Samsung Galaxy A57 5G দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন

Samsung Galaxy A57 5G দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন
Galaxy A57 5G-এর অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে এখন ৭১,৯৯৯ টাকা, অথচ মে মাসে লঞ্চের সময় ছিল ৭৯,৯৯৯ টাকা। বাজার ঘুরে দেখলে ৮/২৫৬জিবি ভেরিয়েন্ট ৫৫,৪৯৯ টাকাতেও মিলছে, তাই ফোনটি কত টাকায় কিনবেন তার হিসাব দোকানভেদে বদলায়। এই গাইডে অফিসিয়াল, বাজার ও আমদানি — তিন ধরনের দামের হিসাব, পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর কার জন্য ফোনটি সত্যিই লাভজনক তার সৎ মূল্যায়ন দেওয়া হলো।
প্রথমে একটা কথা পরিষ্কার করা জরুরি — A57 5G আগের A56 5G-এর আপগ্রেডেড সংস্করণ, কিন্তু বাংলাদেশে এটির দাম শুরু হয়েছিল অনেক উপরে। তিন মাসের ব্যবধানে বাজারদাম অফিসিয়াল দামের চেয়ে ১৬ হাজার টাকার বেশি নিচে নেমে এসেছে, যা এই সেগমেন্টে অস্বাভাবিক ঘটনা। নিচের টেবিলে A57 5G-এর দুটি ভেরিয়েন্টের পাশাপাশি আগের প্রজন্মের A56 5G ও সাশ্রয়ী A36 5G-এর দাম ও স্পেসিফিকেশন এক নজরে রাখা হলো।
| মডেল | অফিসিয়াল দাম | বাজারদাম | ডিসপ্লে | চিপসেট | ক্যামেরা | ব্যাটারি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| Samsung Galaxy A57 5G (8+256GB) | ৳ 71,999 | ৳ 55,499–57,499 | 6.7″ Super AMOLED, 120Hz | Exynos 1680 | 50MP OIS + 12MP | 5000mAh, 45W |
| Samsung Galaxy A57 5G (12+256GB) | ৳ 77,999 | — | 6.7″ Super AMOLED, 120Hz | Exynos 1680 | 50MP OIS + 12MP | 5000mAh, 45W |
| Samsung Galaxy A56 5G (8+256GB) | ৳ 55,999 | ৳ 55,499–62,699 | 6.7″ Super AMOLED, 120Hz | Exynos 1580 | 50MP OIS + 12MP | 5000mAh, 45W |
| Samsung Galaxy A36 5G (8+128GB) | ৳ 46,499 | ৳ 46,499 | 6.7″ Super AMOLED, 120Hz | Snapdragon 6 Gen 3 | 50MP OIS + 8MP | 5000mAh, 45W |
টেবিলের অফিসিয়াল দাম Star Tech ও MobileDokan-এর বর্তমান তালিকা থেকে নেওয়া, আর বাজারদাম ১৯টি দোকানের লাইভ অফার ঘেঁটে তৈরি। ৮/৫১২জিবি ভেরিয়েন্টের বাজারদাম ৫৭,৪৯৯ টাকা, তবে অফিসিয়াল চ্যানেলে সেটির তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি। অফিসিয়াল আর বাজারদামের এই ফারাক কেন হচ্ছে, সেটি নিচের দাম নিয়ে অংশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ডিজাইন: ৬.৯ মিমি পাতলা, মাত্র ১৭৯ গ্রাম
Galaxy A57 5G-এর বডি এবার আরও চিকন — ৬.৯ মিলিমিটার পুরু আর মাত্র ১৭৯ গ্রাম, যা A56 5G-এর চেয়ে ১৯ গ্রাম হালকা। ফ্রেমটি ফ্ল্যাট, আর সামনে ও পেছনে Corning Gorilla Glass Victus+ গ্লাসের সুরক্ষা আছে। রঙের নামগুলোও নতুন — Awesome Gray, Navy, Icyblue আর Lilac, যেখানে A56 5G-এর Graphite, Olive, Pink রাখা হয়নি।
সবচেয়ে বড় আপগ্রেডগুলোর একটি হলো IP68 রেটিং, যা ১.৫ মিটার পর্যন্ত ৩০ মিনিট পানিতে ডুবলেও টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। A56 5G-তে ছিল IP67 — অর্থাৎ হালকা পানির ছিটা বা বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা, কিন্তু ইচ্ছাকৃত ডোবানো নয়। ওয়ারেন্টির শর্তে পানির ক্ষতি সাধারণত ঢাকা পড়ে না, তাই IP68-কে সাঁতার কাটার অনুমতি ভাবলে ভুল হবে।
ডিসপ্লে: ১২০Hz AMOLED, ১৯০০ নিট পিক
এখানে ডিসপ্লে A56 5G-এর মতোই — ৬.৭ ইঞ্চির Super AMOLED প্যানেল, ১০৮০×২৩৪০ রেজোলিউশন আর ১২০Hz রিফ্রেশ রেট। উজ্জ্বলতা ১২০০ নিট (HBM) এবং পিক ১৯০০ নিট পর্যন্ত যায়, তাই সরাসরি রোদে পড়লেও স্ক্রিনের লেখা পরিষ্কার বোঝা যায়। গরিলা গ্লাস Victus+ সুরক্ষা মানে মাঝারি মানের পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা ভালো।
১২০Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং আর অ্যানিমেশনকে মসৃণ করে, আর এই প্যানেলে HDR10+ সাপোর্টও আছে। সস্তার ফোনে যে IPS LCD প্যানেল দেখা যায়, তার চেয়ে AMOLED-এর কালো রং অনেক গভীর আর ব্যাটারিও কম খরচ হয়। ডিসপ্লের এই পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত জানতে AMOLED বনাম IPS LCD গাইড পড়ে নিতে পারেন।
১২০০ নিটের HBM উজ্জ্বলতায় রোদে ফোন ব্যবহার করা যায়, আর রাতে অটো ব্রাইটনেস চোখের ক্লান্তি কমায়। ১০৮০×২৩৪০ রেজোলিউশনে টেক্সট আর ছবি ধারালো লাগে, যদিও এটি ১.৫K বা ২K প্যানেলের মতো নয়। বাজেট AMOLED ফোনের সাথে তুলনা করলে কালার রিপ্রোডাকশন আর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল স্পষ্টতই ভালো।
Exynos 1680: কতটা শক্তিশালী
পারফরম্যান্সের মূল চালিকা Exynos 1680 চিপসেট, যা ৪ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি। এর CPU-তে আছে ২.৯GHz পর্যন্ত ক্লক করা Cortex-720 কোর আর GPU হলো Xclipse 550 — গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জুটি। AI কাজের জন্য NPU-এর ক্ষমতা ১৯.৬ TOPS, যা আগের Exynos 1580-এর ১৪.৭ TOPS-এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
PUBG ও COD-এর মতো জনপ্রিয় গেম ৬০fps-এ চলে, আর হালকা গেমে ১২০Hz প্যানেলের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এটা কোনো ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট নয় — দীর্ঘক্ষণ হেভি গেমিং করলে তাপ বাড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। দৈনন্দিন কাজ, ক্যামেরা প্রসেসিং আর মাল্টিটাস্কিং — এই তিন জায়গায় পারফরম্যান্স নিয়ে আটকানোর কারণ নেই।
RAM ৮ বা ১২ জিবি, স্টোরেজ ২৫৬ জিবি থেকে শুরু — আর বাজারে ৮/৫১২জিবি ভেরিয়েন্টও পাওয়া যাচ্ছে। ফোনটি Android 16 ও One UI 8.5 দিয়ে আসে, সাথে ৬টি বড় OS আপডেটের প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ A56 5G-এর Android 15-এর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থেকে শুরু করছে, আর দুই ফোনের আপডেট মেয়াদই ২০৩০-এর দশকের গোড়া পর্যন্ত।
সফটওয়্যার: Android 16 ও One UI 8.5
One UI 8.5 ইন্টারফেসটা আগের চেয়ে পরিষ্কার — নোটিফিকেশন, কুইক সেটিংস আর থিম সিস্টেম সব এক জায়গায় গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন NPU দিয়ে ছবির AI এডিটিং, টেক্সট সামারি আর ভয়েস কমান্ডের মতো ফিচারগুলো দ্রুত কাজ করে। Samsung-এর ইকোসিস্টেমে থাকলে Galaxy Buds বা ওয়াচের সাথে কানেকশনও ঝামেলামুক্ত।
সফটওয়্যারের সবচেয়ে বড় কথা হলো দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট — ৬টি বড় OS আপডেটের প্রতিশ্রুতি মানে ২০৩২ সাল পর্যন্ত নতুন ভার্সন পাওয়ার সম্ভাবনা। A56 5G-ও একই ৬টি OS আপডেট পাবে, কিন্তু সেটি Android 15 থেকে শুরু করেছে বলে সর্বশেষ ভার্সনে পৌঁছাতে সবসময় এক ধাপ পিছিয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে এই এক ধাপের পার্থক্যই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।
কাস্টমাইজেশন ভালোবাসলে One UI-এর থিম স্টোর আর লোক স্ক্রিন গ্যাজেটগুলো কাজে লাগবে। সিকিউরিটির দিক থেকে Samsung Knox প্রোটেকশন আর নিয়মিত প্যাচ মিলিয়ে ফোনটি ব্যক্তিগত ডেটার জন্য নির্ভরযোগ্য। ওয়ারেন্টি রাখতে চাইলে আনলক করা বুটলোডার বা কাস্টম রম ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
ক্যামেরা: ৫০MP OIS-এর বাস্তব পারফরম্যান্স
পেছনে আছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা (f/1.8, OIS), ১২ মেগাপিক্সেলের ১২৩° আল্ট্রাওয়াইড আর ৫ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো লেন্স। দিনের আলোয় ছবি ধারালো ও কালার ভালো, আর OIS-এর কারণে রাতের ছবিতেও ঝাঁকুনি কম লাগে। ভিডিও 4K@30fps পর্যন্ত রেকর্ড হয়, সাথে gyro-EIS স্ট্যাবিলাইজেশন আছে।
ক্যামেরা হার্ডওয়্যার A56 5G-এর সাথে প্রায় অভিন্ন, তাই ছবির মানে বড় কোনো লাফ নেই — আপগ্রেডটা মূলত চিপসেট আর সফটওয়্যারে। সেলফি ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেলের, যা 4K ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। দামি ফ্ল্যাগশিপের সাথে তুলনা না করে বলা যায়, এই দামের সেগমেন্টে ক্যামেরা নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই।
আপনার মূল চাহিদা যদি ক্যামেরাই হয়, তাহলে একই বাজেটের আশেপাশে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ক্যামেরা ফোন তালিকাটাও দেখে নিতে পারেন। A57 5G-এর ক্যামেরা ভালো, তবে Samsung-এর ছবির প্রসেসিং স্টাইল সবার পছন্দ নাও হতে পারে। সিদ্ধান্তের আগে শোরুমে গিয়ে হাতে নিয়ে ছবি তুলে দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যাটারি: ৫০০০mAh, ৪৫W চার্জিং
ব্যাটারি ৫০০০mAh, আর ৪৫ ওয়াটের ওয়্যার্ড চার্জিং সাপোর্ট করে — একই কনফিগারেশন A56 5G-তেও ছিল। ভারী ব্যবহারে সারাদিন চলে, আর হালকা ব্যবহারে দেড় দিনও টানতে পারে। ওয়্যারলেস চার্জিং নেই, চার্জিং পোর্ট USB Type-C 2.0 — আর ব্লুটুথ ভার্সন এবার ৬.০, যা আগের ৫.৩-এর চেয়ে নতুন।
বাজারে পাওয়া অফিসিয়াল ইউনিটে চার্জার থাকে কি না তা প্যাকেজিংভেদে বদলায়, তাই কেনার সময় দোকানে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো। দ্রুত চার্জের জন্য ৪৫ ওয়াটের চার্জার প্রয়োজন, আর সেটি আলাদা কিনতে হতে পারে। NFC, Wi-Fi ডুয়াল-ব্যান্ড আর হাইব্রিড ডুয়াল ন্যানো-সিম — কানেক্টিভিটির তালিকাও আধুনিক।
সারাদিনের ব্যবহারের পর রাতে চার্জে দেওয়ার অভ্যাস থাকলে ৫০০০mAh যথেষ্ট, তবে ভারী গেমিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং বেশি করলে বিকেলে চার্জার খুঁজতে হতে পারে। ৪৫ ওয়াট চার্জিং মানে অফিসিয়াল চার্জারে দ্রুত পূর্ণ চার্জ হয় — ঠিক কত মিনিটে লাগে তা চার্জারের মডেল আর ব্যবহারভেদে বদলায়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ২০-৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখার অভ্যাস সবচেয়ে কার্যকর।
A57 5G বনাম A56 5G: কী বদলেছে
A56 5G এখনো বাজারে আছে, তাই আপগ্রেডের প্রশ্নটা সবার মাথায় আসে। চিপসেট Exynos 1580 থেকে 1680-তে, OS Android 15 থেকে 16-তে, আর IP রেটিং ৬৭ থেকে ৬৮-তে — এই তিনটাই বড় পরিবর্তন। ওজন ১৯৮ গ্রাম থেকে ১৭৯ গ্রামে নেমে এসেছে, আর বডি ৭.৪ মিলিমিটার থেকে ৬.৯ মিলিমিটার পাতলা হয়েছে।
ডিসপ্লে, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও চার্জিং — এই চার জিনিস দুটি ফোনে প্রায় হুবহু এক। পার্থক্যের পুরোটাই চিপসেট, সফটওয়্যার সমর্থন আর বডি কনস্ট্রাকশনে। মজার ব্যাপার হলো, বাজারদামে A57 5G (৫৫,৪৯৯) এখন A56 5G (৫৫,৯৯৯)-এর চেয়েও কমে মিলছে, তাই নতুন করে কিনলে A56 ধরার কোনো কারণ নেই।
বাজেট আরও কম হলে A36 5G (৪৬,৪৯৯) ভালো বিকল্প — Snapdragon 6 Gen 3 চিপসেট, একই ডিসপ্লে ও ব্যাটারি, তবে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল আর রেটিং IP67। তিনটি মডেলের পূর্ণ স্পেসিফিকেশন A56 5G প্রোডাক্ট পেজ আর A36 5G প্রোডাক্ট পেজ-এ ঘুরে দেখতে পারেন। আর পুরো স্যামসাং ক্যাটালগের দাম এক জায়গায় পেতে দেখুন Samsung ফোনের তালিকা।
বাংলাদেশে দাম: অফিসিয়াল বনাম বাজারদাম
অফিসিয়াল চ্যানেলে ৮/২৫৬জিবি ভেরিয়েন্ট ৭১,৯৯৯ টাকা (লঞ্চ প্রাইস ৭৯,৯৯৯), আর ১২/২৫৬জিবি ৭৭,৯৯৯ টাকা — Star Tech ও MobileDokan-এর বর্তমান তালিকা অনুযায়ী। বাজারে অবশ্য ৫৫,৪৯৯ থেকে ৫৭,৪৯৯ টাকার মধ্যে ৮/২৫৬ ও ৮/৫১২ ভেরিয়েন্ট মিলছে, যা ১৯টি দোকানের লাইভ অফার থেকে নেওয়া। এই ফারাকের কারণ হলো ডিস্ট্রিবিউটর প্রমোশন, স্টক ক্লিয়ারেন্স আর নতুন শিপমেন্টের চাপ — কোনো একক কারণে নয়।
আমদানি করা (আনঅফিসিয়াল) ইউনিট ৪৭,৫০০ টাকায়ও পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলোতে বাংলাদেশি ওয়ারেন্টি থাকে না। অফিসিয়াল ইউনিটে ১ বছরের Samsung সার্ভিস সেন্টার ওয়ারেন্টি মেলে — এই পার্থক্যটাই দামের ফারাকের আসল হিসাব। দাম যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রাইস মেথডোলজি পেজে বিস্তারিত লেখা আছে।
A57 5G-এর দাম আরও কমবে কি না, সেটা স্টক আর নতুন মডেলের উপর নির্ভর করে — তবে লঞ্চের ৩ মাসে এত বড় পতন সাধারণত স্থিতিশীল বাজারদামের ইঙ্গিত দেয়। যারা অপেক্ষা করতে পারেন, তারা আরও ১-২ হাজার টাকা কমার সুযোগও পেতে পারেন। কিন্তু দামের তলানি ধরার চেষ্টায় বেশি দেরি করাটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ মজুদ ফুরিয়ে গেলে এই অফারই থাকে না।
কোথায় কিনবেন: অফিসিয়াল স্টোরের তালিকা
বাংলাদেশে A57 5G-এর অফিসিয়াল ইউনিট Star Tech, MobileDokan, Ryans আর Pickaboo-র মতো বড় রিটেইলারে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি স্টোরের অনলাইন পেজে ভেরিয়েন্ট অনুযায়ী দাম আলাদা করে দেখানো থাকে, তাই কেনার আগে দু-একটা জায়গায় মিলিয়ে নেওয়া ভালো। অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউশনের ইউনিটে Samsung সার্ভিস সেন্টারের ১ বছরের ওয়ারেন্টি মেলে।
কম দামের লোভে আনঅফিসিয়াল বা আমদানি করা ইউনিট কিনলে ওয়ারেন্টি আর ভবিষ্যতে সার্ভিসিং নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতার রেটিং আর রিভিউ দেখে তবেই অর্ডার দিন। দাম যাচাইয়ের নিয়মগুলো KoyTaka-র প্রাইস মেথডোলজি পেজে বিস্তারিত লেখা আছে, কেনার আগে একবার দেখে নিতে পারেন।
কেন কিছু তথ্য বাদ রাখা হলো
KoyTaka-র ক্যাটালগে A56 5G-এর পুরোনো রেকর্ডে দাম ৪৯,৯৯৯ টাকা লেখা আছে, কিন্তু অফিসিয়াল বর্তমান দাম ৫৫,৯৯৯ টাকা — রেকর্ডটি হালনাগাদ হয়নি। একই রেকর্ডে ডিসপ্লে রেজোলিউশন ১০৮০×২৪০০ লেখা, অথচ অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন ১০৮০×২৩৪০। তাই এই গাইডের সব তুলনা অফিসিয়াল সূত্র থেকে করা হয়েছে, ক্যাটালগের পুরোনো তথ্য থেকে নয়।
A57 5G এখনো KoyTaka-র প্রোডাক্ট ক্যাটালগে যোগ হয়নি, তাই এর সব তথ্য Star Tech, MobileDokan ও ১৯টি দোকানের লাইভ দাম থেকে যাচাই করা। ১২/২৫৬জিবি ভেরিয়েন্টের ৭৭,৯৯৯ টাকা দাম একটিমাত্র সূত্রের (MobileDokan) উপর ভিত্তি করে, তাই কেনার আগে দোকানে জেনে নেওয়া ভালো। বাজারদাম প্রতি সপ্তাহে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত কেনার আগে লাইভ দাম মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
কার জন্য নয়: A57 5G
যারা শুধু ক্যামেরার জন্য ফোন কিনছেন, তারা একই বাজেটে ডেডিকেটেড ক্যামেরা ফোনের দিকেও তাকাতে পারেন — A57 5G-এর ক্যামেরা ভালো, তবে স্পেশালিস্ট নয়। যারা দীর্ঘক্ষণ হেভি গেমিং করেন, তাদের জন্য ফ্ল্যাগশিপ চিপসেটের ফোন বেশি উপযোগী হবে। আর ব্যাটারি ব্যাকআপ যদি সবার আগে আসে, তাহলে ৬০০০mAh-এর বেশি ব্যাটারির ফোনগুলো দেখুন।
পুরোনো A56 5G ব্যবহারকারীদের আপগ্রেডের তাড়া নেই — দৈনন্দিন কাজে পার্থক্যটা হাতে নিলে বোঝা যাবে, চোখে দেখে নয়। যাদের বাজেট ৫০ হাজারের নিচে, তাদের জন্য A36 5G বা অন্য ব্র্যান্ডের বিকল্প বেশি মানানসই। সঠিক ফোন মানে দামি ফোন নয়, আপনার ব্যবহারের সাথে মিলে যাওয়া ফোন।
ফাইনাল ভের্ডিক্ট: কার জন্য A57 5G
A57 5G মূলত তাদের জন্য, যারা ৬০-৭০ হাজার টাকার মধ্যে নতুন চিপসেট, দীর্ঘ OS সাপোর্ট আর প্রিমিয়াম ফিনিশ চান। বাজারদাম ৫৫,৪৯৯ টাকায় নামলে এটি এই সেগমেন্টের সেরা Samsung বিকল্পগুলোর একটি হয়ে যায়। নতুন Redmi Note 15 Pro+ রিভিউ আর সেরা স্যামসাং ফোনের তালিকা ঘুরে দেখে দুই ব্র্যান্ডের তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নতুন ফোন কিনতে চাইলে A57 5G-কে বাদ দেওয়ার কারণ আমি খুঁজে পাইনি — বিশেষ করে বর্তমান বাজারদামে। A56 5G-এর চেয়ে নতুন চিপসেট, দীর্ঘ আপডেট সাপোর্ট আর হালকা বডি — তিনটি কারণই একসাথে পাবেন। শেষ কথা: অফিসিয়াল ইউনিট কিনুন, বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড সঙ্গে রাখুন — আর সব ফোনের দামের তালিকা ও সাম্প্রতিক রিভিউ ফলো করতে থাকুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
Galaxy A57 5G বাংলাদেশে কত টাকায় পাওয়া যাচ্ছে?
অফিসিয়াল দাম ৮/২৫৬জিবি ভেরিয়েন্টের জন্য ৭১,৯৯৯ টাকা, আর ১২/২৫৬জিবির জন্য ৭৭,৯৯৯ টাকা। বাজারদাম ৫৫,৪৯৯ টাকা থেকে শুরু, আর আমদানি করা ইউনিট ৪৭,৫০০ টাকায়ও মেলে। দাম প্রতিদিন বদলাতে পারে, তাই কেনার দিন লাইভ দাম যাচাই করে নেওয়া ভালো।
Galaxy A57 5G-তে কি মেমোরি কার্ড দেওয়া যায়?
সিম স্লটটি হাইব্রিড — হয় দুটি সিম, নয়তো একটি সিম আর একটি মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করতে হবে। আলাদা মেমোরি কার্ড স্লট নেই, তাই দুই সিমের প্রয়োজন হলে কার্ড ছাড়াই চলতে হবে। স্টোরেজ ২৫৬জিবি থেকে শুরু, তাই কার্ড ছাড়াও বেশ খানিকটা জায়গা পাওয়া যায়।
Galaxy A57 5G কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
Exynos 1680 আর Xclipse 550 GPU দিয়ে PUBG, COD-এর মতো গেম ৬০fps-এ চলে। দীর্ঘক্ষণ হেভি গেমিং করলে তাপ বাড়তে পারে, কিন্তু দৈনন্দিন গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। ১২০Hz ডিসপ্লে স্ক্রলিং আর হালকা গেমে মসৃণতা বাড়িয়ে দেয়।
A57 5G-এর সাথে চার্জার বা কেস দেওয়া হয় কি না?
বাংলাদেশে পাওয়া অফিসিয়াল ইউনিটের প্যাকেজিং সবসময় একরকম নয়, তাই কেনার সময় দোকানে খুলে জেনে নেওয়া ভালো। ফোনটি ৪৫ ওয়াট চার্জিং সাপোর্ট করে, তবে দ্রুত চার্জের জন্য ৪৫ ওয়াটের চার্জার লাগবে। কেস ও স্ক্রিন প্রোটেক্টর সাধারণত আলাদা কিনতে হয়।
Galaxy A57 5G-এর ওয়ারেন্টি কেমন?
অফিসিয়াল ইউনিটে ১ বছরের Samsung সার্ভিস সেন্টার ওয়ারেন্টি মেলে। আমদানি করা ইউনিটে এই ওয়ারেন্টি থাকে না, তাই কম দাম দেখে সেগুলো কিনলে ঝুঁকি নিতে হবে। কেনার সময় অফিসিয়াল রসিদ রাখা জরুরি।


