Xiaomi TV S Mini LED 65 দাম ও স্পেসিফিকেশন ২০২৬

৬৫ ইঞ্চির একটি ভালো টিভি কিনতে বাংলাদেশে এখন প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয় — কিন্তু Xiaomi TV S Mini LED 65 ২০২৬ সেই হিসাবটা বদলে দিচ্ছে। মিনি LED প্রযুক্তির এই টিভির অফিসিয়াল দাম ৳ ১,৪১,৯৯৯, আর বাজারের অনুমোদিত রিটেইলারদের কাছে ৳ ১,০৯,৮৯৯ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে। ৩৮৪টি ব্যাকলাইট জোন আর ১২০০ nits ব্রাইটনেসের মতো ফিচার এই দামে আগে কোনো ৬৫ ইঞ্চি টিভিতে ছিল না।
এই লেখায় mi.com/bd-এর অফিসিয়াল পেজ আর অফিসিয়াল স্পেক শিট থেকে যাচাই করা তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। অফিসিয়াল দামের পাশাপাশি বাজারের রিটেইলার দামও আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে, কারণ দুটোর মধ্যে বড় ব্যবধান অনেক ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে। ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সব দাম ও স্পেসিফিকেশন হালনাগাদ।
প্রথমে দাম ও মূল ফিচারের টেবিল, তারপর ডিসপ্লে, গেমিং, স্মার্ট ফিচার, সাউন্ড আর Mini LED বনাম সাধারণ LED-এর তুলনা ধাপে ধাপে থাকছে। কাদের জন্য এই টিভি উপযুক্ত আর কার জন্য নয়, সেটাও স্পষ্ট করে বলা হবে। শেষে টিভিটি নিয়ে মানুষের সবচেয়ে সাধারণ পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে।
Xiaomi TV S Mini LED 65 দাম ও স্পেসিফিকেশন ২০২৬
নিচের টেবিলে Xiaomi TV S Mini LED 65 2026-এর অফিসিয়াল দাম, বাজারদর আর মূল স্পেসিফিকেশন এক নজরে দেওয়া হলো। অফিসিয়াল দাম বলতে mi.com/bd-এর তালিকাভুক্ত মূল্য বোঝানো হয়েছে, আর বাজারদর বলতে ঢাকার প্রধান রিটেইলারদের বর্তমান বিক্রয়মূল্য। টেবিলের সব তথ্য ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে যাচাই করা।
| বিষয় | স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| অফিসিয়াল দাম (mi.com/bd) | ৳ ১,৪১,৯৯৯ |
| বাজারদর (রিটেইলার) | ৳ ১,০৯,৮৯৯ – ৳ ১,২৫,৯৯৯ |
| ডিসপ্লে | ৬৫″ 4K (৩,৮৪০×২,১৬০) QD-Mini LED |
| ব্যাকলাইট জোন | ৩৮৪টি |
| পিক ব্রাইটনেস | ১২০০ nits পর্যন্ত |
| কালার গ্যামুট | DCI-P3 ৯৪% |
| রিফ্রেশ রেট | ৬০Hz (গেম বুস্টে ১২০Hz ইনপুট) |
| অপারেটিং সিস্টেম | Google TV |
| র্যাম ও স্টোরেজ | ২GB + ৩২GB |
| সাউন্ড | ২×১৫W স্টিরিও |
| কানেক্টিভিটি | HDMI 2.1 ×১, HDMI 2.0 ×২ (eARC) |
| স্ট্যাটাস | অফিসিয়ালি উপলব্ধ (১৫ আগস্ট ২০২৬) |
অফিসিয়াল ই-স্টোরের দাম ৳ ১,৪১,৯৯৯ হলেও বাজারে এই টিভি ৳ ১,০৯,৮৯৯ থেকে ৳ ১,২৫,৯৯৯-এর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্টার টেক, ড্যাজল, সিকদার ইলেকট্রনিক্স, সুমাশ টেকসহ বড় রিটেইলারদের তালিকাভুক্ত দামেই এই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রিটেইলারভেদে ওয়ারেন্টি, ডেলিভারি আর ইন্সটলেশন সুবিধা ভিন্ন হয় বলে দামের ব্যবধানটাও স্বাভাবিক।
অর্থাৎ যিনি অফিসিয়াল ই-স্টোর থেকে কিনবেন, তিনি ৳ ১,৪১,৯৯৯ দেবেন, আর রিটেইলার থেকে কিনলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাঁচতে পারেন। তবে কোনো দামই চিরস্থায়ী নয় — অফার আর স্টক অনুযায়ী এগুলো বদলায়। কেনার আগে কয়েকটি দোকানের বর্তমান দাম জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো।
QD-Mini LED ডিসপ্লে: ৩৮৪-জোন ডিমিং কেন দরকারি
সাধারণ LED টিভিতে পুরো স্ক্রিনের পেছনে কয়েক ডজন লাইট থাকে, তাই ছবির এক অংশ উজ্জ্বল করলে আশপাশও উজ্জ্বল হয়ে যায়। Xiaomi TV S Mini LED 65-এ সেই কাজ করে ৩৮৪টি আলাদা ব্যাকলাইট জোন — প্রতিটি জোন স্বাধীনভাবে উজ্জ্বল বা নিভিয়ে দেওয়া যায়। এই জোনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণই মিনি LED-কে সাধারণ LED থেকে আলাদা করে।
ফলে অন্ধকার দৃশ্যে আকাশের তারা আর রাতের শহরের আলো — দুটোই আলাদাভাবে ফুটে ওঠে, আর সাদা অংশে থাকে পূর্ণ উজ্জ্বলতা। QD বা কোয়ান্টাম ডট প্রযুক্তি রঙের বিশুদ্ধতা বাড়ায়, আর DCI-P3 কালার গ্যামুট ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত। HDR10+, HLG আর ফিল্মমেকার মোডের সাপোর্ট থাকায় নেটফ্লিক্স, ডিজনি বা ইউটিউব — যেকোনো উৎসের কনটেন্টে ছবির মান ধারাবাহিক থাকে।
পিক ব্রাইটনেস ১২০০ nits পর্যন্ত, যা দিনের আলোয় বসার ঘরেও ছবি পরিষ্কার রাখে। ১৭৮ ডিগ্রি ভিউইং অ্যাঙ্গেলের কারণে পাশ থেকে দেখলেও রঙের বদল চোখে পড়ে না। চোখের ক্লান্তি কমাতে লো-ব্লু-লাইট অ্যালগরিদম আর ২০KHz আল্ট্রা-হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ডিমিং-এর কথা কোম্পানি জানিয়েছে।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি — প্যানেলটি নেটিভ ৬০Hz, আর 4K MEMC মোশন প্রসেসিংও ৬০Hz-এ সীমাবদ্ধ। যারা ১২০Hz নেটিভ প্যানেলের কথা ভেবেছেন, তাদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সমন্বয়। ছবির মানের দিক থেকে মিনি LED-এর সুবিধা অবশ্য এই সীমাবদ্ধতাকে অনেকটাই ঢেকে দেয়।
৪K রেজোলিউশনের মানে ৩৮৪০×২১৬০ পিক্সেল, আর ৬৫ ইঞ্চি স্ক্রিনে এই ঘনত্বে ছবি থাকে ধারালো। ইউটিউব বা সেট-টপ বক্সের ১০৮০p কনটেন্টও টিভি নিজে থেকেই ৪K-তে স্কেল করে দেখায়। MEMC প্রযুক্তি স্পোর্টস আর অ্যাকশন দৃশ্যে মোশন ব্লার কমাতে সাহায্য করে।
গেমিং ও কানেক্টিভিটি: HDMI 2.1 আর গেম বুস্ট
কনসোল গেমারদের জন্য এই টিভিতে আছে HDMI 2.1 পোর্ট, যেখানে ALLM আর CEC সাপোর্ট বিল্ট-ইন। ফলে PlayStation বা Xbox কানেক্ট করলে টিভি নিজে থেকেই গেম মোডে চলে যায়। HDMI 2.1 ছাড়াও আছে দুটি HDMI 2.0 পোর্ট, আর দ্বিতীয় পোর্টটি eARC সাপোর্ট করে।
গেম বুস্ট মোড চালু করলে ১০৮০p বা ১৪৪০p রেজোলিউশনে ১২০Hz পর্যন্ত ইনপুট সিগন্যাল চলতে পারে, যা স্পোর্টস আর অ্যাকশন গেমে মসৃণতা আনে। তবে পুরো 4K রেজোলিউশনে রিফ্রেশ রেট ৬০Hz-ই থাকবে — এই পার্থক্যটা গেমারদের আগে থেকেই জানা দরকার। অফিসিয়াল স্পেক শিটে প্যানেলের রিফ্রেশ রেট ৬০Hz-ই লেখা আছে।
কানেক্টিভিটির তালিকায় আছে Wi-Fi 5 ডুয়াল-ব্যান্ড, ইথারনেট পোর্ট, USB 2.0 আর ব্লুটুথ 5.0। ৩.৫মিমি হেডফোন জ্যাক নেই বলে পুরনো ওয়্যার্ড হেডফোন সরাসরি লাগানো যাবে না। কাস্টিংয়ের জন্য Google Cast, Miracast আর Apple AirPlay — তিনটিই আছে।
Google TV: অ্যাপ, অ্যাসিস্ট্যান্ট আর কাস্টিং
অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আছে গুগলের নিজস্ব Google TV, যেখানে প্লে স্টোরের হাজার হাজার অ্যাপ চলে। ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম — বাংলাদেশে জনপ্রিয় সব স্ট্রিমিং অ্যাপই সহজলভ্য। হোম স্ক্রিনে কনটেন্টের সুপারিশ নিজে থেকেই সাজানো হয়, তাই অ্যাপ খুঁজতে ঘুরতে হয় না।
ভয়েস রিমোটে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে, ফলে কথা বলে সার্চ করা বা অ্যাপ খোলা যায়। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের ভাষা সাপোর্ট দেশভেদে ভিন্ন হয়, তাই কেনার আগে বর্তমান সাপোর্টেড ভাষা জেনে নেওয়াই ভালো। Xiaomi-র ফোন থেকে কাস্ট করলে ডিভাইসগুলোর মধ্যে সংযোগ সবচেয়ে মসৃণ হয়।
ব্র্যান্ড নিয়ে তুলনা করতে চাইলে Samsung বনাম Xiaomi লেখাটিও পড়ে দেখতে পারেন। সেখানে দাম, ফিচার আর আফটার-সেলস সাপোর্ট — কোন দিকে কোন ব্র্যান্ড এগিয়ে, সেটা আলোচনা করা হয়েছে। টিভির পাশাপাশি ফোন বা অন্য ডিভাইসেও এই তুলনা কাজে লাগে।
র্যাম ২GB আর স্টোরেজ ৩২GB — স্মার্ট টিভির হিসেবে এটা সীমিত, তবে দৈনন্দিন স্ট্রিমিং অ্যাপে সমস্যা হয় না। একসঙ্গে অনেক ভারী অ্যাপ খুললে মাঝে মাঝে ধীরগতি টের পেতে পারেন। এই দামের ৬৫ ইঞ্চি টিভিতে এটাই বর্তমান বাস্তবতা।
সাউন্ড সিস্টেম: ২×১৫W স্টিরিও স্পিকার
বিল্ট-ইন সাউন্ডে আছে দুটি ১৫W স্টিরিও স্পিকার, যা সিরিয়াল, খবর আর ইউটিউবের জন্য যথেষ্ট। ডলবি অডিও আর DTS:X সাপোর্টের কথা কোম্পানি জানালেও গভীর ব্যাসের আশা না করাই ভালো। ২৮০W পাওয়ার খরচের টিভির জন্য বিল্ট-ইন স্পিকারকে ব্যাকআপ হিসেবেই ভাবুন।
সিনেমা বা গেমের পূর্ণ অভিজ্ঞতা চাইলে eARC পোর্টের মাধ্যমে সাউন্ডবার বা হোম থিয়েটার জুড়ে নেওয়াই ভালো। মাঝারি দামের একটি সাউন্ডবারও এই টিভির ছবির মানের সঙ্গে মানানসই। অপটিক্যাল ডিজিটাল আউটপুট থাকায় পুরনো অডিও সিস্টেমেও কাজ চলবে।
eARC মানে টিভি থেকে সাউন্ডবারে অডিও ফিরিয়ে পাঠানো যায়, ফলে সাউন্ডবারে আলাদা করে কোনো ডিভাইস জুড়তে হয় না। একাধিক ডিভাইসের অডিওর জন্য সাউন্ডবারের নিজস্ব ইনপুট ব্যবহার করা যায়। সাধারণ সিরিয়াল-খবর দেখার জন্য অবশ্য বিল্ট-ইন স্পিকারই যথেষ্ট।
Mini LED বনাম সাধারণ LED: কোনটি কিনবেন
বাংলাদেশের বাজারে ৬৫ ইঞ্চি 4K টিভি মানেই সাধারণ LED, মিনি LED আর OLED — এই তিন স্তরের মধ্যে বেছে নেওয়া। সাধারণ LED সবচেয়ে সাশ্রয়ী, আর OLED ছবির মানে সেরা হলেও দাম অনেক বেশি। মিনি LED দুইয়ের মাঝামাঝি — LED-এর মতো সহনীয় দামে OLED-এর কাছাকাছি কনট্রাস্ট।
সাধারণ LED-তে ব্যাকলাইট থাকে স্ক্রিনের কিনারায়, তাই ছবির মাঝখান উজ্জ্বল আর কোণগুলো তুলনামূলক ফ্যাকাশে দেখায়। মিনি LED-তে হাজার হাজার ছোট লাইট পুরো স্ক্রিনে ছড়ানো থাকে, ফলে আলো সমানভাবে পড়ে। রাতের দৃশ্য, সিনেমার অন্ধকার অংশ আর বড় স্ক্রিনে স্পোর্টস — এই তিন ক্ষেত্রে পার্থক্যটা চোখে পড়ে।
OLED এখনও কনট্রাস্ট আর কালোর গভীরতায় সেরা, তবে দাম, বার্ন-ইন ঝুঁকি আর উজ্জ্বলতা — তিন দিকেই মিনি LED-এর চেয়ে পিছিয়ে। মিনি LED দিনের আলোয় বেশি উজ্জ্বল থাকে আর দীর্ঘমেয়াদে স্ক্রিন বার্ন-ইনের ঝুঁকিও কম। ১-১.৫ লাখ টাকার বাজেটে সিনেমা আর গেমিং দুটোই চাইলে মিনি LED-ই বুদ্ধিমানের পছন্দ।
ডিসপ্লে প্রযুক্তির মূল পার্থক্য নিয়ে আমরা আগেও বিস্তারিত লিখেছি — সেটি পড়লে LED, AMOLED আর Mini LED-এর তুলনা আরও পরিষ্কার হবে। টিভি কেনার আগে সেই লেখাটি একবার দেখে নেওয়াটা দরকারি। সবশেষে নিজের চোখেই টিভিটি দেখে নেওয়ার বিকল্প নেই।
কাদের জন্য উপযুক্ত, কার জন্য নয়
যারা নেটফ্লিক্স, ইউটিউব আর ডিজনিতে 4K কনটেন্ট দেখেন, দিনের আলোয়ও পরিষ্কার ছবি চান — তাদের জন্য এই টিভি উপযুক্ত। গুগল ইকোসিস্টেমে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি স্বাভাবিক পছন্দ, কারণ কাস্টিং আর ভয়েস নিয়ন্ত্রণ মসৃণ। PlayStation বা Xbox-এর মালিকদের জন্য HDMI 2.1 আর গেম বুস্ট বড় প্লাস।
যারা নেটিভ ১২০Hz প্যানেলের টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি নয় — এই টিভির প্যানেল ৬০Hz, আর গেম বুস্ট সীমিত রেজোলিউশনে কাজ করে। শুধু সেট-টপ বক্সে চ্যানেল দেখার মতো সাধারণ ব্যবহারে ৩০-৪০ হাজার টাকার LED-ও কাজ চালিয়ে দেবে। আর ৬৫ ইঞ্চি টিভি মানে দেখার দূরত্বও দরকার — ২.৫ মিটার বা তার বেশি।
ছোট ফ্ল্যাটে ৬৫ ইঞ্চি মাপটা বড় ঠেকতে পারে, তাই আগে দেয়ালে মাপ নিয়ে নেওয়াই ভালো। টিভির ওজন স্ট্যান্ডসহ প্রায় ১৬.৩ কেজি, তাই মাউন্ট বা স্ট্যান্ড দুটোই ভালো মানের হতে হবে। ছোট স্ক্রিনে কাজ সেরে নিতে চাইলে ট্যাবলেটের গাইড দেখে নিতে পারেন।
বাচ্চাদের জন্য টিভি মানে কার্টুন আর ইউটিউব কিডস, আর Google TV-তে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের অপশন থাকে। গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন-ইন করলে পরিবারের প্রত্যেকের জন্য আলাদা প্রোফাইলও বানানো যায়। এতে বড়দের কনটেন্ট আর বাচ্চাদের দেখা কনটেন্ট আলাদা থাকে।
কোথায় কিনবেন: অফিসিয়াল নাকি রিটেইলার
অফিসিয়াল mi.com/bd থেকে কিনলে নিশ্চিত অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আর সরাসরি কোম্পানির সাপোর্ট পাওয়া যায়, তবে দাম ৳ ১,৪১,৯৯৯। বড় রিটেইলারদের কাছ থেকে কিনলে দাম কম, কিন্তু ওয়ারেন্টি কে দিচ্ছে আর কোন শর্তে — সেটা আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়া জরুরি। কিছু দোকান ইন্সটলেশন ফ্রি দেয়, কেউ কেউ আলাদা চার্জ নেয়।
কেনার সময় ডেলিভারির আগেই বক্সের সিল, রিমোট আর আনুষঙ্গিক অংশ পরীক্ষা করে নেওয়ার অভ্যাস রাখুন। ইনভয়েসে মডেল নাম্বার আর ওয়ারেন্টি কার্ডের মিল যাচাই করাটাও বাধ্যতামূলক। আমাদের ডিভাইস ক্যাটাগরি পেজে এই টিভিসহ অন্যান্য ডিভাইসের তালিকা পাবেন।
অফার আর নতুন স্টক নিয়ে হালনাগাদ থাকতে আমাদের টেক নিউজ বিভাগে চোখ রাখতে পারেন। রিটেইলারদের অনলাইন দাম আর শোরুমের দাম অনেক সময়ে আলাদা হয়, তাই দুটোই যাচাই করাই ভালো। বড় কেনাকাটায় একাধিক দোকানের কোটেশন নেওয়া কখনো খারাপ না।
অনলাইনে অর্ডার করলে ডেলিভারির সময় বক্স খুলে টিভি দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে নীতিটা দোকানভেদে আলাদা। স্ক্রিনে ফাটল বা দাগ চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করা জরুরি। ইন্সটলেশন পরিষেবা দোকান থেকে আলাদা করে নিতে হয় কি না, সেটাও অর্ডারের আগেই জেনে নিন।
দামের পার্থক্য নিয়ে সৎ কথা
অফিসিয়াল দাম আর বাজারদরের মধ্যে ১৬-৩০ হাজার টাকার ব্যবধান কেন, সেটাই প্রথমে পরিষ্কার করা যাক। অফিসিয়াল ই-স্টোর তালিকাভুক্ত দামে বিক্রি করে, আর রিটেইলাররা নিজেদের মার্জিন কমিয়ে অফারে বিক্রি করে। এছাড়া কিছু দোকান ভ্যাট বা ডেলিভারি চার্জ আলাদাভাবে দেখায়, যা সামগ্রিক খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
মার্কেটিং পেজে এই টিভির রিফ্রেশ রেট নিয়ে ১২০Hz-এর কথা দেখা যায়, কিন্তু অফিসিয়াল স্পেক শিট অনুযায়ী প্যানেলটি নেটিভ ৬০Hz। গেম বুস্ট মোডে ১০৮০p বা ১৪৪০p রেজোলিউশনে ১২০Hz ইনপুট চললেও 4K-তে সেটি প্রযোজ্য নয়। তাই শুধু লেবেল দেখে নয়, স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
আমাদের দাম যাচাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে প্রাইস মেথডোলজি পেজটি দেখতে পারেন। এই লেখায় উল্লিখিত সব দাম ১৫ আগস্ট ২০২৬-এ যাচাই করা, আর বর্তমান দামের জন্য পণ্যের পেজই নির্ভরযোগ্য উৎস। অফার শেষ হলে রিটেইলারদের দাম দ্রুত বদলায়, তাই কেনার আগে একবার যাচাই করে নিন।
নতুন প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মাসে দাম তুলনামূলক বেশি থাকে, পরে অফারে কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই জরুরি না হলে বড় উৎসবের আগে অপেক্ষা করাও যুক্তিসঙ্গত। তবে স্টক শেষ হয়ে গেলে পরের চালানে দাম আবার বদলাতে পারে।
শেষ সিদ্ধান্ত: Xiaomi TV S Mini LED 65
১-১.৫ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ ইঞ্চিতে সেরা ছবির মান চাইলে Xiaomi TV S Mini LED 65 ২০২৬-ই বর্তমানে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পছন্দ। ৩৮৪ জোনের মিনি LED ব্যাকলাইট, ১২০০ nits ব্রাইটনেস আর Google TV — এই তিনটি ফিচারই এই দামে বিরল। একমাত্র বড় ছাড় হলো নেটিভ ৬০Hz প্যানেল, যা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য।
যারা সিনেমা, সিরিজ আর স্ট্রিমিং কনটেন্টে দিন কাটান, তাদের জন্য এই টিভি টাকার পূর্ণ মূল্য দেবে। গেমাররা পাবেন গেম বুস্ট আর HDMI 2.1-এর সুবিধা, আর পরিবারের সবাই পাবেন সহজ Google TV অভিজ্ঞতা। অফিসিয়াল দাম ৳ ১,৪১,৯৯৯ হলেও বাজারের রিটেইলার দামে এটি ১.১ লাখ টাকার কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে।
আমাদের সব রিভিউ আর কেনাকাটার গাইড দেখে অন্য প্রোডাক্টের সঙ্গেও তুলনা করে নিতে পারেন। বড় কেনাকাটার আগে দোকানে গিয়ে টিভিটি হাতে দেখে নেওয়ার বিকল্প নেই। আপনার বাজেট আর ব্যবহার বুঝে সিদ্ধান্ত নিলে এই টিভি আপনাকে হতাশ করবে না।
Xiaomi TV S Mini LED 65 নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
Xiaomi TV S Mini LED 65 কি ওয়াল মাউন্ট করা যায়?
হ্যাঁ, টিভিতে ৩০০×৩০০ মিলিমিটারের VESA ওয়াল মাউন্ট সাপোর্ট আছে। টিভির ওজন স্ট্যান্ডবিহীন অবস্থায় প্রায় ১৬ কেজি, তাই ভালো মানের মাউন্ট ব্র্যাকেট ব্যবহার করা জরুরি। দেয়ালের ধরন অনুযায়ী সঠিক স্ক্রু আর প্লাগ ব্যবহার না করলে ঝুঁকি থাকে।
এই টিভিতে ব্লুটুথ হেডফোন বা ইয়ারবাড চলে কি?
হ্যাঁ, ব্লুটুথ 5.0 সাপোর্ট থাকায় ওয়্যারলেস হেডফোন বা ইয়ারবাড কানেক্ট করা যায়। তবে ৩.৫মিমি হেডফোন জ্যাক নেই, তাই পুরনো ওয়্যার্ড হেডফোন সরাসরি লাগানো যাবে না। ব্লুটুথ সাউন্ডবার বা স্পিকারও পেয়ার করা যায়।
টিভির বিদ্যুৎ খরচ কত?
অফিসিয়াল স্পেক শিট অনুযায়ী টিভিটির পাওয়ার কনজাম্পশন ২৮০W, আর স্ট্যান্ডবাই মোডে ০.৫W-এর কম। দিনে ৬ ঘণ্টা চালালে মাসে প্রায় ৫০ ইউনিটের মতো খরচ হতে পারে। তবে বাস্তব খরচ কনটেন্ট, ব্রাইটনেস আর সাউন্ড লেভেলের ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশে কি ফ্রি টিভি চ্যানেল দেখা যাবে?
অফিসিয়াল স্পেক শিটে DVB-T2+C এবং DVB-S2 টিউনার সাপোর্টের কথা উল্লেখ আছে, যা বাজারের ওপর নির্ভর করে। এর মানে অ্যান্টেনা বা স্যাটেলাইট ডিশে ফ্রি-টু-এয়ার চ্যানেল ধরার ক্ষমতা টিভিতে আছে। তবে বাংলাদেশে বাস্তবে কী কী চ্যানেল পাওয়া যাবে, তা এলাকার সম্প্রচার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
Google TV-তে বাংলা কনটেন্টের অ্যাপ পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, Google TV-তে প্লে স্টোরের পুরো অ্যাপ স্টোর খোলা থাকে, তাই ইউটিউব, নেটফ্লিক্সসহ বাংলা কনটেন্টের সব জনপ্রিয় অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। বাংলা সাবটাইটেল, স্থানীয় সিনেমা, নাটক আর সংবাদ — সব ধরনের কনটেন্টের অ্যাপ প্লে স্টোরে পাওয়া যায়। অ্যাপ ছাড়াও কাস্টিংয়ের মাধ্যমে ফোন থেকে যেকোনো বাংলা কনটেন্ট বড় স্ক্রিনে দেখা যায়।


