Samsung Galaxy Watch 8 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — কোনটি কিনবেন

Samsung Galaxy Watch 8 সিরিজের দাম বাংলাদেশ ২০২৬
Galaxy Watch 8 সিরিজের দাম বাংলাদেশে এখন ২৪,৪০০ টাকা থেকে শুরু, আর প্রিমিয়াম Watch 8 Classic-এর জন্য খরচ হবে ৩১,৪০০ টাকা থেকে। দুটি ঘড়িই একই Exynos W1000 চিপসেট ও ৩০০০ নিটের Super AMOLED ডিসপ্লে পায়, কিন্তু ডিজাইন, স্টোরেজ আর ব্যাটারির হিসাবে এরা আলাদা দর্শনের। এই গাইডে বাজারদাম, পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর কার জন্য কোনটি সত্যিই লাভজনক — তিনটি প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়া হলো।
দাম নিয়ে প্রথমে একটা বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি — Samsung বাংলাদেশে ঘড়িগুলো নিজে বিক্রি করে না, অনুমোদিত রিটেইলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করে। তাই অফিসিয়াল পেজে নির্ধারিত দাম না থাকলেও Star Tech, Apple Gadgets, Dazzle-এর মতো দোকানে স্থির বাজারদাম পাওয়া যায়। নিচের টেবিলে Watch 8 আর Watch 8 Classic-এর পাশাপাশি আগের প্রজন্মের তুলনা এক নজরে রাখা হলো।
| মডেল | বাজারদাম | KoyTaka দাম (১৮ জুলাই) | ডিসপ্লে | স্টোরেজ | ব্যাটারি | কার জন্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| Samsung Galaxy Watch 8 (44mm LTE) | ৳ 24,400 | ৳ 24,499 | 1.47″ Super AMOLED | 2GB + 32GB | 435mAh | দৈনন্দিন ব্যবহার |
| Samsung Galaxy Watch 8 Classic (46mm LTE) | ৳ 31,400 | ৳ 31,490 | 1.34″ Super AMOLED | 2GB + 64GB | 445mAh | রোটেটিং বেজেল প্রেমী |
| Samsung Galaxy Watch 7 (40mm) | ৳ 19,400 | — | 1.3″ Super AMOLED | 2GB + 32GB | 300mAh | সাশ্রয়ী আপগ্রেড |
টেবিলের বাজারদাম Star Tech-এর ক্যাশ প্রাইস থেকে নেওয়া, যেখানে Watch 8-এর নিয়মিত দাম ২৬,৪৯৯ টাকা আর Classic-এর ৩৩,৯৯৯ টাকা। KoyTaka ডেটাবেসে Watch 8-এর তালিকাভুক্ত দাম ২৪,৪৯৯ টাকা (Apple Gadgets) আর Classic-এর ৩১,৪৯০ টাকা (Dazzle), যা ১৮ জুলাই যাচাই করা। আমদানি বা নন-অফিসিয়াল ইউনিট আরও কম দামে মিলতে পারে, তবে সেগুলোর ওয়ারেন্টি ঝুঁকি আলাদা হিসাব করতে হবে।
ডিজাইন: কুশন বডি বনাম রোটেটিং বেজেল
Watch 8 এবার সবচেয়ে পাতলা Galaxy Watch — ৮.৬ মিলিমিটার পুরু, ৪৪মিমি ভার্সনে মাত্র ৩৪ গ্রাম ওজনের। কুশন ডিজাইন নামের নতুন আকৃতিটি হাতে বসে আরামদায়ক, আর ডাইনামিক লাগ সিস্টেম স্ট্র্যাপ বদলানোকে সহজ করেছে। সাইজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ৪০মিমি সরু হাতের জন্য আর ৪৪মিমি স্বাভাবিক থেকে বড় হাতের জন্য মানানসই।
Watch 8 Classic সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের — ৪৬মিমি একক সাইজ, স্টেইনলেস স্টিল বডি আর ওজন ৬৩.৫ গ্রাম। আইকনিক রোটেটিং বেজেলটি ফিরে এসেছে, যা স্ক্রলিং আর নেভিগেশনকে স্পর্শ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করে — এই অভিজ্ঞতা Classic ছাড়া আর কোথাও মেলে না। ব্ল্যাক আর হোয়াইট দুই রঙে আসা এই ঘড়িটি দেখতে অনেকটা ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির মতো, অফিস ড্রেসের সঙ্গেও চলে যায়।
দুটি মডেলেই স্যাফায়ার ক্রিস্টাল গ্লাস, IP68 ও 5ATM ওয়াটার রেটিং আর MIL-STD-810H মিলিটারি-গ্রেড সহনশীলতা আছে। আলুমিনিয়াম ফ্রেমের Watch 8 হালকা হলেও Classic-এর স্টেইনলেস স্টিল বেশি টেকসই আর স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী। যারা ঘড়িটাকে কঠোর ব্যবহারে ফেলবেন, তাদের জন্য Classic-এর নির্মাণশৈলী বেশি নিশ্চিন্ততা দেবে।
ডিসপ্লে: ৩০০০ নিটে রোদেও পরিষ্কার
Watch 8-এর ৪৪মিমি ভার্সনে ১.৪৭ ইঞ্চির 480×480 Super AMOLED প্যানেল, আর ৪০মিমিতে ১.৩৪ ইঞ্চির 438×438 রেজোলিউশন। Classic-এর ৪৬মিমি বডিতে ১.৩৪ ইঞ্চির 438×438 ডিসপ্লে — বড় বেজেলের কারণে স্ক্রিনটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট দেখায়। পিক ব্রাইটনেস ৩০০০ নিট, যা সরাসরি রোদের নিচেও পড়া যায় — বাংলাদেশের খোলা আকাশের নিচে এটি বড় সুবিধা।
অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে দুটি মডেলেই আছে, আর স্যাফায়ার ক্রিস্টাল প্রোটেকশন সাধারণ গ্লাসের চেয়ে অনেক বেশি স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী। Watch 7-এর তুলনায় ডিসপ্লেটি ৫০ শতাংশ উজ্জ্বল, যা সূর্যের আলোতে আগের প্রজন্মের চেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে। ডিসপ্লে সাইজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মনে রাখবেন — Classic-এর বড় বডি মানেই বড় স্ক্রিন নয়, বেজেলটাই জায়গা নেয়।
পারফরম্যান্স: Exynos W1000 ও Wear OS 6
দুটি ঘড়িতেই ৩ ন্যানোমিটার Exynos W1000 চিপসেট, ৫-কোর CPU আর Mali-G68 GPU — যা Wear OS 6-কে তরলভাবে চালায়। এটি Watch 8 সিরিজকেই প্রথম স্মার্টওয়াচ বানিয়েছে যেখানে বক্স থেকেই Google Gemini সহায়ক সক্রিয় থাকে। ২ জিবি র্যাম দুটি মডেলেই সমান, কিন্তু স্টোরেজে পার্থক্য — Watch 8-এ ৩২ জিবি আর Classic-এ ৬৪ জিবি।
বড় স্টোরেজের ব্যবহারিক সুবিধা হলো অফলাইন মিউজিক, ম্যাপ আর অ্যাপ — Classic ব্যবহারকারীরা বেশি কনটেন্ট ঘড়িতে রাখতে পারবেন। One UI 8 Watch ইন্টারফেসটি আগের চেয়ে দ্রুত, আর Galaxy AI-এর এনার্জি স্কোর, বেডটাইম গাইডেন্সের মতো ফিচার দুটি মডেলেই আছে। টাচ বেজেল Watch 8-এ থাকলেও সেটি Classic-এর ফিজিক্যাল রোটেটিং বেজেলের মতো স্পর্শকাতর অভিজ্ঞতা দেয় না।
স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং: হার্ট থেকে স্লিপ অ্যাপনিয়া
Samsung BioActive সেন্সর দুটি মডেলেই আছে, যা হার্ট রেট, ECG, রক্তচাপ, SpO2, ত্বকের তাপমাত্রা আর বডি কম্পোজিশন মাপে। Watch 8 সিরিজে স্লিপ অ্যাপনিয়া ডিটেকশন, এনার্জি স্কোর আর বেডটাইম গাইডেন্স যুক্ত হয়েছে — ঘুমের মান বুঝতে এগুলো কার্যকর। Classic-এ অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনডেক্স ও ভাস্কুলার লোড মেট্রিক আছে, যা বয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি তথ্য দেয়।
রানিং কোচ, পার্সোনালাইজড হার্ট রেট জোন আর ফাংশনাল থ্রেশহোল্ড পাওয়ার — দৌড়বিদদের জন্য দরকারি ফিচার দুটি মডেলেই সমান। স্বাস্থ্য ডেটার নির্ভুলতা নিয়ে সতর্ক থাকা ভালো — এগুলো মেডিকেল ডিভাইস নয়, বরং প্রবণতা বুঝতে সহায়ক। গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে এসব ডেটার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।
ব্যাটারি: কতক্ষণ সত্যিই চলে
Watch 8-এ ৪৪মিমি ভার্সনে 435mAh আর ৪০মিমিতে 325mAh ব্যাটারি, যেখানে Classic-এ 445mAh। Samsung-এর দাবি অনুযায়ী অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে চালু থাকলে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে, তবে বাস্তবে ব্যবহারভেদে ২৪-৩০ ঘণ্টার মধ্যে চার্জ দিতে হয়। Classic-এর বড় ব্যাটারি আর দক্ষ বেজেল নেভিগেশনের কারণে পরীক্ষায় Watch 8-এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় চলে — পিসম্যাগের টেস্টে ৪৯ ঘণ্টা।
১০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং দুটি মডেলেই আছে, যা Samsung-এর EP-OL300 প্যাড বা অন্যান্য Qi প্যাড দিয়ে চার্জ করা যায়। দীর্ঘ ব্যাটারি লাগলে ডিসপ্লে অলওয়েজ-অন বন্ধ রাখা, ব্রাইটনেস কমানো আর অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন সীমিত করা ভালো উপায়। প্রতিদিন চার্জ দেওয়ার অভ্যাস থাকলে Watch 8-ই যথেষ্ট, আর দুই দিনের ব্যাটারি চাইলে Classic-এর দিকে ঝুঁকুন।
কানেক্টিভিটি: LTE, GPS আর NFC
বাংলাদেশে পাওয়া দুটি মডেলই LTE ভার্সন — ফোন ছাড়াই কল, মেসেজ আর ডেটা চালানো যায়, তবে ক্যারিয়ারের eSIM সাপোর্ট আগে নিশ্চিত করতে হবে। ডুয়াল-ফ্রিকোয়েন্সি GPS (L1+L5) রানিং আর আউটডোর ট্র্যাকিংয়ে আগের চেয়ে নিখুঁত লোকেশন দেয় — শহরের উঁচু ভবনের মাঝেও কাজ করে। NFC-সহ ওয়্যারলেস পেমেন্ট, Wi-Fi ডুয়াল-ব্যান্ড আর ব্লুটুথ ৫.৩ — সব সুবিধাই দুই মডেলে সমানভাবে আছে।
eSIM সাপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ধোঁয়াশা আছে — বর্তমানে স্থানীয় অপারেটররা স্মার্টওয়াচে eSIM সার্ভিস চালু করেনি। তাই LTE ভার্সনের অতিরিক্ত দাম দেওয়ার আগে নিজের অপারেটরকে জিজ্ঞেস করে নিন; না হলে ব্লুটুথ ভার্সনই বুদ্ধিমানের কাজ। ফোন ছাড়া ঘড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে WiFi ভার্সন বেছে নিয়ে হাজার টাকা বাঁচানো যায়।
ফাইনাল ভের্ডিক্ট: কার জন্য কোনটি
Galaxy Watch 8 মূলত তাদের জন্য, যারা হালকা, পাতলা আর দৈনন্দিন সব ফিচারসহ স্মার্টওয়াচ চান — দাম ২৪,৪০০ টাকা থেকে শুরু। Watch 8 Classic ৩১,৪০০ টাকায় রোটেটিং বেজেল, স্টেইনলেস স্টিল বডি, দ্বিগুণ স্টোরেজ আর দীর্ঘ ব্যাটারি অফার করে — প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার দাম। আগের প্রজন্মের Galaxy Watch 5 বা সাশ্রয়ী Galaxy Watch FE-এর তুলনায় ৭ হাজার টাকার বেশি দিলে Watch 8-ই আপগ্রেডের সঠিক জায়গা।
৭,০০০ টাকার ব্যবধান সত্যিই বড় — তাই বাজেট কড়া হলে Watch 8 বেছে নেওয়ায় আপশোশের কারণ নেই, মূল অভিজ্ঞতা দুই মডেলেই একই। প্রতিদিন ঘড়ি দেখে কাজ করেন, অফিসে স্যুট পরেন বা বেজেল ঘোরানোর অনুভূতি মিস করেন — তাহলে Classic-এর অতিরিক্ত দাম ন্যায্য। কোনো মডেলের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব স্মার্টওয়াচের তালিকা, তুলনা টুল আর দাম যাচাই পদ্ধতি ঘুরে দেখে নিন।
Huawei Watch GT 6 বা OnePlus Watch 3-এর মতো প্রতিযোগীও এই দামের বাজেটে আছে, কিন্তু Wear OS-এর অ্যাপ ইকোসিস্টেম Samsung-এর পক্ষে বড় প্লাস। স্যামসাং ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য Galaxy Watch 8-ই স্বাভাবিক পছন্দ — GT 6 আর OnePlus Watch 3-এর সাথে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। অফিসিয়াল রিটেইলার থেকে বিলসহ কিনুন, ওয়ারেন্টি কার্ড সঙ্গে রাখুন — আর ১০-২৫ হাজার টাকার স্মার্টওয়াচ গাইড ও ৫-১০ হাজারের গাইড-ও দেখে নিতে পারেন।
দুই মডেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শেষবারের মতো হিসাবটা মিলিয়ে নিন — Watch 8-এ সাশ্রয় হবে ৭,০০০ টাকা। সেই টাকায় একটি ভালো স্টেইনলেস স্টিল স্ট্র্যাপ, অতিরিক্ত চার্জার কিংবা স্ক্রিন প্রোটেক্টর কেনা যায় — ব্যবহারের চাহিদা বুঝে খরচটা সাজান। আর যদি প্রিমিয়াম ফিনিশ আর বেজেলের অনুভূতিই আসল লক্ষ্য হয়, তাহলে Classic-এর দাম নিয়ে দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই।
দাম যাচাই: কোন দাম বিশ্বাস করবেন
বাংলাদেশে স্মার্টওয়াচের দাম নিয়ে সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর জিনিস হলো কিছু সাইটের অতিরিক্ত দাম দেখানো। কয়েকটি অ্যাগ্রিগেটর সাইট Watch 8-কে ৪০,০০০ টাকা আর Classic-কে ৪৬,০০০ টাকায় দেখালেও বাজারে তা সত্য নয় — অনুমোদিত রিটেইলারদের দামই মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। Star Tech, Apple Gadgets, Dazzle-এর মতো প্রতিষ্ঠিত দোকানের ক্যাশ প্রাইসই বর্তমান বাজারদামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র।
KoyTaka ডেটাবেসে Watch 8-এর ২৪,৪৯৯ টাকা (Apple Gadgets) আর Classic-এর ৩১,৪৯০ টাকা (Dazzle) তালিকাভুক্ত, যা ১৮ জুলাই ২০২৬-এ যাচাই করা। দাম প্রতিনিয়ত বদলায় — ডিসকাউন্ট, ঈদ সিজন বা নতুন মডেল আসার আগে দাম কমতে দেখা যায়। কেনার আগে দুই-তিনটি দোকানের লাইভ দাম জিজ্ঞেস করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
এই বাজেটে বিকল্প স্মার্টওয়াচ
Galaxy Watch 8-এর বাজেটে Huawei Watch GT 6 (২৪,৯৯০ টাকা) আছে, যার ব্যাটারি দেড় সপ্তাহ ধরে — কিন্তু Wear OS নেই, তাই অ্যাপ সাপোর্ট সীমিত। OnePlus Watch 3 (২৪,৫৯০ টাকা) Wear OS চালায় আর গোলাকার ডিজাইনে সুন্দর, তবে Samsung Health-এর গভীর ফিচারগুলো পাবেন না। Apple Watch SE 3 (৩৩,৭০০ টাকা) iPhone ব্যবহারকারীদের জন্য সেরা বিকল্প, কিন্তু Android ফোনে এটি কাজই করবে না।
বাজেট ২০ হাজারের নিচে হলে Galaxy Watch FE (১২,৯৯০ টাকা) বা HONOR Watch 5-এর মতো মডেলও বিবেচনা করতে পারেন। এই গাইডের তুলনা টেবিলে থাকা তিনটি মডেলের পাশাপাশি ফিটনেস ব্যান্ড গাইড-এ থাকা সাশ্রয়ী অপশনগুলোও দেখে নিন। মনে রাখবেন — স্মার্টওয়াচে সবচেয়ে বেশি খরচের জায়গা সেন্সর আর সফটওয়্যার সাপোর্ট, তাই শুধু দাম নয়, দীর্ঘমেয়াদি আপডেটের প্রতিশ্রুতিও যাচাই করুন।
কোন সাইজ নেবেন: ৪০মিমি নাকি ৪৪মিমি
Watch 8 দুই সাইজে আসে — ৪০মিমি আর ৪৪মিমি, যেখানে Classic শুধু ৪৬মিমি একক সাইজে সীমাবদ্ধ। সরু হাতের নারী বা পুরুষদের জন্য ৪০মিমি আরামদায়ক, আর সাধারণ থেকে বড় হাতের জন্য ৪৪মিমি বেশি মানানসই দেখায়। ঘড়ির কেস যত বড়, স্ক্রিন আর ব্যাটারি তত বড় — ৪৪মিমি ভার্সনে ৪৩৫mAh আর ৪০মিমিতে ৩২৫mAh।
Classic-এর ৪৬মিমি বডি সবার হাতে ভালো বসে না — দোকানে গিয়ে হাতে পরে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উত্তম। স্ট্র্যাপ বদলানোর সুবিধার জন্য ডাইনামিক লাগ সিস্টেম দুটি মডেলেই আছে, তাই বেল্ট কিনে আলাদা করা যায়। অনলাইনে অর্ডার করলে সাইজ ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে — প্রথমবার কিনলে শোরুম থেকে কেনাই নিরাপদ।
ওয়ারেন্টি ও কোথায় কিনবেন
অফিসিয়াল ইউনিটে ১ বছরের Samsung সার্ভিস সেন্টার ওয়ারেন্টি মেলে — বাংলাদেশের সব বিভাগীয় শহরে সার্ভিস পয়েন্ট আছে। Star Tech, Apple Gadgets, Dazzle, Sumash Tech-এর মতো অনুমোদিত রিটেইলারদের কাছ থেকে কেনার সময় বিল আর ওয়ারেন্টি কার্ড অবশ্যই নেবেন। আমদানি করা বা নন-অফিসিয়াল ইউনিটে এই ওয়ারেন্টি থাকে না — কম দাম দেখে কিনলে সার্ভিস খরচ আলাদা গুনতে হবে।
কেনার পর প্রথম সপ্তাহে ডিসপ্লে, সেন্সর আর চার্জিং ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন — কোনো সমস্যা পেলে রিপ্লেসমেন্টের দাবি করুন। অনলাইন পেমেন্টের আগে দোকানের রিটার্ন পলিসি পড়ে নেওয়া জরুরি, কারণ স্মার্টওয়াচ একবার ব্যবহার করলে অনেক দোকান ফেরত নেয় না। ঈদ কিংবা বড় সিজনে দাম কমার প্রবণতা থাকে — দরদাম করে ৫০০-১০০০ টাকা ছাড় পাওয়াও সম্ভব।
Watch 8 সিরিজের সীমাবদ্ধতা
সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো ব্যাটারি লাইফ — Watch 8-এ অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে চালু রাখলে দিনে একবার চার্জ লাগে। Classic একক সাইজে আসায় ছোট হাতের ব্যবহারকারীরা বেছে নেওয়ার সুযোগ পান না, আর ৬৩.৫ গ্রাম ওজন অনেকের কাছে ভারী লাগতে পারে। ECG আর রক্তচাপ মাপার ফিচার বাংলাদেশে সম্পূর্ণ কার্যকর নাও হতে পারে, কারণ এসব ফিচার অঞ্চলভেদে সীমাবদ্ধ।
iPhone-এর সাথে সীমিত সামঞ্জস্য, eSIM সার্ভিসের অনুপস্থিতি আর ঘড়িতে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের পরিবর্তে Gemini-এর অভ্যস্ত হতে সময় লাগা — তিনটি বিষয় মনে রাখবেন। স্টোরেজ নিয়ে চিন্তিতদের জন্য Classic-এর ৬৪ জিবি যথেষ্ট, কিন্তু Watch 8-এর ৩২ জিবিতে অফলাইন মিউজিক দ্রুত ভরে যায়। তবুও এই বাজেটে Wear OS-এর পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা, নিখুঁত বিল্ড আর ৩০০০ নিট ডিসপ্লে একসাথে দেয় — এটাই Samsung-এর মূল শক্তি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
Watch 8 আর Classic-এর দামের পার্থক্য কেন এত?
দামের পার্থক্যের মূল কারণ স্টেইনলেস স্টিল বডি, রোটেটিং বেজেল, ৬৪ জিবি স্টোরেজ আর বড় 445mAh ব্যাটারি। বাজারদামে পার্থক্যটা ৭ হাজার টাকার মতো — Star Tech-এ Watch 8 ২৪,৪০০ টাকা আর Classic ৩১,৪০০ টাকা। বিল্ড কোয়ালিটি আর বেজেল অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত দাম ন্যায্য কি না, সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
Galaxy Watch 8 কি iPhone বা অন্য ফোনে চলে?
Wear OS 6 হওয়ায় Android ১২ বা তার উপরের যেকোনো ফোনের সাথে Watch 8 জোড়া যায় — শুধু Samsung ফোনেই সীমাবদ্ধ নয়। iPhone-এর সাথে সীমিত সাপোর্ট — কল, নোটিফিকেশন চললেও ECG, রক্তচাপের মতো Samsung Health ফিচারগুলো কাজ করবে না। iPhone ব্যবহারকারীদের জন্য Apple Watch-ই স্বাভাবিক পছন্দ, তাই কেনার আগে নিজের ফোনের সাথে সামঞ্জস্য যাচাই করুন।
Galaxy Watch 8-এর ব্যাটারি আসলে কতক্ষণ চলে?
Samsung-এর দাবি অলওয়েজ-অন ডিসপ্লেতে ৩০ ঘণ্টা, কিন্তু বাস্তব ব্যবহারে নোটিফিকেশন আর GPS চালু থাকলে ২৪ ঘণ্টার কাছাকাছি নেমে আসে। Classic বড় ব্যাটারির কারণে বেশি চলে — পিসম্যাগের পরীক্ষায় অলওয়েজ-অন ডিসপ্লেতে ৪৯ ঘণ্টা পর্যন্ত দেখা গেছে। ব্যাটারি লাইফ ঘড়ির সেটিংস, স্ক্রিন ব্রাইটনেস আর ব্যবহারের ধরনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।
Galaxy Watch 8-এ কি eSIM বা সিম ব্যবহার করা যায়?
LTE ভার্সনে eSIM সাপোর্ট আছে, যা ফোন ছাড়াই কল ও ডেটা চালাতে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের অপারেটররা এখনো স্মার্টওয়াচের জন্য eSIM সার্ভিস চালু করেনি, তাই এই ফিচারটি আপাতত অকেজো। ভবিষ্যতে eSIM সার্ভিস এলে কাজে লাগবে — ততদিন WiFi/ব্লুটুথ ভার্সনই ব্যবহারিক বাছাই।
Watch 8 কিনব নাকি Watch 7-এর দাম কমে যাওয়া মডেল নেব?
Watch 7 এখন ১৯,৪০০ টাকায় পাওয়া যায়, যা Watch 8-এর চেয়ে ৫ হাজার টাকা সাশ্রয়ী। Watch 8-এ উজ্জ্বল ৩০০০ নিট ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারি, নতুন কুশন ডিজাইন আর দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট — এই চারটি আপগ্রেডই দামের পার্থক্য তুলে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে Watch 8-ই ভালো বিনিয়োগ, আর অস্থায়ী সমাধান চাইলে Watch 7 চলবে।


