছে, তাই স্টোরেজ বাড়ানো সহজ।
হালকা গেমিং — ক্যান্ডি ক্রাশ, লুডু, ফ্রি ফায়ার নরমাল সেটিংয়ে — ঠিকঠাক চলে। হেভি গেমে গ্রাফিক্স কমিয়ে খেলতে হবে; PUBG-তে স্মুথ+মিডিয়াম সেটিংয়ে ৩০–৪০fps পাওয়া সম্ভব। গেমিং ফোন খুঁজলে এই দামের বাজেটে ২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন গাইডটি দেখে নেওয়া ভালো।
ব্যাটারি: ৬৫০০mAh কতক্ষণ চলে
৬৫০০mAh (টাইপিক্যাল) ব্যাটারি এই ফোনের সবচেয়ে বড় শক্তি — মাঝারি ব্যবহারে সহজেই দুই দিন চলে। ভিডিও স্ট্রিমিং, কল আর মেসেজিং মিলিয়ে দিনে ৬–৭ ঘণ্টা স্ক্রিন-অন-টাইম পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বড় ব্যাটারির কারণে ফোনটি ২১০ গ্রাম ওজনের, যা হাতে একটু ভারী লাগতে পারে।
চার্জিং ১৫W ওয়্যার্ড — SUPERVOOC ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট নেই। ফুল চার্জ হতে প্রায় ২.৫–৩ ঘণ্টা সময় লাগে, যা আজকের মানদণ্ডে ধীর। রাতে চার্জে দিয়ে ঘুমালে সকালে পুরো চার্জ পাওয়া যায়, এটাই এই ফোনের ব্যবহারের ধরণ।
উল্টো দিকে ৫W রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং আছে — জরুরি প্রয়োজনে অন্য ফোন বা ইয়ারবাড চার্জ করা যায়। ব্যাটারি সেভিং মোড চালু করলে দুই দিনের বেশি টিকেও যায়। এত বড় ব্যাটারি এই দামে আর কোনো প্রতিযোগীর মধ্যে নেই বললেই চলে।
চার্জিং ধীর হওয়ায় অভ্যাস গড়ে নেওয়া ভালো — রাতে চার্জে দিয়ে সকালে নামিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে আরামদায়ক। ৮০% পর্যন্ত চার্জ করে ব্যবহার করলে লিথিয়াম ব্যাটারির স্বাস্থ্য দীর্ঘদিন ভালো থাকে। কম দামি চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারে চার্জিং আরও ধীর হতে পারে, তাই আসল ১৫W চার্জারই ব্যবহার করুন।
ক্যামেরা: ১৩MP দিয়ে কী পাওয়া যায়
পেছনে ১৩MP f/2.2 অটোফোকাস ক্যামেরা আর QVGA মনোক্রোম সেন্সর — সেকেন্ডটি শুধু ডেপথ কাজে লাগে। দিনের আলোয় ছবি পরিষ্কার আর রং প্রাকৃতিক, তবে ২x ডিজিটাল জুমের পর ডিটেইল কমে যায়। নাইট মোড থাকলেও কম আলোতে শব্দ (নয়েজ) চোখে পড়ে — এই সেগমেন্টে এটাই স্বাভাবিক।
সামনে ৫MP f/2.2 ক্যামেরা সেলফি আর ভিডিও কলের জন্য যথেষ্ট। স্ক্রিন ফিল লাইট থাকায় অন্ধকার ঘরেও সেলফি একটু উজ্জ্বল আসে। ভিডিও রেকর্ডিং ১০৮০p@৩০fps পর্যন্ত — দৈনন্দিন রেকর্ডিংয়ের জন্য ঠিক আছে।
ক্যামেরা অ্যাপে পোর্ট্রেট, নাইট, প্যানোরামা, টাইম-ল্যাপস, প্রো মোডসহ প্রয়োজনীয় সব অপশন আছে। Google Lens ইন্টিগ্রেটেড থাকায় টেক্সট স্ক্যান আর কিউআর কোড পড়া দ্রুত। ছবিকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিলে A6x-এর বদলে ৫০MP ক্যামেরার OPPO A6k বিবেচনা করতে পারেন।
ColorOS 15-এ দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা
Android 15-এর ওপর ColorOS 15 ইন্টারফেসটি পরিষ্কার, দ্রুত আর কাস্টমাইজেশনের সুযোগ অনেক। হোম স্ক্রিন, কন্ট্রোল সেন্টার আর সেটিংসের বিন্যাস OPPO ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত লাগবে। ডার্ক মোড, অ্যাপ ড্রয়ার, সাইডবার আর ফ্লেক্সড্রপ — সব ফিচারই আগের মতো আছে।
সফটওয়্যার আপডেট নিয়ে OPPO-র প্রতিশ্রুতি এই সেগমেন্টে মোটামুটি — নিয়মিত সিকিউরিটি প্যাচ মেলে। কিছু আগে থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ (ব্লোটওয়্যার) থাকে, তবে সেগুলো আনইনস্টল করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে Android-এর বড় ভার্সন আপডেট কতগুলো আসবে, তা নিশ্চিত নয় — কেনার আগে জেনে রাখা ভালো।
RAM এক্সপানশন ফিচারে স্টোরেজ থেকে ভার্চুয়াল র্যাম বরাদ্দ করা যায়, যা মাল্টিটাস্কিং একটু মসৃণ করে। গোপনীয়তার জন্য অ্যাপ লক, প্রাইভেট স্পেস আর পারমিশন নিয়ন্ত্রণের সুবিধা আছে। সামগ্রিকভাবে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা এই দামের ফোনের জন্য পরিপক্ক ও ঝামেলামুক্ত।
স্টোরেজ আর র্যাম ব্যবস্থাপনা
বেস ভ্যারিয়েন্টে ৬৪GB UFS 2.2 স্টোরেজ, যার থেকে সিস্টেম ব্যবহারের পর ব্যবহারকারীর হাতে থাকে প্রায় ৪৫GB। ফটো, ভিডিও আর অ্যাপের জন্য ৪৫GB দ্রুত ভরে যায়, তাই microSD স্লট থাকা বড় সুবিধা। মেমোরি কার্ড সাপোর্ট থাকায় স্টোরেশন বাড়ানো সহজ, ফলে জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তা কম।
৪GB র্যামে ৮–১০টি সাধারণ অ্যাপ একসঙ্গে খোলা রাখা যায়, তবে গেম বা ক্যামেরা চালু রাখলে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যারা একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালান, তারা ৪/১২৮GB ভ্যারিয়েন্ট বেছে নিতে পারেন — দাম ২,০০০ টাকা বেশি। দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে ১২৮GB ভ্যারিয়েন্টই বেশি টেকসই সিদ্ধান্ত।
UFS 2.2 স্টোরেজ অ্যাপ খোলা আর ফাইল কপিতে দ্রুত, পুরোনো eMMC-র মতো ধীর নয়। প্রতিদিনের ব্যবহারে স্টোরেজের গতি টের পাওয়া যায়, বিশেষ করে ক্যামেরা আর গেম লোডিংয়ে। স্টোরেজ ফুরিয়ে গেলে পারফরম্যান্স কমে যায়, তাই মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় ফাইল পরিষ্কার করা ভালো অভ্যাস।
A6x বনাম A6c, A6k ও Vivo Y05 — কোনটা নেবেন
OPPO A6c (৪/৬৪GB) অফিসিয়াল দাম ১৮,৯৯৯ টাকা — A6x-এর থেকে ১,০০০ টাকা সস্তা কিন্তু ব্যাটারি ৭০০০mAh। তবে A6c-তে Unisoc T7250 চিপসেট, যা Snapdragon 685-এর থেকে পারফরম্যান্সে পিছিয়ে। ব্যাটারিই যদি একমাত্র অগ্রাধিকার হয়, A6c বিবেচনার যোগ্য; নইলে A6x-ই ভালো বিনিয়োগ।
OPPO A6k (৪/৬৪GB) ২৩,৯৯৯ টাকায় একই Snapdragon 685 আর ৬৫০০mAh ব্যাটারি নিয়ে আসে, কিন্তু ক্যামেরা ৫০MP। ছবিকে প্রাধান্য দিলে ৪,০০০ টাকা বেশি খরচ করে A6k নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। A6k-এর পূর্ণ বিবরণের জন্য OPPO A6k-এর প্রোডাক্ট পেজটি দেখুন।
Vivo Y05 (৪/৬৪GB) ১৭,৯৯৯ টাকায় A6x-এর চেয়ে ২,০০০ টাকা সস্তা, সঙ্গে একই ৬৫০০mAh ব্যাটারি। কিন্তু Y05-এ Unisoc T7225 চিপসেট আর ৮MP ক্যামেরা — দুদিকেই A6x-এর থেকে দুর্বল। বাজেট একটু বাড়ানো সম্ভব হলে A6x-এর Snapdragon 685 আর ১৩MP ক্যামেরা দীর্ঘমেয়াদে ভালো সিদ্ধান্ত।
আপগ্রেড পথ হিসেবে OPPO A6 (২৮,৯৯৯ টাকা) বা OPPO A6s Pro (৩৯,৯৯০ টাকা) দেখতে পারেন। সব মিলিয়ে A6x এই গ্রুপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ফোন — ব্যাটারি, ডিসপ্লে আর পারফরম্যান্স তিনটাই মোটামুটি। ৫G দরকার হলে A6x-এর বদলে ২৫,০০০ টাকার নিচে সেরা ৫G ফোন তালিকাটি দেখুন।
ডিজাইন, বিল্ড আর কানেক্টিভিটি
১৬৬.৬১ × ৭৮.৫১ × ৮.৬১mm মাপ আর ২১০ গ্রাম ওজনের শরীরে প্লাস্টিক ফ্রেম আর ব্যাক প্যানেল। IP64 রেটিং মানে ধুলো-নিরোধক আর হালকা পানির ছিটা থেকে সুরক্ষা — ভিজে হাতে ধরলেই সমস্যা নেই, তবে পানিতে ডোবানো চলবে না। আইস ব্লু আর প্লাম পার্পল — দুই রঙে পাওয়া যায়, দুটোই দেখতে ম্যাট ফিনিশের।
পাশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, সঙ্গে ফেস আনলক — দুটোই দ্রুত কাজ করে। ডুয়াল ন্যানো-সিম সাপোর্ট, Wi-Fi 5, ব্লুটুথ 5.0, USB Type-C (OTG) আর ৩.৫mm হেডফোন জ্যাক আছে। কিন্তু NFC নেই — কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট বা ট্যাপ-টু-পেয়ার কাজ করবে না।
স্পিকার একক ইউনিটের, জোরে বাজে কিন্তু বেস কম। ৩.৫mm জ্যাক থাকায় পুরোনো হেডফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি খরচ নেই। সামগ্রিকভাবে বিল্ড কোয়ালিটি এই দামের ফোনের জন্য দৃঢ় আর হ্যান্ডলিং আরামদায়ক।
বাংলাদেশে কোথায় কিনবেন
সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা OPPO বাংলাদেশের অফিসিয়াল ই-স্টোর — সেখানে ৪/৬৪GB ১৯,৯৯৯ টাকা আর ৪/১২৮GB ২১,৯৯৯ টাকা। স্টার টেক, পিকাবু কিংবা ডারাজের অফিসিয়াল স্টোরেও অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ ফোন পাওয়া যায়। অনলাইন আর অফলাইন দোকানের দামের পার্থক্য নিয়ে মোবাইল অনলাইন নাকি অফলাইন গাইডটি পড়ে নিতে পারেন।
কেনার আগে বক্স খুলে IMEI আর সিল মিলিয়ে নিন, আর ভ্যাট সার্টিফিকেট (মাসিক ভ্যাট) চেয়ে নিন। অফিসিয়াল চ্যানেলের ফোনে সাধারণত ১ বছরের ওয়ারেন্টি মেলে; ইমপোর্টেড বা প্যারালাল ইউনিটে ওয়ারেন্টি থাকে না। ওয়ারেন্টি কার্ডে দোকানের সিল আর তারিখ থাকা আবশ্যক — তা ছাড়া দাবি করায় ঝামেলা হতে পারে।
অনলাইনে কেনার সময় বিক্রেতার রিভিউ আর রিটার্ন পলিসি দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ফোন হাতে পেয়ে ৭ দিনের মধ্যে ডিসপ্লে, ক্যামেরা, স্পিকার আর চার্জিং ঠিকমতো কাজ করছে কি না, পরীক্ষা করে নিন। আমাদের দাম-সংক্রান্ত নীতিমালা কীভাবে দাম যাচাই করা হয় পেজে বিস্তারিত লেখা আছে।
কী নেই A6x-এ: সৎ সীমাবদ্ধতা
NFC নেই, ফাস্ট চার্জিং নেই, আর রেজোলিউশন HD+ — এই তিনটি অভাবকে চোখ বন্ধ করে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। ৪GB র্যাম ভারী গেমার বা প্রো ইউজারের জন্য যথেষ্ট নয়, আর ১২০Hz সত্ত্বেও LCD-এর কালার AMOLED-এর মতো নয়। যারা এই ফিচারগুলোকে অগ্রাধিকার দেন, তাদের জন্য A6x সঠিক ফোন নয়।
লঞ্চ-পরবর্তী দাম বৃদ্ধিও একটি বিষয় — ২০২৫ সালের নভেম্বরের লঞ্চ অফারে ১৩,৯৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ডলার-দর আর শুল্কের কারণে পরে অফিসিয়াল দাম বেড়ে বর্তমান স্তরে দাঁড়িয়েছে। তাই পুরোনো দামের স্ক্রিনশট দেখে দোকানে গিয়ে হতাশ না হওয়াই ভালো।
ক্যাটালগে এই ফোনের ৪/৬৪GB দাম ১৯,৯৯৯ টাকা তালিকাভুক্ত, যা অফিসিয়াল ই-স্টোরের সঙ্গে হুবহু মিলেছে। বাজারের কিছু দোকান ১৮,৯৯৯ টাকায় বিক্রি করলেও ওয়ারেন্টি কাগজপত্র যাচাই করে তবেই কেনা উচিত। সব মিলিয়ে A6x-এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট জানা থাকলে ফোনটি হতাশ করবে না।
কার জন্য OPPO A6x, কার জন্য নয়
যারা সবচেয়ে বেশি মূল্য দেন ব্যাটারি লাইফ আর ডিসপ্লের মসৃণতাকে, A6x তাদের জন্য আদর্শ পছন্দ। প্রতিদিনের কল, মেসেজিং, ভিডিও আর সামান্য গেমিং — এই ব্যবহারের জন্য ১৯,৯৯৯ টাকা সম্পূর্ণ ন্যায্য। রিচার্জের চিন্তা ছাড়া দুই দিন চলা ফোন এই দামে বিরল।
অন্যদিকে যারা হেভি গেমিং, ৫G কানেক্টিভিটি বা উঁচু রেজোলিউশনের AMOLED চান, তারা অন্য মডেল দেখুন। একই বাজেটে realme C75 বা Galaxy M17 5G-এর মতো বিকল্পও আছে, তবে ব্যাটারিতে A6x-এর কাছাকাছি কেউ নেই। প্রয়োজনের তালিকা আগে লিখে নিন, তারপর সিদ্ধান্ত নিলে A6x সঠিক কি না বোঝা যাবে।
OPPO A6x-এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও বর্তমান দামের জন্য প্রোডাক্ট পেজটি দেখুন। আরও রিভিউ পড়তে সব রিভিউ বিভাগে চলে যান। বাজেট ফোনের সামগ্রিক ছবির জন্য ২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা ফোন গাইডটিও কাজে লাগবে।
OPPO A6x নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
OPPO A6x-এ কি 5G সাপোর্ট আছে?
না, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া OPPO A6x (CPH2819) একটি 4G LTE ফোন। GSM, HSPA আর LTE ব্যান্ডগুলো সাপোর্ট করে; 5G নেটওয়ার্কে চলবে না। 5G দরকার হলে A6x 5G নামে আলাদা মডেল বাজারে আছে, তবে সেটির দাম-স্পেক আলাদা।
OPPO A6x দিয়ে ভারী গেম খেলা যায় কি?
Snapdragon 685-এ হালকা ও মাঝারি গেম ভালো চলে, কিন্তু ভারী গেমে গ্রাফিক্স কমাতে হবে। PUBG-তে স্মুথ সেটিংয়ে ৩০–৪০fps আশা করা যায়, আর ১২০Hz ডিসপ্লে স্ক্রলিং মসৃণ রাখে। ডেডিকেটেড গেমিং ফোন খুঁজলে বাজেট বাড়িয়ে গেমিং ফোন বিভাগ দেখুন।
OPPO A6x-এ NFC বা ওয়্যারলেস চার্জিং আছে কি?
না, দুটোই নেই — NFC আনসাপোর্টেড আর চার্জিং শুধু ১৫W ওয়্যার্ড। কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট বা ওয়্যারলেস চার্জারের সুবিধা পাবেন না। কেনার আগে এই দুটি ফিচার প্রয়োজন কি না, যাচাই করে নেওয়া ভালো।
OPPO A6x-এর রংয়ের অপশন কী কী?
বাংলাদেশে A6x আইস ব্লু আর প্লাম পার্পল — দুই রঙে পাওয়া যায়। দুটি রঙেই ম্যাট ফিনিশ, আঙুলের ছাপ তেমন ধরে না। কোন রঙ স্টকে আছে তা অফিসিয়াল ই-স্টোর বা দোকানে দেখে নিন।
OPPO A6x-এর চার্জিং কত ওয়াটের?
A6x-এ ১৫W ওয়্যার্ড চার্জিং, SUPERVOOC ফাস্ট চার্জিং নেই। ৬৫০০mAh ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে প্রায় ২.৫–৩ ঘণ্টা লাগে। রাতের বেলা চার্জে দিয়ে ব্যবহার করলে এই গতিই যথেষ্ট।


