KoyTaka
Home/Blog/reviews/Samsung Galaxy S26 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — কোনটি কিনবেন

Samsung Galaxy S26 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — কোনটি কিনবেন

August 26, 2026
Share:
Samsung Galaxy S26 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — কোনটি কিনবেন

Samsung Galaxy S26 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬

Samsung Galaxy S26 সিরিজের বাংলাদেশে দাম ১,২৮,৪৯৯ টাকা থেকে শুরু, আর তিনটি মডেলই এখন অনুমোদিত রিটেইলারদের শোরুমে পাওয়া যাচ্ছে। ছোট স্ক্রিনের S26, বড় ডিসপ্লের S26+ আর ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার S26 Ultra — তিনটি ফোনই আলাদা ক্রেতার জন্য তৈরি। এই গাইডে যাচাইকৃত বাজারদাম, পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর কোন মডেল কার কাজে লাগবে — তিনটি প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়া হলো।

দাম নিয়ে প্রথমে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি — Samsung বাংলাদেশে ফোনগুলো নিজে বিক্রি করে না, অনুমোদিত রিটেইলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করে। তাই অফিসিয়াল পেজে নির্ধারিত দাম না থাকলেও Star Tech, Ryans, MobileDokan-এর মতো প্রতিষ্ঠিত দোকানে স্থির বাজারদাম পাওয়া যায়। নিচের টেবিলে তিনটি মডেলের দাম, ডিসপ্লে, চিপসেট, ক্যামেরা আর ব্যাটারির তুলনা এক নজরে রাখা হলো।

মডেলবাজারদামডিসপ্লেচিপসেট (বিডি)ক্যামেরাব্যাটারিকার জন্য
Galaxy S26৳ 1,28,4996.3″ FHD+ ১২০HzExynos 260050+10+12MP৪৩০০mAh, ২৫Wকমপ্যাক্ট ফ্ল্যাগশিপ
Galaxy S26+৳ 1,72,4996.7″ QHD+ ১২০HzExynos 260050+10+12MP৪৯০০mAh, ৪৫Wবড় স্ক্রিনপ্রেমী
Galaxy S26 Ultra৳ 1,99,9996.9″ QHD+ ১২০HzSnapdragon 8 Elite Gen 5200+50+50+10MP৫০০০mAh, ৬০Wপ্রো ফটোগ্রাফি

টেবিলের বাজারদাম ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা — Star Tech-এ S26-এর ক্যাশ প্রাইস ১,২৮,৪৯৯ টাকা আর নিয়মিত দাম ১,৩০,২৯৯ টাকা। S26+ রায়ান্স ও MobileDokan-এ ১,৭২,৪৯৯ টাকা, যেখানে Star Tech-এ স্টক নেই বলেই সেখানে দাম দেখানো হচ্ছে না। S26 Ultra-এর বাজারদাম ১,৯৯,৯৯৯ টাকা, আর Star Tech-এ ক্যাশ প্রাইস ১,৯১,৯৯৯ টাকা — দাম যাচাইয়ের বিস্তারিত শেষ বিভাগে আছে।

তিনটি মডেলই ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বৈশ্বিকভাবে ঘোষিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের অনুমোদিত রিটেইলারদের কাছে এখন পাওয়া যায়। সবগুলোতে Android 16, ৭টি মেজর OS আপডেটের প্রতিশ্রুতি আর One UI 8.5 — দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য সফটওয়্যার সাপোর্টই বড় প্লাস। নিচে প্রতিটি মডেলের গভীরে ঢুকে দেখব কোন ফোনটি আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের সাথে মানানসই।

চিপসেট: Exynos 2600 নাকি Snapdragon 8 Elite Gen 5

চিপসেট নিয়ে বাংলাদেশের ক্রেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি — কারণ S26 আর S26+ এখানে Exynos 2600 পায়, Snapdragon নয়। Snapdragon 8 Elite Gen 5 শুধু আমেরিকা, কানাডা আর চীনের ভার্সনে S26/S26+-এ আসে, আর বাকি বিশ্বে — বাংলাদেশসহ — Exynos 2600 ব্যবহার হয়। GSMArena আর Samsung-এর অফিসিয়াল স্পেক শিট দুটোই এই বিভাজন নিশ্চিত করেছে, তাই কোনো দোকানের সাইটে Snapdragon লেখা দেখলে সেটি কপি-পেস্ট ভুল বলে ধরে নিতে পারেন।

Exynos 2600 ২ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি, ১০-কোর CPU আর Xclipse 960 GPU-সহ — দৈনন্দিন কাজ আর গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। Galaxy S26 Ultra অবশ্য সব অঞ্চলেই Snapdragon 8 Elite Gen 5 পায়, যার অক্টা-কোর CPU ৪.৭৪ গিগাহার্টজ পর্যন্ত বুস্ট হয়। সিঙ্গেল-কোর পারফরম্যান্সে Snapdragon ভার্সন Exynos-কে ছাড়িয়ে যায়, কিন্তু বাংলাদেশে বিকল্প না থাকায় এই তুলনা কেবল জানার জন্য।

Galaxy S26: ছোট ফ্ল্যাগশিপের যুক্তি

Galaxy S26 ৬.৩ ইঞ্চির FHD+ LTPO AMOLED ডিসপ্লে নিয়ে এসেছে — ১২০Hz রিফ্রেশ রেট, ২৬০০ নিট পিক ব্রাইটনেস আর কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২। ১৪৯.৬×৭১.৭×৭.২ মিলিমিটার বডিতে মাত্র ১৬৭ গ্রাম ওজন, আর IP68 ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স — ছোট আর হালকা ফ্ল্যাগশিপ যারা চান তাদের জন্য। এক হাতে ব্যবহার, পকেটে রাখা আর হালকা ব্যবহারের সুবিধা — এই ফোনের মূল বিক্রয়বিন্দু সাইজ, স্পেক নয়।

ক্যামেরায় আছে ৫০ মেগাপিক্সেল OIS মেইন সেন্সর, ১০ মেগাপিক্সেল ৩x টেলিফটো আর ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড — ৮K ভিডিও রেকর্ডিংসহ। ৪৩০০mAh ব্যাটারি ২৫ ওয়াট ওয়্যার্ড আর ১৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে — ৩০ মিনিটে ৫৫ শতাংশ চার্জ হয়। ১২ জিবি র‍্যাম আর ১২৮/২৫৬/৫১২ জিবি স্টোরেজ — বাংলাদেশে মূলত ২৫৬ জিবি ভার্সনটিই ১,২৮,৪৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Samsung Galaxy S26 — ৬.৩ ইঞ্চি LTPO AMOLED ডিসপ্লে, ১২০Hz, ২৬০০ নিট

যারা বড় স্ক্রিন ছাড়া বাঁচতে পারেন না, তাদের জন্য S26 প্রথম পছন্দ নাও হতে পারে — কিন্তু বাকি সব ফ্ল্যাগশিপ সুবিধা এখানে অক্ষুণ্ন। আগের প্রজন্মের Galaxy S26-এর পূর্ণ প্রোফাইল পেজে দাম, স্পেক আর ছবির গ্যালারি দেখে নিতে পারেন। দামের তুলনায় ছোট ফ্ল্যাগশিপ খুঁজলে Apple-এর মতো বিকল্পও আছে, তবে Android অভিজ্ঞতার জন্য S26-ই এই দামে সেরা বাছাই।

Galaxy S26+: বড় স্ক্রিনের দাম

Galaxy S26+ ৬.৭ ইঞ্চির QHD+ LTPO AMOLED ডিসপ্লে নিয়ে আসে — ১৪৪০×৩১২০ রেজোলিউশন, ১২০Hz আর একই ২৬০০ নিট পিক ব্রাইটনেস। ডিসপ্লেটি S26-এর চেয়ে শার্প, আর ১৯০ গ্রাম ওজন ও ৭.৩ মিলিমিটার পুরুত্ব বড় স্ক্রিনের জন্য বেশ চাপা। মিডিয়া দেখা, গেম খেলা আর মাল্টিটাস্কিং যাদের নিত্যদিনের কাজ, তাদের জন্য ৬.৭ ইঞ্চির স্ক্রিন-টু-বডি অনুপাত ৯০ শতাংশের বেশি।

ক্যামেরা সেটআপ S26-এর মতোই — ৫০+১০+১২ মেগাপিক্সেল ট্রিপল সিস্টেম, তাই ছবির মানে কোনো আপস নেই। ব্যাটারি বড় হয়েছে — ৪৯০০mAh, আর চার্জিং ৪৫ ওয়াটে উঠেছে, যা ৩০ মিনিটে ৬৯ শতাংশ চার্জ করে। ২০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং Qi2.2 স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট করে — ওয়্যারলেস চার্জার ব্যবহারকারীদের জন্য দরকারি আপগ্রেড।

S26-এর চেয়ে ৪৪ হাজার টাকা বেশি দাম — স্ক্রিন রেজোলিউশন, ব্যাটারি আর চার্জিং স্পিডের জন্য এই পার্থক্য ন্যায্য কি না, সেটা ব্যবহারের ধরন ঠিক করে। ভিডিও দেখার জন্য ট্যাবলেট নয়, ফোনই চান — এমন ক্রেতাদের জন্য S26+ হলো এই সিরিজের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বাছাই। Galaxy S26+-এর পূর্ণ স্পেক শিট-এ রঙ, স্টোরেজ আর দামের সব ভার্সন দেখে নিন।

Galaxy S26 Ultra: ক্যামেরার রাজা

Galaxy S26 Ultra ৬.৯ ইঞ্চির QHD+ ডিসপ্লে, কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রোটেকশন আর টাইটানিয়াম-জাতীয় ফিনিশের অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম নিয়ে আসে। ক্যামেরা সিস্টেমই আসল পার্থক্য — ২০০ মেগাপিক্সেল f/1.4 মেইন সেন্সর, ১০ মেগাপিক্সেল ৩x টেলিফটো, ৫০ মেগাপিক্সেল ৫x পেরিস্কোপ আর ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড। কম আলোয় ২০০ মেগাপিক্সেলের f/1.4 অ্যাপারচার দারুণ ছবি তোলে, আর ৫x পেরিস্কোপ জুম দূরের বিষয়কে কাছে আনে — ফটোগ্রাফারদের স্বপ্নের সেটআপ।

Samsung Galaxy S26+ — ৫০+১০+১২ মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা সিস্টেম

৫০০০mAh ব্যাটারি ৬০ ওয়াট ওয়্যার্ড চার্জিং দেয় — ৩০ মিনিটে ৭৫ শতাংশ, আর ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস (Qi2.2) ও ৪.৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং আছে। ১২/১৬ জিবি র‍্যাম আর ২৫৬ জিবি থেকে ১ টেরাবাইট স্টোরেজ — হেভি ইউজার আর কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কোনো আপস নেই। ২১৪ গ্রাম ওজন আর ৭.৯ মিলিমিটার পুরুত্ব — বড় ফোন, কিন্তু এই ক্লাসে এটাই স্বাভাবিক।

S Pen সাপোর্ট Ultra-র একচেটিয়া সুবিধা — নোট নেওয়া, স্কেচ করা আর সাইন করার কাজে এটি এখনো অনন্য। গ্যালাক্সি এআই ফিচারগুলো — সার্কেল টু সার্চ, জেনারেটিভ এডিট, লাইভ ট্রান্সলেট — তিনটি মডেলেই আছে, তবে Ultra-র প্রসেসর এগুলো দ্রুত চালায়। Galaxy S26 Ultra-র পূর্ণ প্রোফাইল-এ ক্যামেরার সব ডিটেইল আর গ্যালারি দেখুন।

কোন মডেল কার জন্য সঠিক?

বাজেট ১.৩ লাখ টাকার কাছাকাছি আর ছোট ফোন পছন্দ — Galaxy S26-ই উত্তর, দাম ১,২৮,৪৯৯ টাকা। বড় স্ক্রিনে ভিডিও আর গেম, একটু বেশি ব্যাটারি — Galaxy S26+ ১,৭২,৪৯৯ টাকায় সেই চাহিদা পূরণ করে। ক্যামেরাই মূল অস্ত্র, আর বাজেট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত — Galaxy S26 Ultra ১,৯৯,৯৯৯ টাকায় সেরা বিনিয়োগ।

সবচেয়ে কম দামে পূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা চাইলে S26-ই স্মার্ট বাছাই — মূল পারফরম্যান্স তিনটি মডেলেই কাছাকাছি। যারা বছরে শত শত ছবি তোলেন, ভিডিও এডিট করেন কিংবা S Pen ব্যবহার করেন, তাদের জন্য Ultra-র অতিরিক্ত দাম ন্যায্য। মাঝের পছন্দ হিসেবে S26+ সেরা সমঝোতা — S26-এর চেয়ে বড় স্ক্রিন, Ultra-র চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।

ক্যামেরা সিস্টেমের গভীরে

S26 আর S26+-এর ট্রিপল ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল OIS মেইন, ১০ মেগাপিক্সেল ৩x জুম আর ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড — দৈনন্দিনের সব দৃশ্যের জন্য যথেষ্ট। ৮K ভিডিও রেকর্ডিং ২৪/৩০fps-এ চলে, আর ১০-বিট HDR স্টিরিও সাউন্ডসহ — ভিডিওগ্রাফারদের জন্য চমৎকার টুল। সেলফি ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল f/2.2, যা ৪K ভিডিও রেকর্ড করে — সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য যথেষ্ট ভালো।

Ultra-র কোয়াড ক্যামেরার বিশেষত্ব ২০০ মেগাপিক্সেলের f/1.4 লেন্স — Samsung-এর সবচেয়ে বড় অ্যাপারচার, যা রাতের ছবিতে বিশাল পার্থক্য তৈরি করে। ৫x পেরিস্কোপ জুম ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সরে ১১১ মিলিমিটার ফোকাল লেংথ দেয় — কনসার্ট, খেলাধুলা বা বন্যপ্রাণীর ছবির জন্য দুর্দান্ত। লেজার AF, হরাইজন লক, বেস্ট ফেস আর সুপার স্টেডি ভিডিও — প্রো ইউজারদের জন্য সব ফিচার Ultra-তেই পূর্ণ।

ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের বাস্তব হিসাব

S26-এ ৪৩০০mAh, S26+-এ ৪৯০০mAh আর Ultra-তে ৫০০০mAh ব্যাটারি — তিনটি ফোনই সারাদিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। চার্জিং স্পিডে পার্থক্য বড় — S26 ২৫ ওয়াট, S26+ ৪৫ ওয়াট আর Ultra ৬০ ওয়াট ওয়্যার্ড চার্জিং দেয়। ফাস্ট চার্জিংয়ের সময়গুলো পরীক্ষাগারের শর্তে মাপা — বাস্তবে চার্জারের মান আর ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

ওয়্যারলেস চার্জিং S26-এ ১৫ ওয়াট, S26+-এ ২০ ওয়াট আর Ultra-তে ২৫ ওয়াট — Qi2.2 স্ট্যান্ডার্ড তিনটি মডেলেই আছে। বাক্সে চার্জার দেওয়া হয় কি না সেটি অঞ্চলভেদে ভিন্ন — বাংলাদেশে রিটেইলার প্যাকেজ অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে কিনুন। ভারী ব্যবহারে দিনে একবার চার্জ লাগবেই, আর হালকা ব্যবহারে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাটারি টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

Samsung Galaxy S26 Ultra — ৫০০০mAh ব্যাটারি, ৬০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং

ডিসপ্লে: ২৬০০ নিটের উজ্জ্বলতা

তিনটি মডেলের ডিসপ্লেই Dynamic LTPO AMOLED 2X — ১২০Hz রিফ্রেশ রেট, HDR10+ আর ২৬০০ নিট পিক ব্রাইটনেস। ২৬০০ নিটের পিক ব্রাইটনেস সরাসরি সূর্যের আলোতেও স্ক্রিন পড়া যায় — বাংলাদেশের খোলা রোদে এটি বড় সুবিধা। S26-এর FHD+ রেজোলিউশন ৪১১ ppi, আর S26+ ও Ultra-র QHD+ প্যানেল ৫০০-৫১৬ ppi — অতিরিক্ত শার্পনেস চোখে ধরা পড়ে।

LTPO প্রযুক্তির সুবিধা হলো অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ — স্থির ছবিতে ১Hz-এ নেমে যায়, ফলে ব্যাটারি বাঁচে। S26 আর S26+-এ কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২, আর Ultra-তে গরিলা আর্মার ২ — স্ক্র্যাচ আর পড়ে যাওয়া দুটোতেই সেরা। স্ক্রিন প্রোটেক্টর লাগালেও আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর কাজ করে — টেম্পার্ড গ্লাস বাছাইয়ে সতর্ক থাকুন।

বাংলাদেশে কোথায় কিনবেন S26 সিরিজ?

Star Tech, Ryans, MobileDokan, Dazzle, Apple Gadgets — অনুমোদিত রিটেইলারদের কাছ থেকে কেনাই নিরাপদ, ওয়ারেন্টিসহ। S26 এই মুহূর্তে Star Tech-এ স্টকে আছে, আর S26+ ও Ultra-র স্টক দোকানভেদে পরিবর্তনশীল — কেনার আগে ফোন করে নিশ্চিত হোন। অনলাইন অর্ডারে ক্যাশ অন ডেলিভারি আর ইএমআই সুবিধা পাবেন, তবে শোরুম থেকে কেনায় ফোন হাতে দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

দামের খোঁজে Samsung ফোনের পূর্ণ তালিকা, সব মোবাইলের দাম আর তুলনা টুল-এ ঘুরে দেখতে পারেন। পুরোনো S25 সিরিজের সাথে তুলনার জন্য S25 সিরিজের গাইড-টি পড়ে নিন — আপগ্রেডের সিদ্ধান্তে কাজে লাগবে। Samsung ইকোসিস্টেমে থাকলে Galaxy Watch 8 গাইড-ও দেখে নিতে পারেন, আর মিড-রেঞ্জের বিকল্প চাইলে Galaxy A57-এর রিভিউ পড়ুন।

দামের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দাম যাচাই পদ্ধতি পেজে বিস্তারিত আছে — কোন দাম কীভাবে সংগ্রহ করা হয় সেটা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা। আরও রিভিউ আর গাইডের জন্য রিভিউ বিভাগ-এ চোখ রাখুন — প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট যোগ হচ্ছে। সবশেষে মনে রাখবেন — স্টক আর দাম প্রতিনিয়ত বদলায়, তাই কেনার দিনই সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ।

Galaxy S25 থেকে আপগ্রেড করবেন কি না

Galaxy S25 ব্যবহার করছেন এমন কারও জন্য S26 সিরিজে আপগ্রেড জরুরি নয় — ডিজাইন আর পারফরম্যান্সের পার্থক্য বড় নয়। S25 Ultra-তে ইতিমধ্যে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে, তাই ক্যামেরার কারণে আপগ্রেডের তাগিদ নেই — শুধু প্রসেসর আর ব্যাটারি একটু ভালো হয়েছে। S24 বা তার আগের মডেল ব্যবহার করলে অবশ্য S26 সিরিজে আপগ্রেড বোঝা যায় — ব্যাটারি, ডিসপ্লে আর সফটওয়্যার সাপোর্ট তিন দিকেই লাভ।

S25-এর চেয়ে S26-এ সবচেয়ে বড় পার্থক্য ব্যাটারি — Ultra-তে ৫০০০mAh বনাম ৫০০০mAh-ই, তবে চার্জিং ৬০ ওয়াটে উন্নীত হয়েছে। S25 থেকে S26-এ OS আপডেটের সংখ্যা একই — ৭টি মেজর আপডেট — তবে S26 শুরু হয় Android 16 দিয়ে, তাই এক ভার্সন এগিয়ে। বাজেট সংকট থাকলে S25-ই এখনো দারুণ ফোন — আপগ্রেডের চেয়ে নতুন ব্যাটারি কিংবা স্টোরেজ ম্যানেজমেন্টে খরচ করা বেশি যুক্তিসঙ্গত।

দাম যাচাই: কোন দাম বিশ্বাস করবেন

S26 সিরিজের দাম নিয়ে অনলাইনে নানা রকম হিসাব ঘুরছে — লঞ্চের আগে কিছু সাইট ৮২,৯৯৯ টাকার মতো ভুল দাম দেখিয়েছিল। ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ Star Tech, Ryans আর MobileDokan থেকে যাচাই করা দামই এই গাইডে ব্যবহার করা হয়েছে — ১,২৮,৪৯৯ / ১,৭২,৪৯৯ / ১,৯৯,৯৯৯ টাকা। আমদানি করা বা নন-অফিসিয়াল ইউনিট কম দামে মিলতে পারে, তবে সেগুলোতে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি থাকবে না — সেই ঝুঁকি আলাদা হিসাব করুন।

S26+ নিয়ে একটি ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে — কোনো কোনো সাইট ১,৫২,৯৯৯ টাকা দেখালেও বর্তমান বাজারদাম ১,৭২,৪৯৯ টাকা। দামের ওঠানামা স্বাভাবিক — নতুন মডেল, ঈদ সিজন বা স্টক পরিবর্তনে দাম কমতে দেখা যায়, তাই কেনার আগে দুই-তিনটি দোকানের লাইভ দাম নিশ্চিত করুন। কোনো সাইটের দাম আর KoyTaka-র তালিকাভুক্ত দাম মিলে না গেলে দাম যাচাই পদ্ধতি পেজে কারণ জানতে পারবেন।

S26 সিরিজের সীমাবদ্ধতা

সবচেয়ে বড় সমালোচনা S26 আর S26+-এ Snapdragon না দেওয়া — Exynos 2600 ভালো হলেও অনেক ক্রেতা Snapdragon-এর নামেই আগ্রহী। বাংলাদেশে S26+-এর স্টক এখনো অনিয়মিত — Star Tech-এ মডেলটি আপাতত স্টকে নেই, তাই কেনার আগে প্রাপ্যতা যাচাই জরুরি। বাক্সে চার্জার আছে কি না নিশ্চিত নয় — Samsung অনেক অঞ্চলে চার্জার বাদ দিয়েছে, তাই আলাদা ৪৫/৬০ ওয়াট চার্জারের খরচ হিসাবে রাখুন।

S26-এ ১২৮ জিবি থেকে স্টোরেজ শুরু — ৪কে/৮কে ভিডিওতে দ্রুত ভরে যায়, তাই ২৫৬ জিবি ভার্সনই বুদ্ধিমানের পছন্দ। সিম স্লটে microSD নেই — স্টোরেজ বাড়ানোর সুযোগ নেই, তাই কেনার সময়েই কনফিগারেশন ঠিক করে নিন। তবুও এই দামে পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট আর উজ্জ্বল ডিসপ্লে একসাথে — এটাই S26 সিরিজের মূল শক্তি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

Samsung Galaxy S26 সিরিজের বাংলাদেশে দাম কত?

২৬ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা বাজারদাম — Galaxy S26 ১,২৮,৪৯৯ টাকা, S26+ ১,৭২,৪৯৯ টাকা আর S26 Ultra ১,৯৯,৯৯৯ টাকা। Star Tech-এ S26-এর নিয়মিত দাম ১,৩০,২৯৯ টাকা, আর Ultra-র ক্যাশ প্রাইস ১,৯১,৯৯৯ টাকা। দাম দোকানভেদে সামান্য ভিন্ন হতে পারে — কেনার আগে লাইভ দাম যাচাই করে নেওয়াই ভালো।

Galaxy S26-এ Snapdragon নাকি Exynos চিপসেট?

বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া Galaxy S26 আর S26+-এ Exynos 2600 চিপসেট থাকে — Snapdragon 8 Elite Gen 5 শুধু আমেরিকা, কানাডা আর চীনে। Galaxy S26 Ultra সব অঞ্চলেই Snapdragon 8 Elite Gen 5 পায়, তাই এই মডেলে চিপসেট নিয়ে দ্বিধার কিছু নেই। কোনো দোকানের সাইটে S26-এ Snapdragon লেখা দেখলে সেটি টেমপ্লেট কপি-পেস্টের ভুল — অফিসিয়াল স্পেক শিটই চূড়ান্ত।

Galaxy S26 Ultra-এর ক্যামেরা কি সত্যিই ২০০ মেগাপিক্সেল?

হ্যাঁ — S26 Ultra-র মেইন ক্যামেরা ২০০ মেগাপিক্সেলের f/1.4 সেন্সর, যার সাথে আছে ১০ মেগাপিক্সেল ৩x জুম আর ৫০ মেগাপিক্সেল ৫x পেরিস্কোপ। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরাটিও ৫০ মেগাপিক্সেল, তাই চারটি লেন্সের সেটআপ ফটোগ্রাফির সব প্রয়োজন মেটায়। ডিফল্টে ১২ মেগাপিক্সেলের পিক্সেল-বিন্ডেড ছবি তোলা হয়, আর পূর্ণ ২০০ মেগাপিক্সেল রেজোলিউশন ম্যানুয়ালি চালু করতে হয়।

Galaxy S26 Plus-এর ব্যাটারি কতক্ষণ চলে?

S26+-এ ৪৯০০mAh ব্যাটারি, যা ভারী ব্যবহারে সারাদিন আর হালকা ব্যবহারে দেড় দিন পর্যন্ত টিকতে পারে। ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ৩০ মিনিটে ৬৯ শতাংশ চার্জ করে, আর ২০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং Qi2.2 সাপোর্ট করে। ব্যাটারি লাইফ স্ক্রিন ব্রাইটনেস, গেমিং আর নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে — পরীক্ষাগারের সংখ্যাকে চূড়ান্ত ধরা ঠিক নয়।

Galaxy S25 থেকে S26-এ আপগ্রেড করা কি লাভজনক?

S25 ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি আপগ্রেড নয় — ডিজাইন আর পারফরম্যান্সের পার্থক্য সামান্য, আর OS সাপোর্টের সংখ্যাও সমান। S24 বা তার পুরোনো মডেল থেকে আসলে লাভ স্পষ্ট — ভালো ব্যাটারি, উজ্জ্বল ডিসপ্লে আর দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট পাবেন। আপগ্রেডের আগে নিজের ফোনের অবস্থা আর বাজেট বুঝে নিন — ফোন ঠিকঠাক চললে আরও এক বছর অপেক্ষা করাও যুক্তিসঙ্গত।

More from KoyTaka

View all