Xiaomi স্মার্ট ডিভাইসের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — ৫টি পছন্দ

Xiaomi স্মার্ট ডিভাইসের দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — ৫টি পছন্দ
পাঁচ হাজার থেকে বাইশ হাজার টাকার মধ্যে Xiaomi-র কোন স্মার্ট ডিভাইসটি আপনার ঘরে আসলে কাজে লাগবে — এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই আজকের গাইড। ২০২৬ সালের মে মাসে Xiaomi বাংলাদেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স লঞ্চ করার পর থেকে এয়ার ফ্রায়ার, এয়ার পিউরিফায়ার আর স্মার্ট ক্যামেরার মতো ডিভাইসগুলো এখন অফিসিয়ালভাবে পাওয়া যাচ্ছে। আমি ২৯ আগস্ট ২০২৬-এ mi.com/bd-এর অফিসিয়াল পেজ থেকে প্রতিটি ডিভাইসের দাম আর স্পেসিফিকেশন যাচাই করেছি, আর বাজারদাম Star Tech-এর মতো প্রতিষ্ঠিত রিটেইলার থেকেও মিলিয়ে নিয়েছি।
এই গাইডে Xiaomi-র ৫টি স্মার্ট ডিভাইসের কথা আছে — ১৬৫W পাওয়ার ব্যাংক ১০০০০, এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ লাইট আর দুটি স্মার্ট ক্যামেরা (C201 ও C301)। প্রতিটি ডিভাইসের অফিসিয়াল দাম, বাজারদাম, মূল স্পেসিফিকেশন আর কার জন্য সেটি উপযুক্ত — এই চারটি তথ্যই নিচের টেবিলে এক নজরে রাখা হলো। সব দাম ২৯ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা, আর দামের উৎস প্রতিটি সারিতে আলাদা করে লেখা হয়েছে যাতে আপনি নিজেও যাচাই করতে পারেন।
| ডিভাইস | অফিসিয়াল দাম | বাজারদাম | মূল ফিচার | কার জন্য |
|---|---|---|---|---|
| Xiaomi 165W Power Bank 10000 | ৳ 5,499 | শুধু অফিসিয়াল | 165W আউটপুট, ৯০W সেলফ-চার্জ | ল্যাপটপ-ফোন ভ্রমণকারী |
| Xiaomi Air Fryer 6.5L | ৳ 14,499 | ৳ 14,472 | ৬.৫L, ১৭০০W, ৭ প্রিসেট | রান্না কম তেলে করতে চান |
| Xiaomi Smart Air Purifier 4 Lite | ৳ 22,999 | স্টক নেই | CADR ৩৬০ m³/h, ২৫–৪৩ m² | ধুলোবালি আর অ্যালার্জি |
| Xiaomi Smart Camera C201 | ৳ 3,099 | শুধু অফিসিয়াল | ১০৮০p, ৩৬০° প্যানোরামা | ঘরের ভেতরের নজরদারি |
| Xiaomi Smart Camera C301 | ৳ 4,899 | ৳ 4,590 | ২K, ৩৬০° রোটেশন, টু-ওয়ে ভয়েস | দুই-কথা বলার ক্যামেরা |
টেবিলের অফিসিয়াল দামগুলো mi.com/bd-এর পণ্য পেজ থেকে নেওয়া — ৫,৪৯৯, ১৪,৪৯৯, ২২,৯৯৯, ৩,০৯৯ আর ৪,৮৯৯ টাকা, সবগুলোর সঠিকতা ২৯ আগস্ট ২০২৬-এ পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। বাজারদামে Star Tech-এ এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L মিলছে ১৪,৪৭২ টাকায় (স্টকে আছে), অথচ পাওয়ার ব্যাংক ও এয়ার পিউরিফায়ার সেখানে এখনো আসেনি বলে দাম দেওয়া হয়নি। স্মার্ট ক্যামেরা C301-এর বাজারদাম Extreme Gadgets-এ ৪,৫৯০ টাকা (নিয়মিত ৪,৭০০), আর C201-এর জন্য এখনো কোনো রিটেইলার দাম তালিকাভুক্ত করেনি — অফিসিয়াল দামই নির্ভরযোগ্য।
৫টি ডিভাইসই Mi Home (Xiaomi Home) অ্যাপে যুক্ত হয় — অ্যাপ থেকেই ক্যামেরার লাইভ ভিউ, এয়ার পিউরিফায়ারের গতি আর এয়ার ফ্রায়ারের প্রিসেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাওয়ার ব্যাংকটি ব্যতিক্রম — এতে অ্যাপ কানেক্টিভিটি নেই, তবে ১৬৫W আউটপুটের মতো ফিচারের জন্য এটি আলাদাভাবে জনপ্রিয়। নিচে প্রতিটি ডিভাইসের গভীরে ঢুকে দেখব কী কী সুবিধা পাবেন, আর কোন ডিভাইসটি আপনার দৈনন্দিন জীবনে সত্যিই দরকারি।
১৬৫W পাওয়ার ব্যাংক: ল্যাপটপও চার্জ হয়
Xiaomi 165W Power Bank 10000 (PB1165M) সাধারণ পাওয়ার ব্যাংক নয় — এর দুটি USB-C পোর্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৬৫W আউটপুট দেয়, যা একটি ল্যাপটপও চালাতে পারে। একটি পোর্টে ১২০W আর অন্যটিতে ৪৫W — একসাথে দুটি ডিভাইস চার্জ করলেও মোট ১৬৫W পর্যন্ত যায়, আর বিল্ট-ইন USB-C ক্যাবলে সরাসরি ১২০W পাওয়া যায়। আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো সেলফ-চার্জিং — ৯০W ইনপুটে মাত্র ১৫ মিনিটে ৭৫ শতাংশ চার্জ হয়, যা পাওয়ার ব্যাংক-এর পূর্ণ স্পেক শিটে বিস্তারিত আছে।
ক্ষমতার দিক থেকে এটি ১০০০০mAh-এর সমতুল্য (৩৬Wh, চারটি ২৫০০mAh সেল), আর রেটেড ক্যাপাসিটি ৫৫০০mAh (৫V/৪A) — ফোনের জন্য একাধিকবার, ল্যাপটপের জন্য অন্তত একবার চার্জ হবে। PD2.0, PD3.0, PPS, QC2.0, QC3.0, QC3.5, BC1.2 আর Apple 2.4 — প্রায় সব চার্জিং প্রোটোকল সাপোর্ট করে, তাই iPhone থেকে Android, এমনকি সুইচও চার্জ করা যায়। দাম ৫,৪৯৯ টাকা (অফিসিয়াল), আর আকার ১৪৩×৪৮×৩৬ মিলিমিটার — ছোট জ্যাকেটের পকেটে সহজে ঢোকে, আর বিল্ট-ইন ক্যাবল মানে আলাদা তার বহন করার ঝামেলা নেই।
Star Tech-এর পেজে পাওয়ার ব্যাংকটি এখনো "Up Coming" তালিকায় — অর্থাৎ দেশের বড় রিটেইলারগুলোর স্টকে এখনো আসেনি। এই মুহূর্তে mi.com/bd-এর অফিসিয়াল চ্যানেলেই এটি কেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়, আর অফিসিয়াল দাম ৫,৪৯৯ টাকা। যাদের ল্যাপটপ-ফোন একসাথে চার্জ করতে হয়, কিংবা দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য ৯০W+ চার্জার আছে — তাদের জন্য এই পাওয়ার ব্যাংকটি টাকার পূর্ণ মূল্য দেবে।
এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L: কম তেলে ভাজা
Xiaomi Air Fryer 6.5L (MAF-W6051) ৬.৫ লিটার ঝুড়িতে একটি পুরো মুরগি ফিট করে — চার-পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য যথেষ্ট বড়। ১,৭০০W পাওয়ার আর ডাবল-ফিন স্পাইরাল ফ্যানের ৩৬০° কনভেকশন হিটিং মানে খাবার উল্টানোর দরকার নেই — সব দিক থেকে সমানভাবে ভাজা হয়। অফিসিয়াল দাবি অনুযায়ী ডিপ-ফ্রাইয়ের তুলনায় ৮৮.৩ শতাংশ কম তেল-চর্বি লাগে, আর ২০L কনভেনশনাল ওভেনের চেয়ে ৫১ শতাংশ দ্রুত রান্না হয় — ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ১৮ মিনিটে তৈরি।
৭টি প্রিসেট মোড (ফ্রাই, বেক, রোস্ট ইত্যাদি), ৪০–২১০°C তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, আর ডিভাইসের QR কোড স্ক্যান করলে ১০১টি অনলাইন রেসিপি পাওয়া যায়। টাচ কন্ট্রোল প্যানেল, LED ডিসপ্লে আর Mi Home অ্যাপ সাপোর্ট — ফোন থেকে রান্নার মোড বেছে নেওয়া যায়, যা এই দামের ফ্রায়ারে বিরল। Star Tech-এ এটি ১৪,৪৭২ টাকায় স্টকে আছে (অফিসিয়াল দাম ১৪,৪৯৯), আর এয়ার ফ্রায়ার-এর পেজে পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও ছবি দেখে নিতে পারেন।
ভাজার পাশাপাশি এটি রোস্টিং আর বেকিংয়েও কাজ করে — চিকেন রোস্ট, কেক, এমনকি শুকনা মরিচ ভাজাও এতে হয়। নন-স্টিক ঝুড়ি, হাই-টেম্পারেচার-রেজিস্ট্যান্ট মেটাল বডি আর ৪.৩ কেজি ওজন — রান্নাঘরের কাউন্টারে স্থায়ী জায়গা দরকার হবে, কারণ এটি প্রতিদিন ব্যবহারের মতো ডিভাইস। যারা ডিপ-ফ্রাই ছেড়ে স্বাস্থ্যকর রান্নায় আসতে চান, তাদের জন্য ১৪,৪৯৯ টাকার এই ফ্রায়ারটি দীর্ঘমেয়াদে তেলের খরচও বাঁচাবে।
এয়ার পিউরিফায়ার ৪ লাইট: ধুলোর শহরে
Xiaomi Smart Air Purifier 4 Lite (AC-M17-SC) ৩৬০ m³/h পার্টিকেল CADR দেয় — মানে প্রতি মিনিটে ৬০০০ লিটার পরিষ্কার বাতাস, যা ২৫–৪৩ বর্গমিটার ঘরের জন্য যথেষ্ট। থ্রি-ইন-ওয়ান ফিল্টার ০.৩ মাইক্রোমিটার কণার ৯৯.৯৭ শতাংশ আটকে দেয়, আর ফিল্টারের আয়ু ৬–১২ মাস — ঢাকার ধুলোবালির পরিবেশে এই সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ ৩৩W বিদ্যুৎ খরচ (২৪ ঘণ্টায় প্রায় ০.৮ ইউনিট), আর নাইট মোডে শব্দ মাত্র ৩৩.৪dB(A) — ঘুমের সময়ও চালিয়ে রাখা যায়।
TÜV Rheinland সার্টিফিকেশন আছে, আর H1N1 ভাইরাস, ই. কোলাই, স্ট্যাফিলোকক্কাসের মতো জীবাণু কমানোর দাবিও অফিসিয়াল স্পেক শিটে আছে। ৩৬০° এয়ার ইনটেক, LED ডিসপ্লে, চাইল্ড লক, আর Google Assistant ও Alexa ভয়েস কন্ট্রোল — Mi Home অ্যাপে বাতাসের মান রিয়েল-টাইম দেখা যায়। দাম ২২,৯৯৯ টাকা (অফিসিয়াল), তবে Star Tech-এ এটি আপাতত স্টক-আউট — এয়ার পিউরিফায়ার-এ স্টক ফেরার খবর আর পূর্ণ স্পেক শিট রাখা আছে।
ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রামের মতো শহরে বছরের বড় অংশজুড়ে AQI খারাপ থাকে — অ্যালার্জি, হাঁপানি বা ছোট শিশু থাকা বাড়িতে এটি ব্যবহারিক সমাধান। ফিল্টার প্রতি ৬–১২ মাসে বদলাতে হয়, তাই কেনার আগে ফিল্টারের দামও জেনে রাখা ভালো — Star Tech-এ আলাদা ফিল্টার বিক্রি হচ্ছে। এয়ার কন্ডিশনারের সাথে এটি ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস ঠান্ডা আর পরিষ্কার দুটোই থাকে, তবে রুমের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয় সঠিক ফল পেতে।
স্মার্ট ক্যামেরা C201 বনাম C301
দুটি ক্যামেরার কাজ এক — ঘরের ভেতরের নজরদারি — কিন্তু রেজোলিউশন আর ফিচারে পার্থক্য স্পষ্ট, আর দামের ফারাক ১,৮০০ টাকা। C201 ১০৮০p ফুল এইচডি (১৯২০×১০৮০, ২MP) ছবি দেয়, অথচ C301 ২K (২৩০৪×১২৯৬, ৩MP) — ৫০ শতাংশ বেশি পিক্সেল, তাই জুম করলে বিবরণ বেশি স্পষ্ট। দুটি ক্যামেরাতেই ৩৬০° ঘোরার সুবিধা আছে, তবে C201-এ প্যানোরামিক মনিটরিং আর C301-এ প্যান-টিল্ট রোটেশন — C301-এ ১০৭° ফিল্ড অফ ভিউ ছাড়াও ৫ মিটার দূর থেকে টু-ওয়ে ভয়েস কল করা যায়।
দুটি ক্যামেরাই Wi-Fi দিয়ে চলে (C201 Wi-Fi 6, C301 Wi-Fi 4), microSD কার্ড (৮–২৫৬GB) বা AES-128 এনক্রিপ্টেড ক্লাউডে ভিডিও সেভ করে। MJA1 সিকিউরিটি চিপ দুটোতেই আছে — ফাইন্যান্স-গ্রেড ডেটা প্রোটেকশন, তাই ভিডিও ফিডে অননুমোদিত প্রবেশ কঠিন। C201-এর অফিসিয়াল দাম ৩,০৯৯ টাকা আর পূর্ণ স্পেকের জন্য C201 ক্যামেরা-এর পেজটি দেখুন; C301-এর অফিসিয়াল দাম ৪,৮৯৯ টাকা, Extreme Gadgets-এ ৪,৫৯০ টাকায়ও মিলছে (C301 ক্যামেরা)।
যারা শুধু ঘরে কে ঢুকল দেখতে চান, তাদের জন্য ৩,০৯৯ টাকার C201-ই যথেষ্ট — রাতে ইনফ্রারেড নাইট ভিশন দুটোতেই আছে। আর যারা বাচ্চা, বয়স্ক আত্মীয় বা পোষা প্রাণীর সাথে কথা বলতে চান, তাদের জন্য C301-এর টু-ওয়ে ভয়েস আর ২K ছবিই সঠিক বিনিয়োগ। দুটি ক্যামেরার পাওয়ার 5V/1A — সাধারণ ফোন চার্জার বা USB পোর্টেই চলে, আর মাউন্টিং স্ক্রু বাক্সের ভেতরেই দেওয়া থাকে।
Mi Home অ্যাপে সব এক নিয়ন্ত্রণে
৫টি ডিভাইসের ৪টিই Mi Home অ্যাপে যুক্ত হয় — অ্যাপটি Android ৮ আর iOS ১২ বা তার উপরে চলে, আর সেটআপে সাধারণত দুই মিনিটের বেশি লাগে না। একটি অ্যাকাউন্টে সব ডিভাইস থাকায় অ্যাপ খুলেই দেখতে পাবেন ঘরের বাতাস কেমন, ফ্রায়ার কোন মোডে আছে, আর ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ। ক্যামেরার মোশন অ্যালার্ট, পিউরিফায়ারের অটো মোড, ফ্রায়ারের প্রিসেট — সব অটোমেশন ফোন থেকেই সেট করা যায়, আর একাধিক ফ্যামিলি মেম্বারও শেয়ার করতে পারেন।
Xiaomi ইকোসিস্টেমে আগে থেকে থাকলে সুবিধা আরও বাড়ে — ফিটনেস ব্যান্ড, স্মার্টওয়াচ বা Xiaomi ফোনের সাথে এই ডিভাইসগুলো একই অ্যাপে চলে। আগের গাইডে TV A Pro সিরিজ-এর দাম আর TV S সিরিজ-এর সাইজ তুলনা দেখানো হয়েছে — টিভির সাথে এই ডিভাইসগুলো একই ইকোসিস্টেমের অংশ। সব Xiaomi ডিভাইস একসাথে মানেই একটি স্মার্ট হোম — আর বাজেট অনুযায়ী ধাপে ধাপে যোগ করা যায়, যেমনটি Samsung বনাম Xiaomi তুলনা-তে আলোচনা করেছি।
অ্যাপ ছাড়া ডিভাইসগুলো পুরোপুরি কাজ করে কি না — জানার জন্য মনে রাখুন, ক্যামেরা আর পিউরিফায়ারের অটোমেশন ফিচার অ্যাপ-নির্ভর। পাওয়ার ব্যাংকটি একমাত্র ডিভাইস যার কোনো অ্যাপ নেই — প্লাগ করলেই চার্জ দেওয়া শুরু হয়। নেটওয়ার্ক না থাকলেও ক্যামেরার লাইভ ভিউ লোকাল ওয়াইফাইতে দেখা যায়, তবে দূর থেকে দেখতে ইন্টারনেট লাগবেই।
কোথায় কিনবেন: দাম যাচাইয়ের নিয়ম
৫টি ডিভাইসের মধ্যে ৩টি (ফ্রায়ার, C201, C301) এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, আর পাওয়ার ব্যাংক ও পিউরিফায়ার অফিসিয়াল চ্যানেলে সীমিত। এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L Star Tech-এ ১৪,৪৭২ টাকায় স্টকে আছে — অফিসিয়াল দামের চেয়ে সামান্য কম, আর C301 Extreme Gadgets-এ ৪,৫৯০ টাকায় মিলছে। পাওয়ার ব্যাংক (৫,৪৯৯) আর পিউরিফায়ার (২২,৯৯৯) এখনো রিটেইলার স্টকে আসেনি, তাই এই দুটির জন্য mi.com/bd-এর অফিসিয়াল পেজই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
আমদানিকৃত বা নন-অফিসিয়াল ইউনিট কিছুটা কম দামে মিলতে পারে, তবে সেগুলোতে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি থাকবে না — Xiaomi ডিভাইসের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ক্লেইম জরুরি। কোন দাম কীভাবে যাচাই করা হয়, সে পদ্ধতির বিস্তারিত দাম যাচাই পদ্ধতি পেজে লেখা আছে — প্রতিটি দামের উৎস সেখানে স্বচ্ছভাবে দেওয়া। কেনার আগে দু-তিনটি দোকানের দাম মিলিয়ে নেওয়াই ভালো, কারণ নতুন ডিভাইসের দাম প্রথম কয়েক মাসে ওঠানামা করে — যেমন C301-এর বাজারদাম অফিসিয়াল দামের চেয়ে প্রায় ৩০০ টাকা কম।
Xiaomi-র পুরো ক্যাটালগ দেখতে চাইলে সব মোবাইল ডিভাইসের তালিকা আর তুলনা টুল-এ ঘুরে দেখতে পারেন। বাজেট-বান্ধব স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের কথাও ভাবছেন — তাহলে ফিটনেস ব্যান্ড গাইড পড়ে নিন, Xiaomi-র ব্যান্ডগুলো এই ইকোসিস্টেমের সস্তা এন্ট্রি পয়েন্ট। আরও কেনাকাটার গাইডের জন্য বায়িং গাইড বিভাগ-এ চোখ রাখুন — প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট যোগ হচ্ছে।
কোন ডিভাইসটি কার জন্য সঠিক
বাজেট ৫ হাজার টাকার নিচে আর ফোন-ল্যাপটপ চার্জিংয়ের গতি বাড়াতে চান — ১৬৫W পাওয়ার ব্যাংক ৫,৪৯৯ টাকায় আপনার উত্তর। রান্নাঘরে স্বাস্থ্যকর রান্না আর বড় পরিবারের জন্য এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L — ১৪,৪৯৯ টাকার এই ডিভাইসটি তেলের খরচ বাঁচিয়ে দ্রুত ফল দেয়। ধুলোবালির শহরে অ্যালার্জি বা হাঁপানি থাকলে এয়ার পিউরিফায়ার ৪ লাইট ২২,৯৯৯ টাকা — তবে কেনার আগে ফিল্টারের খরচও হিসাবে রাখুন।
ঘরে কে ঢুকল, বাচ্চা কি ঠিকঠাক আছে — শুধু দেখতে চাইলে C201 ৩,০৯৯ টাকা যথেষ্ট, আর কথা বলতে চাইলে C301 ৪,৮৯৯ টাকা। একসাথে একাধিক ডিভাইস নিতে চাইলে ফ্রায়ার আর C301-এর কম্বো সবচেয়ে জনপ্রিয় — রান্নাঘর আর বাচ্চার ঘর দুই জায়গাতেই কাজে লাগে। বাজেট ভাগ করে ধাপে ধাপে যাওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ — প্রথম মাসে ক্যামেরা, পরের মাসে ফ্রায়ার, এভাবে ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারেন।
প্রতিটি ডিভাইসের পূর্ণ স্পেসিফিকেশন, ছবির গ্যালারি আর দামের আপডেট KoyTaka-র পণ্য পেজগুলোতে থাকে — পাওয়ার ব্যাংক, এয়ার ফ্রায়ার, পিউরিফায়ার, C201 আর C301-এর পেজে। দাম আর স্টক পরিবর্তনশীল — কেনার দিনই সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ, আর এই গাইডের দামগুলো ২৯ আগস্ট ২০২৬-এর হিসাব। আপনার প্রয়োজন আর বাজেট মিলিয়ে কোন ডিভাইসটি সঠিক, সেটি নিয়ে নিশ্চিত না হলে নিচের প্রশ্নোত্তরগুলো পড়ে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
Xiaomi স্মার্ট ডিভাইসের অফিসিয়াল দাম বাংলাদেশে কত?
২৯ আগস্ট ২০২৬-এ mi.com/bd থেকে যাচাই করা অফিসিয়াল দাম — ১৬৫W পাওয়ার ব্যাংক ৫,৪৯৯, এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L ১৪,৪৯৯, এয়ার পিউরিফায়ার ৪ লাইট ২২,৯৯৯, ক্যামেরা C201 ৩,০৯৯ আর C301 ৪,৮৯৯ টাকা। বাজারদাম সামান্য কম হতে পারে — Star Tech-এ ফ্রায়ার ১৪,৪৭২ টাকায়, আর Extreme Gadgets-এ C301 ৪,৫৯০ টাকায় মিলছে। পাওয়ার ব্যাংক আর পিউরিফায়ার এখনো রিটেইলার স্টকে না আসায় অফিসিয়াল দামই একমাত্র ভরসা।
Xiaomi 165W পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ল্যাপটপ চার্জ হয় কি?
হ্যাঁ — ১৬৫W মোট আউটপুটের মধ্যে একটি পোর্টে ১২০W পর্যন্ত পাওয়া যায়, যা বেশিরভাগ আধুনিক ল্যাপটপের চার্জারের সমান। PD3.0, PPS আর QC3.5 প্রোটোকল থাকায় MacBook, Dell, Lenovo-সহ প্রায় সব USB-C ল্যাপটপের সাথে কাজ করে। নিজের ল্যাপটপের চার্জিং ওয়াটেজ আগে জেনে নিন — ১০০W ল্যাপটপ ১২০W পোর্টে স্বাভাবিকভাবে চার্জ হবে।
এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫L-এ কি পুরো মুরগি ভাজা যায়?
হ্যাঁ — ৬.৫ লিটার ঝুড়িতে একটি পুরো মুরগি, এমনকি মুরগির দুই পিস রোস্টও সহজে ফিট করে। ৩৬০° কনভেকশন হিটিংয়ের কারণে মুরগি উল্টানোর দরকার হয় না — সব দিক সমানভাবে বাদামি হয়। ৪০–২১০°C তাপমাত্রা রেঞ্জে রোস্ট, বেক আর ফ্রাই — তিন ধরনের রান্নাই এই একটি ডিভাইসে হয়।
এয়ার পিউরিফায়ার ৪ লাইট কি ঢাকার ধুলোর জন্য যথেষ্ট?
২৫–৪৩ বর্গমিটার ঘরের জন্য CADR ৩৬০ m³/h যথেষ্ট — একটি স্ট্যান্ডার্ড বেডরুম বা ছোট লিভিংরুম পুরোপুরি কভার হয়। ঢাকার AQI-এর মতো ভারী দূষণেও ৯৯.৯৭ শতাংশ ফিল্ট্রেশন কাজ করে, তবে জানালার পাশে নয়, ঘরের মাঝামাঝি রাখা ভালো। ফিল্টার ৬–১২ মাসে বদলাতে হয় — ঢাকার ধুলোবালিতে সম্ভবত ৬ মাসেই বদলাতে হবে, তাই ফিল্টারের খরচ মাথায় রাখুন।
C201 আর C301 ক্যামেরার মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রধান পার্থক্য রেজোলিউশনে — C201 ১০৮০p (২MP), C301 ২K (৩MP) — আর দামের ফারাক ১,৮০০ টাকা। C301-এ ৩৬০° প্যান-টিল্ট রোটেশন, ১০৭° ফিল্ড অফ ভিউ আর ৫ মিটার দূর থেকে টু-ওয়ে ভয়েস কল আছে — C201-এ প্যানোরামিক মনিটরিং আছে কিন্তু ভয়েস কলের সুবিধা সীমিত। দুটি ক্যামেরাতেই নাইট ভিশন, microSD/ক্লাউড স্টোরেজ আর MJA1 সিকিউরিটি চিপ আছে — বাজেট কম হলে C201, বেশি ফিচার চাইলে C301 ধরুন।


