Redmi Watch 5 Active vs Lite: বাংলাদেশে কোনটি কিনবেন

Redmi Watch 5 Active vs Lite: বাংলাদেশে কোনটি কিনবেন
চার হাজার টাকার বাজেটে স্মার্টওয়াচ, নাকি সাড়ে সাত হাজার টাকা খরচ করে GPS-সহ মডেল — এই দ্বিধাই আজকের গাইডের মূল প্রশ্ন। Redmi Watch 5 Active আর Redmi Watch 5 Lite — দুটোই ২০২৬ সালের বাংলাদেশি বাজারে Xiaomi-র অফিসিয়াল পেজে তালিকাভুক্ত, কিন্তু দামের ফারাক প্রায় দ্বিগুণ। এই লেখায় দুটো ঘড়ির যাচাইকৃত দাম, স্পেসিফিকেশন আর বাস্তব ব্যবহারের পার্থক্য ধাপে ধাপে দেখানো হলো।
দাম দিয়ে শুরু করি — Watch 5 Active-এর জন্য mi.com/bd-এ কোনো অফিসিয়াল দাম প্রকাশ করা হয়নি, বাজারে এটি Star Tech-এ ৪,২৯০ টাকা আর Pickaboo-তে ৪,৪৯৯ টাকায় (নিয়মিত ৪,৭৯৯) বিক্রি হচ্ছে। Watch 5 Lite-এর অফিসিয়াল দাম ৭,৬৯৯ টাকা, তবে Star Tech-এ বর্তমানে ৬,৬৯৯ টাকায় তালিকাভুক্ত। নিচের টেবিলে দুটো মডেলের মূল পার্থক্যগুলো এক নজরে রাখা হলো, তারপর প্রতিটি বিষয় গভীরে আলোচনা করব।
| মডেল | বাজারদাম | ডিসপ্লে | GPS | পানি প্রতিরোধ | ব্যাটারি | কার জন্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| Watch 5 Active | ৳ 4,290–4,799 | 2″ LCD ৩২০×৩৮৫ | নেই | IPX8 | ৪৭০mAh, ১৮ দিন | বাজেট ও জিম |
| Watch 5 Lite | ৳ 6,699–7,699 | 1.96″ AMOLED ৪১০×৫০২ | ফাইভ-সিস্টেম | 5ATM | ৪৭০mAh, ১৮ দিন | আউটডোর ও GPS |
টেবিলের দাম ২৭ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা — Active-এর বাজারদাম Star Tech (৪,২৯০) আর Pickaboo (৪,৪৯৯, নিয়মিত ৪,৭৯৯) থেকে, Lite-এর দাম mi.com/bd (৭,৬৯৯) আর Star Tech (৬,৬৯৯) থেকে নেওয়া। দুটো ঘড়িতেই ৪৭০mAh ব্যাটারি, ব্লুটুথ কলিং, HyperOS আর ম্যাগনেটিক চার্জিং আছে — পার্থক্যগুলো মূলত ডিসপ্লে, GPS, বিল্ড আর পানি প্রতিরোধে। দাম যাচাইয়ের বিস্তারিত হিসাব শেষ বিভাগে রাখা হয়েছে, যাতে আপনি নিজেও যাচাই করতে পারেন।
ডিসপ্লে: AMOLED বনাম LCD — মূল পার্থক্য
দুটো ঘড়ির মধ্যে সবচেয়ে বড় চোখে পড়ার পার্থক্যটা ডিসপ্লেতে — Lite-এ ১.৯৬ ইঞ্চির AMOLED প্যানেল, Active-এ ২ ইঞ্চির LCD। AMOLED মানে গভীর কালো, উজ্জ্বল রঙ আর অলওয়েজ-অন ডিসপ্লের (AOD) সুবিধা, যা LCD-তে সম্ভব নয়। রোদে পড়ার স্বাচ্ছন্দ্য আর ব্যাটারি খরচ — দুটো বিষয়েই এই পার্থক্য কেনার সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে।
Lite-এর ৪১০×৫০২ রেজোলিউশন (৩৩২ PPI) অনেক ধারালো ছবি দেয়, আর স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৭৫.৮ শতাংশ। Active-এর ৩২০×৩৮৫ রেজোলিউশন (২৫০ PPI) একটু কম sharp, তবে পিক ব্রাইটনেস ৫০০ নিট পর্যন্ত — সাধারণ আলোতে দুটোই পড়া যায়। যারা রাতে বা অন্ধকার ঘরে ঘড়িটা দেখেন, তাদের জন্য AOD-সহ AMOLED-এর সুবিধা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
একটি বিষয় মনে রাখবেন — AMOLED প্যানেলে কালো পিক্সেল জ্বলে না, তাই AOD চালু রাখলেও Lite-এর ব্যাটারি সহনশীল থাকে। অন্যদিকে পুরো LCD প্যানেল সবসময় ব্যাকলিট থাকে, ফলে AMOLED বনাম IPS-এর পার্থক্য-এর ব্যাখ্যাটা এখানেও প্রযোজ্য। স্ক্রিনের দিকে থেকে Lite স্পষ্ট এগিয়ে, আর এটাই দামের ফারাকের সবচেয়ে বড় কারণ।
GPS: একটিতে আছে, অন্যটিতে নেই
দৌড়ানো, সাইক্লিং বা হাঁটার রুট ট্র্যাক করতে হলে ফোন ছাড়াই কাজ চালানো যায় — এই সুবিধাটা শুধু Lite-এ আছে। Lite-এ পাঁচ সিস্টেমের GNSS (GPS, Galileo, Glonass, BeiDou, QZSS) আছে, অথচ Active-এ কোনো বিল্ট-ইন স্যাটেলাইট পজিশনিং নেই। Active ব্যবহার করলে রুট ট্র্যাকিংয়ের জন্য ফোনটা কাছেই রাখতে হবে, নয়তো দূরত্বের হিসাব ভুল হবে।
বাইক রাইড, সকালের দৌড় বা জিমের বাইরের ওয়ার্কআউট — যারা নিয়মিত এসব করেন, তাদের জন্য GPS-ই সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে Lite বেছে নেওয়ার। স্মার্টফোনের সঙ্গে ব্লুটুথ যুক্ত থাকলে দুটো ঘড়িই ধাপ, দূরত্ব আর ক্যালোরির হিসাব দেয়, কিন্তু ফোন ছাড়া একমাত্র Lite-ই সঠিক ট্র্যাক দিতে পারে। এই একটি ফিচারের জন্যই অনেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা খরচ করতে রাজি থাকেন।
ব্যাটারি: দুটোতেই ৪৭০mAh, ব্যবহার আলাদা
দুটো ঘড়ির ব্যাটারিই ৪৭০mAh, আর Xiaomi-র দাবি টিপিক্যাল ব্যবহারে ১৮ দিন পর্যন্ত চলে। হেভি ব্যবহারে ১২ দিন আর AOD চালু রাখলে Lite-এ ৭ দিন — এই হিসাবটা অফিসিয়াল স্পেক শিট থেকে নেওয়া। বাস্তবে ব্লুটুথ কলিং, নোটিফিকেশন আর ঘন ঘন স্ক্রিন চালু করলে সংখ্যাগুলো কিছুটা কমতে পারে, তাই এগুলোকে সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে ধরুন।
চার্জিং দুটোতেই ম্যাগনেটিক পিন-ভিত্তিক, মানে কোনো তারের হাঙ্গামা নেই। চার্জিং ক্যাবল দুটো ঘড়ির বাক্সেই পাওয়া যায়, আর ফুল চার্জে কতক্ষণ লাগবে তা ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ব্যাটারির ক্ষমতা সমান হওয়ায় এখানে কোনো পক্ষকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই — পার্থক্যটা শুধু স্ক্রিন প্রযুক্তির কারণে খরচের হারে।
কলিং, মাইক ও স্পিকার তুলনা
দুটো ঘড়িতেই ব্লুটুথ 5.3-এর মাধ্যমে কল ধরা, রিসিভ আর রিজেক্ট করা যায় — কব্জি থেকে ফোন না বের করেই। মাইক সিস্টেমে অবশ্য পার্থক্য আছে — Active-এ ৩-মাইক ENC, আর Lite-এ ডুয়াল-মাইক ENC। Xiaomi-র অফিসিয়াল স্পেক অনুযায়ী Active-এর তিন মাইকের নয়েজ ক্যানসেলেশন কলের সময় পরিবেশগত শব্দ বেশি কাটে।
Lite-এ ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ডিরেকশনাল অডিও পিকআপের কথা বলা হয়েছে, যা ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে কল করলে কাজে লাগে। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দুটো ঘড়ির কল কোয়ালিটিই এই দামের স্মার্টওয়াচের জন্য ভালো, তবে কানের কাছে ফোন রাখার বিকল্প কিছুই নয়। স্পিকার দুটোতেই আছে, তাই ঘড়ি দিয়ে সরাসরি কথা বলা যায় — শুধু মনে রাখবেন আশপাশে শব্দ হলে Active একটু বেশি স্বস্তি দেবে।
বিল্ড, পানি প্রতিরোধ ও ওজন
Active-এর জিংক অ্যালয় মেটাল বডি আর ম্যাট ফিনিশ — একে ধুলো, ধাক্কা আর হাত ঘামানোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। Lite-এর ফ্রেম প্লাস্টিক (NCVM), ফলে এটি ২৯.২ গ্রাম (স্ট্র্যাপ ছাড়া) — Active-এর ৪২.২ গ্রামের চেয়ে অনেক হালকা। যারা সারাদিন ঘড়ি পরে থাকেন বা ঘুমের ট্র্যাকিং করেন, তাদের কব্জিতে হালকা ঘড়িটাই বেশি আরাম দেয়।
পানি প্রতিরোধে হিসাবটা উল্টো — Lite-এ 5ATM রেটিং, মানে পুলে সাঁতার কাটা যায়, আর Active-এ IPX8। অফিসিয়াল mi.com/bd স্পেক শিটে Active-এর জন্য IPX8 লেখা আছে (ক্যাটালগে 5ATM লেখা থাকলেও অফিসিয়াল পেজই চূড়ান্ত), যা স্প্ল্যাশ আর ঘামের জন্য যথেষ্ট। সাঁতার বা গোসলের সময় ঘড়ি পরতে চাইলে Lite-ই নিরাপদ পছন্দ, আর সাধারণ দৈনন্দিন ব্যবহারে Active-ও চলবে।
হেলথ ট্র্যাকিং, স্পোর্টস মোড ও সফটওয়্যার
হার্ট রেট, SpO2, স্ট্রেস আর ঘুমের ট্র্যাকিং — এই চারটি মৌলিক ফিচার দুটো ঘড়িতেই আছে, আর দুটোই ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করে। স্পোর্টস মোডের সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য — Active-এ ১৪০+ আর Lite-এ ১৫০+ মোড, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারে এই দশটি মোডের ফারাক টের পাওয়া কঠিন। দুটোই Xiaomi HyperOS চালায়, তাই ইন্টারফেস, নোটিফিকেশন আর Mi Fitness অ্যাপের অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকম।
Active-এ আলেক্সা বিল্ট-ইন আছে — ঘড়ি থেকেই ভয়েস কমান্ডে কাজ করানো যায়, যা Lite-এ নেই। ওয়াচ ফেস দুটোতেই ২০০-এর বেশি ক্লাউড অপশন আছে, তাই পছন্দমতো ডায়াল বদলে নেওয়ার স্বাধীনতা সমান। সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টা Xiaomi-র হাতে, আর দুটো মডেলই একই HyperOS ভার্সনে চলছে — এখানে বড় কোনো বিভাজন নেই।
ফোন কানেক্টিভিটি ও অ্যাপ সাপোর্ট
Active-টি Android ৬.০ আর iOS ১২.০ থেকে, আর Lite-টি Android ৮.০ আর iOS ১২.০ থেকে ফোনের সঙ্গে জোড়া লাগে — দুটোই Mi Fitness অ্যাপ দিয়ে সেটআপ করতে হয়। iPhone ব্যবহারকারীদের জন্য মৌলিক নোটিফিকেশন, কল আর হেলথ ডেটা সিংক ঠিকঠাক কাজ করে, তবে কিছু ঘড়ির ফিচার Android-এ বেশি খোলা থাকে। পুরোনো Android ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য Active-এর এই নমনীয়তা একটি ছোট সুবিধা, বাকি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা প্রায় একই।
ব্লুটুথ 5.3 দুটোতেই আছে, তাই সংযোগের গতি আর স্থিতিশীলতা সমান। ফোন থেকে ঘড়ি দূরে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার ফিরে এলে অটো-রিকানেক্ট হয়, যা দৈনন্দিন ব্যবহারে বড় স্বস্তি। Mi Fitness অ্যাপ থেকেই ওয়াচ ফেস বদলানো, হেলথ ডেটা দেখা আর ফার্মওয়্যার আপডেট করা যায় — দুটো মডেলের জন্যই একই অ্যাপ।
যারা একাধিক Xiaomi ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য HyperOS ইকোসিস্টেমের সুবিধা আছে — নোটিফিকেশন আর কিছু সেটিংস এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সম্পূর্ণ Xiaomi ইকোসিস্টেমের জাদু দেখতে চাইলে ঘড়ির পাশাপাশি Xiaomi ফোন রাখার পরামর্শই বেশি শোনা যায়। সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এই পার্থক্য সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো নয়, শুধু জেনে রাখা ভালো।
নোটিফিকেশন, রিংটোন ও দৈনন্দিন ব্যবহার
কল, SMS, WhatsApp, Messenger আর ইমেইলের নোটিফিকেশন — দুটো ঘড়িতেই আসে, আর কব্জি তুলেই পড়া যায়। Active-এ কাস্টমাইজেবল রিংটোনের ৭টি প্রিসেট অপশন আছে, আর দুটোতেই ভাইব্রেশন দিয়ে নোটিফিকেশন জানানো হয়। সাইলেন্ট মিটিংয়ে ফোন বের না করে ঘড়িতে দেখে নেওয়ার সুবিধাটা দুটোতেই সমান কাজ করে।
কুইক রিপ্লাইয়ের সুবিধা Android ফোনে ভালো কাজ করে, iPhone-এ সীমিত। ঘড়ির স্পিকারে কল শোনা যায়, তবে দীর্ঘ কলের জন্য ইয়ারবাড বা ফোনই বেশি আরামদায়ক — ঘড়ির স্পিকার মূলত ছোট কথা বলার জন্য। দৈনন্দিন ব্যবহারে দুটো ঘড়ির পারফরম্যান্স প্রায় একই রকম, তাই নোটিফিকেশনপ্রেমীদের জন্য এখানে বাছাই করার মতো বড় কিছু নেই।
কাদের জন্য দুটোই যথেষ্ট নয়
যারা Wear OS-এর পূর্ণাঙ্গ অ্যাপ ইকোসিস্টেম, Google Maps নেভিগেশন বা টার্ন-বাই-টার্ন দিকনির্দেশনা চান, তাদের জন্য এই দুটো ঘড়িই নয়। আরও উন্নত ফিচারের জন্য ১০ হাজার টাকার উপরের স্মার্টওয়াচের দিকে তাকাতে হবে, যেখানে Samsung Galaxy Watch FE বা HONOR Watch 5-এর মতো মডেল আছে। বাজেট স্মার্টওয়াচের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই এই দুটোর মধ্যে বেছে নেওয়া উচিত।
আবার যারা শুধু ধাপ আর ঘুমের হিসাব চান, তাদের জন্য হালকা আর সস্তা ফিটনেস ব্যান্ডই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। স্মার্টওয়াচের বড় স্ক্রিন আর কলিং ফিচার ব্যবহার না করলে অতিরিক্ত দাম দেওয়ার মানে নেই। নিজের ব্যবহারের ধরনটা আগে ঠিক করুন, তারপর মডেল বাছাই করলে টাকা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
দাম ও কোথায় কিনবেন
Watch 5 Active-এর বাজারদাম এখন ৪,২৯০ থেকে ৪,৭৯৯ টাকার মধ্যে — Star Tech-এ ৪,২৯০ টাকা (সীমিত স্টক), Pickaboo-তে ৪,৪৯৯ টাকা (নিয়মিত ৪,৭৯৯) Xiaomi Official স্টোর থেকে। Watch 5 Lite-এর অফিসিয়াল দাম ৭,৬৯৯ টাকা, আর Star Tech-এ তালিকাভুক্ত দাম ৬,৬৯৯ টাকা — তবে এই মুহূর্তে দুটো মডেলই Star Tech-এ স্টক-আউট দেখাচ্ছে। কেনার আগে দাম যাচাইয়ের নিয়ম-র নিয়ম অনুযায়ী একাধিক দোকানের দাম মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ, কারণ অফারের দাম দ্রুত বদলায়।
Pickaboo-তে Active-টি Xiaomi Official স্টোর থেকে বিক্রি হচ্ছে, ১২ মাসের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ — অনলাইন কেনার ক্ষেত্রে এই বিক্রেতা পরিচয়টা গুরুত্বপূর্ণ। Lite-এর জন্য mi.com/bd-এর অফিসিয়াল পেজেই দাম সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, আর স্টক ফিরলে Star Tech-এর দাম আরও কম। নকল ঘড়ির হাত থেকে বাঁচতে অনুমোদিত রিটেইলার বা অফিসিয়াল স্টোর ছাড়া অন্য জায়গা থেকে কেনা এড়িয়ে চলুন।
বাজারে আরও স্মার্টওয়াচের বিকল্প দেখতে চাইলে KoyTaka-র স্মার্টওয়াচ ক্যাটাগরি পেজে সব মডেলের তালিকা আছে। বাজেট যদি কঠোরভাবে ৫ হাজারের নিচে হয়, তাহলে ৫ হাজারের নিচের স্মার্টওয়াচ গাইডের অন্যান্য মডেলও দেখে নিতে পারেন। ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে আরও বিকল্প জানতে ৫–১০ হাজার টাকার স্মার্টওয়াচ গাইডটি পড়ুন — সেখানে Lite-এর পাশাপাশি HONOR Band 9-এর মতো Huawei Band 11 বিকল্পও আছে।
কোনটি কিনবেন: তিনটি সহজ নিয়ম
সিদ্ধান্তটা আসলে তিনটি প্রশ্নে দাঁড়িয়ে — স্ক্রিন কি AMOLED চান, GPS কি দরকার, আর বাজেট কত। তিনটি প্রশ্নের উত্তরই যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে Lite-ই সঠিক পছন্দ; অন্যদিকে বাজেট সাশ্রয় আর মেটাল বডি চাইলে Active ধরতে পারেন। নিচে তিনটি ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সুপারিশ ভাগ করে দেওয়া হলো।
প্রথমত, অফিস, ক্লাস বা সাধারণ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য Active যথেষ্ট — কলিং, নোটিফিকেশন, হেলথ ট্র্যাকিং সবই আছে, দামও অর্ধেক। দ্বিতীয়ত, সকালের দৌড়, সাইক্লিং বা আউটডোর ফিটনেস যাদের নেশা, তাদের জন্য GPS-সহ Lite-ই একমাত্র যুক্তিসঙ্গত বাছাই। তৃতীয়ত, যারা সাঁতার কাটেন বা পুলে ঘড়ি পরতে চান, তাদের জন্য 5ATM-এর Lite ছাড়া বিকল্প নেই — IPX8 স্প্ল্যাশের জন্য হলেও সাঁতারের জন্য নয়।
দুটো ঘড়ির পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর বর্তমান দাম দেখতে পারেন Redmi Watch 5 Active আর Redmi Watch 5 Lite পেজে। এছাড়া কম্পেয়ার টুল-এ দুটোকে পাশাপাশি বসিয়ে নিজের মতো করে তুলনা করাও যায়। সবশেষে — স্মার্টওয়াচের বদলে ফিটনেস ব্যান্ড ভাবছেন? তাহলে ফিটনেস ব্যান্ড গাইডটি একবার দেখে নিন।
দামের হিসাবটা সহজ ভাষায় বললে — Active-এর জন্য যা খরচ হবে, তার প্রায় দ্বিগুণ খরচ করে Lite কিনলে পাবেন AMOLED স্ক্রিন, GPS আর সাঁতার-উপযোগী 5ATM। আবার অর্ধেক দামে Active দেবে মেটাল বডি, তিন মাইকের কলিং আর বড় LCD — জিম আর অফিসের জন্য যথেষ্ট। দুটোতেই ১৮ দিনের ব্যাটারির দাবি একই, তাই শেষ বিচারে আপনার ফোন-ফ্রি ট্র্যাকিং দরকার কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন।
দাম যাচাই: কোন দাম বিশ্বাস করবেন
এই লেখার সব দাম ২৭ আগস্ট ২০২৬-এ সরাসরি উৎস থেকে যাচাই করা — mi.com/bd, Pickaboo আর Star Tech-এর লাইভ পেজ থেকে। Watch 5 Active-এর জন্য Xiaomi বাংলাদেশে অফিসিয়াল দাম প্রকাশ করেনি (অফিসিয়াল বাই API-তে দাম শূন্য), তাই বাজারদামই একমাত্র ভরসা। gsmarena.com.bd-এর মতো অ্যাগ্রিগেটর সাইটে Active-এর দাম ৪,৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে, যা বাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি — সেগুলো আনুমানিক, চূড়ান্ত নয়।
ক্যাটালগে Active-এর জন্য 5ATM পানি প্রতিরোধ লেখা থাকলেও mi.com/bd-এর অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন পেজে IPX8 উল্লেখ আছে, আর এই লেখায় অফিসিয়াল পেজকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। Star Tech-এ দুটো মডেলই এই মুহূর্তে স্টক-আউট দেখাচ্ছে, তাই কেনার আগে ফোন করে স্টক আর দাম নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো। বিক্রেতার নাম হিসেবে Star Tech, Pickaboo আর Xiaomi BD — তিনটি প্রতিষ্ঠিত উৎসের কথা উল্লেখ করা হলো, কোনো বহিরাগত লিংক নয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Watch 5 Active আর Lite-এর পার্থক্য কী?
প্রধান পার্থক্য তিনটি — Lite-এ ১.৯৬ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে (AOD-সহ) আর Active-এ ২ ইঞ্চির LCD। Lite-এ ফাইভ-সিস্টেম GNSS আছে, Active-এ নেই; আর পানি প্রতিরোধে Lite 5ATM, Active IPX8। দামের ফারাকও বড় — Active ৪,২৯০–৪,৭৯৯ টাকা, আর Lite ৬,৬৯৯–৭,৬৯৯ টাকা।
Redmi Watch 5 Active-এর অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে কত?
Xiaomi বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজে Active-এর জন্য কোনো নির্ধারিত দাম প্রকাশ করেনি। বাজারে Star Tech-এ ৪,২৯০ টাকা আর Pickaboo-তে ৪,৪৯৯ টাকা (নিয়মিত ৪,৭৯৯) দরে বিক্রি হচ্ছে, দুটোই ১২ মাসের ওয়ারেন্টিসহ। অফিসিয়াল দাম প্রকাশ পেলে KoyTaka-র Redmi Watch 5 Active পেজে সেটি আপডেট করা হবে।
Redmi Watch 5 Lite দিয়ে কি সাঁতার কাটা যাবে?
হ্যাঁ — Lite-এর 5ATM রেটিং মানে ৫০ মিটার পর্যন্ত পানির চাপ সহ্য করার সার্টিফিকেশন, তাই পুলে সাঁতার কাটা যায়। গরম পানির গোসল বা স্টিম বাথের সময় অবশ্য ঘড়ি না পরার পরামর্শই দেওয়া হয়। Active-এর IPX8 রেটিং স্প্ল্যাশ আর ঘামের জন্য যথেষ্ট, তবে সাঁতারের জন্য নয়।
GPS ছাড়া কি Redmi Watch 5 Active-এ দূরত্ব ট্র্যাক হবে?
ফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে Active-এ ধাপ, দূরত্ব আর ক্যালোরির হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু ফোন ছাড়া দৌড়ালে GPS নেই বলে রুট ম্যাপ বা সঠিক দূরত্বের ট্র্যাকিং হবে না। ফোন-ফ্রি আউটডোর ট্র্যাকিংয়ের জন্য Lite-ই একমাত্র উপযুক্ত।
কোনটির ব্যাটারি বেশি চলে?
দুটো ঘড়ির ব্যাটারিই ৪৭০mAh, আর অফিসিয়াল দাবি টিপিক্যাল ব্যবহারে ১৮ দিন পর্যন্ত। AOD চালু রাখলে Lite-এ ৭ দিন, হেভি ব্যবহারে দুটোতেই ১২ দিন — স্ক্রিন প্রযুক্তির কারণে Lite-এর AOD-সহ হিসাব আলাদা। বাস্তব ব্যাটারি ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে, তাই দুটোতেই সমান প্রস্তুতি রাখুন।


