Redmi Pad 2 9.7 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন

বাজেট ট্যাবলেটের বাজারে এবার নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে নামল Xiaomi-র Redmi Pad 2 9.7, আর বাংলাদেশে এর অফিসিয়াল দাম শুরু ৳ ২১,৯৯৯ থেকে। জুন ২০২৬-এ দেশের Xiaomi অথরাইজড স্টোরগুলোতে লঞ্চ হয়ে গেছে মডেলটি, তাই নতুন ট্যাবলেটের জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। তবে মডেলটা নতুন বলেই নয়, স্পেক আর দামের হিসাব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক সাইটেই এই ট্যাবলেটের ভুল দাম আর পুরনো Redmi Pad 2-এর স্পেক গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই এই গাইডে শুধু Xiaomi-র অফিসিয়াল স্পেক শিট আর অফিসিয়াল ই-স্টোরের দাম ব্যবহার করেছি। ৯.৭ ইঞ্চি 2K ১২০Hz ডিসপ্লে, Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেট আর ৭৬০০mAh ব্যাটারি — কোন ফিচার কার কাজে লাগবে, সেটাই ধাপে ধাপে দেখাব। শেষে পাঁচটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তরও পাবেন, যেগুলো কিনতে আসা ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি গুগলে খোঁজেন।
Redmi Pad 2 9.7 দাম বাংলাদেশ ২০২৬ — স্পেসিফিকেশন
বাংলাদেশে Redmi Pad 2 9.7 দুটি ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে — শুধু Wi-Fi আর Wi-Fi + 4G। অফিসিয়াল ই-স্টোর mi.com/bd-তে Wi-Fi ভার্সনের দাম ৳ ২১,৯৯৯ আর 4G ভার্সনের দাম ৳ ২৪,৯৯৯, দুটোই ৪GB র্যাম ও ১২৮GB স্টোরেজ কনফিগারেশনে। দামের এই পার্থক্যটা সিম স্লটের জন্য, বাকি স্পেসিফিকেশন দুটি ভার্সনেই প্রায় হুবহু এক।
| বিষয় | স্পেসিফিকেশন |
|---|---|
| লঞ্চ | ২০২৬, এপ্রিল ২৮ (বৈশ্বিক); বাংলাদেশে জুন ২০২৬ |
| অফিসিয়াল দাম | ৳ ২১,৯৯৯ (Wi-Fi) ও ৳ ২৪,৯৯৯ (4G) — ৪GB+১২৮GB |
| ডিসপ্লে | ৯.৭″ 2K (২০৪৮×১২৮০), ১৬:১০, ১২০Hz, ২৫০ ppi |
| উজ্জ্বলতা | ৫০০ nits (টাইপিক্যাল), ৬০০ nits (আউটডোর মোড) |
| চিপসেট | Snapdragon 6s 4G Gen 2 (৬nm), ৮-কোর, ২.৯GHz পর্যন্ত |
| র্যাম ও স্টোরেজ | ৪GB LPDDR4X + ১২৮GB UFS 2.2, microSD ২TB পর্যন্ত |
| ক্যামেরা | ৮MP f/2.0 রিয়ার + ৫MP f/2.2 ফ্রন্ট |
| ব্যাটারি | ৭৬০০mAh, ১৮W চার্জিং (বক্সে ১৫W অ্যাডাপ্টার) |
| সাইজ ও ওজন | ২২৬.৫×১৪৮×৭.৪ মিমি, ৪০৬ গ্রাম |
| সাউন্ড | ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার, Hi-Res Audio, ৩.৫mm জ্যাক |
| কানেক্টিভিটি | Wi-Fi 5, Bluetooth 5.0; 4G ভার্সনে সিম স্লট |
| ওএস ও রং | HyperOS 3 (Android 16); গ্রাফাইট গ্রে, সিলভার |
বাংলাদেশের লঞ্চটা হয়েছিল ২০২৬ সালের জুনে, আর New Age-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সব Xiaomi অথরাইজড স্টোরে একসাথে বিক্রি শুরু হয়। 4G ভার্সনের লঞ্চ প্রাইস ৳ ২৪,৯৯৯ রাখা হয়, যেখানে Wi-Fi ভার্সন ৳ ২১,৯৯৯-এ আসে। সিম সাপোর্টের জন্যই এই ৩ হাজার টাকার পার্থক্য, বাকি হার্ডওয়্যার দুটোতেই এক।
টেবিলের সব তথ্য Xiaomi-র অফিসিয়াল স্পেক শিট থেকে নেওয়া, আর দাম mi.com/bd-এর অফিসিয়াল ই-স্টোর অনুযায়ী লেখা। দাম যাচাইয়ের পুরো নিয়ম আমাদের দাম-পদ্ধতি পৃষ্ঠায় আছে, যেখানে অফিসিয়াল, বাজার আর প্রত্যাশিত দামের পার্থক্যও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনেক সাইটে নতুন ৯.৭ ইঞ্চি মডেলের সাথে ২০২৩ সালের পুরনো Redmi Pad 2-এর স্পেক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই প্রতিটি সংখ্যা অফিসিয়াল সোর্স দিয়ে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিজাইন: ৪০৬ গ্রাম অ্যালুমিনিয়াম বডি
হাতে তুললেই বোঝা যায় এটা সাধারণ প্লাস্টিকের ট্যাবলেট নয়। ২২৬.৫ × ১৪৮ × ৭.৪ মিলিমিটার মাপ আর মাত্র ৪০৬ গ্রাম ওজন, তাই এক হাতেই ধরে রাখা যায়। এই দামের সেগমেন্টে অল-মেটাল ইউনিবডি ডিজাইন সত্যিই বিরল।
বডি তৈরি অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়ে, আর ফ্রেম থেকে ব্যাক প্যানেল পর্যন্ত পুরোটাই মেটাল। Xiaomi-র দাবি, প্রতিটি ইউনিট ৪০টির বেশি কোয়ালিটি চেক পেরিয়ে আসে। ফলে সস্তা ট্যাবলেটের মতো সামান্য চাপেই বডি বেঁকে যাওয়ার ভয় কম।
পোর্ট আর বাটনের বসানো বেশ পরিচ্ছন্ন — পাওয়ার বাটন আর ভলিউম রকার ডান পাশে, USB-C পোর্ট নিচে। ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক রাখা হয়েছে, যা অনেক নতুন ট্যাবলেটে আর পাওয়া যায় না। স্টেরিও স্পিকার দুটি সাইডে বসানো, তাই ল্যান্ডস্কেপে ভিডিও দেখার সময় শব্দ সরাসরি কানে আসে।
দুটি রঙে আসছে ডিভাইসটি — গ্রাফাইট গ্রে আর সিলভার। ক্যামেরা মডিউলটা ব্যাক প্যানেলের কোণায় ছোট্ট করে বসানো, তাই ডিজাইনটা পরিপাটি লাগে। স্ক্রিনের চারপাশের বেজেলগুলো সিমমেট্রিক না হলেও চোখে খারাপ লাগে না, আর ৮৪.৭ শতাংশ স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও এই সাইজের ট্যাবলেটে চমৎকার।
ডিসপ্লে: ৯.৭ ইঞ্চি 2K ১২০Hz
এই দামের ট্যাবলেটে 2K রেজোলিউশন আর ১২০Hz রিফ্রেশ রেট একসাথে পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় কথা। ৯.৭ ইঞ্চির স্ক্রিনে ২০৪৮×১২৮০ পিক্সেল, অর্থাৎ প্রতি ইঞ্চিতে ২৫০ পিক্সেল। পড়া, ভিডিও দেখা কিংবা ব্রাউজিং — সব কাজেই ছবি ধারালো লাগে।
১২০Hz রিফ্রেশ রেটের কারণে স্ক্রল করলে কনটেন্ট মসৃণভাবে চলে, আর ১৮০Hz টাচ স্যাম্পলিং রেটের ফলে ট্যাপে দেরি অনুভূত হয় না। প্যানেলটা IPS LCD ধরনের, তবে রং আর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল বেশ ভালো। ১৬:১০ অ্যাসপেক্ট রেশিওর কারণে বই পড়া আর ডকুমেন্ট দেখার সময় অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যায়, আর ডিসপ্লের ধরন নিয়ে বিস্তারিত আছে আমাদের AMOLED বনাম IPS LCD গাইডে।
রাতে পড়ার অভ্যাস থাকলে TÜV সার্টিফিকেশনগুলো কাজে আসে — লো ব্লু লাইট মোডে চোখে নীল আলোর চাপ কমে, আর ফ্লিকার-ফ্রি হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলেও ক্লান্তি তুলনামূলক কম হয়। উজ্জ্বলতার দিক থেকে Xiaomi ৫০০ nits টাইপিক্যাল আর ৬০০ nits আউটডোর মোডের কথা বলছে, যা রোদে বাইরে বসে পড়ার সময় কাজে দেয়। তবে এই সংখ্যাগুলো ল্যাব টেস্টের, তাই বাস্তব ব্যবহারে সামান্য তারতম্য হতে পারে।
পারফরম্যান্স: Snapdragon 6s 4G Gen 2
পারফরম্যান্সের দায়িত্বে আছে Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেট, যা ৬ ন্যানোমিটার প্রসেসে তৈরি। ৮-কোর CPU-র চারটি কোর ২.৯GHz পর্যন্ত ঘোরে, আর গ্রাফিক্সের দায়িত্বে Adreno 610। Xiaomi-র দাবি, এই চিপসেট Redmi Pad SE 8.7-এর তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স দেয়।
দৈনন্দিন কাজে পারফরম্যান্স নিয়ে টানাটানি পড়ার কথা নয় — ব্রাউজিং, ভিডিও কল, নোট নেওয়া কিংবা হালকা ভিডিও এডিটিং সবই চলে। ৪GB র্যাম LPDDR4X টাইপের, তাই একসাথে অনেক অ্যাপ খুলে রাখলে কিছুটা চাপে পড়তে পারে। ১২৮GB স্টোরেজ UFS 2.2 মানের, আর microSD কার্ডে ২TB পর্যন্ত বাড়ানো যায়।
গেমিংয়ের কথা বললে সত্যি কথা বলতে হবে — PUBG বা Free Fire-এর মতো গেম লো সেটিংয়ে খেলা যায়, কিন্তু ১২০Hz ডিসপ্লের পুরো সুবিধা ভারী গেমে মিলবে না। হালকা গেম, পাজল কিংবা রেসিং গেমের জন্য অবশ্য এই ট্যাবলেট যথেষ্ট। গ্রাফিক্স-ইনটেনসিভ গেমের জন্য বেশি বাজেটে Snapdragon 860-সহ বড় মডেল দেখতে হবে।
সফটওয়্যারের দিক থেকে HyperOS 3 Android 16-ভিত্তিক, আর Xiaomi-র আধুনিক ফিচারগুলোর বেশিরভাগই এখানে আছে। Xiaomi ফোনের সাথে জুড়লে শেয়ার্ড ক্লিপবোর্ডে টেক্সট কপি করে ট্যাবলেটে পেস্ট করা যায়, আর কল সিঙ্ক চালু থাকলে ফোনের কল ট্যাবলেট থেকেই রিসিভ করা যায়। স্ক্রিনে সার্কেল করে সার্চ করার মতো AI ফিচারও আছে, যা পড়ার সময় অজানা শব্দ বা ছবি খুঁজতে সুবিধাজনক।
ক্যামেরা, স্পিকার ও কানেক্টিভিটি
ট্যাবলেটের ক্যামেরা দিয়ে কেউ প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি করে না, কিন্তু ভিডিও কলের জন্য ফ্রন্ট ক্যামেরা জরুরি। এখানে পেছনে ৮MP f/2.0 আর সামনে ৫MP f/2.2 ক্যামেরা, দুটোই ১০৮০p ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। আলো কম থাকলে ছবিতে নয়েজ চলে আসে, যা এই দামের ট্যাবলেটের স্বাভাবিক ব্যাপার।
ভিডিও কলে ফ্রন্ট ক্যামেরা ভালো কাজ করে, আর AI ফেস আনলকের কারণে স্ক্রিন লক খোলাও দ্রুত হয়। স্ক্যান করা ডকুমেন্ট বা হোয়াইটবোর্ডের ছবি তোলার কাজে রিয়ার ক্যামেরা যথেষ্ট। সাউন্ড সিস্টেমে ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার আর Hi-Res Audio সাপোর্ট থাকায় ভিডিও বা গানে শব্দ পরিষ্কার শোনা যায়।
কানেক্টিভিটির দিক থেকে Wi-Fi 5 ডুয়াল-ব্যান্ড আর Bluetooth 5.0 আছে, তবে Wi-Fi ভার্সনে সিম স্লট নেই। 4G ভার্সনে সিম বসিয়ে মোবাইল ডেটা চালানো যায়, কিন্তু ভয়েস কলের সুবিধা Xiaomi নিশ্চিত করেনি। তাই ফোন কলের জন্য স্মার্টফোনই ভরসা রাখতে হবে।
যা নেই: স্টাইলাস, GPS আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট
বাজেট ট্যাবলেটে কী নেই, সেটাও জানা জরুরি। এই মডেলে স্টাইলাস বা কীবোর্ড অ্যাক্সেসরির সাপোর্ট নেই, তাই হাতে লেখা নোট বা দীর্ঘ টাইপিংয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ভাবতে হবে। আনলকের একমাত্র ব্যবস্থা AI ফেস আনলক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই।
GPS আর NFC মডিউল অফিসিয়াল ফিচার লিস্টে নেই, যা Wi-Fi ট্যাবলেটের জন্য অস্বাভাবিকও নয়। লোকেশন-নির্ভর অ্যাপ চালাতে হলে ফোনের হটস্পট বা টিথারিং ব্যবহার করতে হবে। সিম সাপোর্ট শুধু 4G ভার্সনে, আর সেটাও মূলত ডেটার জন্যই।
ব্যাটারি: ৭৬০০mAh ও ১৮W চার্জিং
ব্যাটারি এই ট্যাবলেটের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি। ৭৬০০mAh (টাইপিক্যাল) ক্যাপাসিটি, আর Xiaomi-র ইন্টারনাল ল্যাবের হিসাবে ১৫ ঘণ্টার বেশি অনলাইন ভিডিও প্লেব্যাক চলে। হালকা ব্যবহারে একদিনের বেশি নিশ্চিন্তে টিকে যায়।
Xiaomi-র ল্যাব টেস্টে ১.৭ দিনের কম্বাইন্ড ব্যাটারি লাইফের কথা বলা হয়েছে, তবে বাস্তবে সেটা নির্ভর করে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আর অ্যাপ ব্যবহারের ধরনের ওপর। ১৮W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকলেও বক্সে ১৫W অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয়। দ্রুত চার্জিং চাইলে ১৮W-এর অফিসিয়াল চার্জার আলাদা করে কিনে নেওয়াই ভালো।
চার্জিং গতি ৬৭W-এর মতো ফ্ল্যাগশিপ ট্যাবলেটের সাথে তুলনীয় নয়, কিন্তু ব্যাটারি এত বড় যে দৈনিক চার্জিংয়ের চাপ কম থাকে। রাতে চার্জে দিয়ে সকালে নামিয়ে নিলে সারাদিন চলে যায়। USB-C পোর্টে মানসম্মত চার্জার আর পাওয়ার ব্যাংক দুটোই কাজ করে।
Redmi Pad 2 9.7 বনাম বিকল্প ট্যাবলেট
একা নয়, বরং চারপাশের বিকল্পগুলোর সাথে তুলনা করলেই আসল ছবিটা স্পষ্ট হয়। KoyTaka ক্যাটালগে এই বাজেটে দামসহ কয়েকটি ট্যাবলেট তালিকাভুক্ত আছে। টেবিলে চারটি মডেলের মুখোমুখি তুলনা দেখে নিন।
| মডেল | KoyTaka তালিকাভুক্ত দাম (১১ আগস্ট ২০২৬) | ডিসপ্লে | চিপসেট | ব্যাটারি | স্ট্যাটাস |
|---|---|---|---|---|---|
| Redmi Pad 2 9.7 (Wi-Fi) | ৳ ২১,৯৯৯ (অফিসিয়াল) | ৯.৭″ 2K ১২০Hz | Snapdragon 6s 4G Gen 2 | ৭৬০০mAh | অফিসিয়াল, স্টকে |
| Redmi Pad 2 9.7 (4G) | ৳ ২৪,৯৯৯ (অফিসিয়াল) | ৯.৭″ 2K ১২০Hz | Snapdragon 6s 4G Gen 2 | ৭৬০০mAh | অফিসিয়াল, স্টকে |
| Realme Pad | ৳ ১৮,৫২৫ | ১০.৪″ FHD+ | Helio G80 | ৭১০০mAh | ক্যাটালগ-তালিকাভুক্ত |
| Xiaomi Pad 5 | ৳ ৩০,৯৯৯ | ১১″ 2.5K ১২০Hz | Snapdragon 860 | ৮৭২০mAh | ক্যাটালগ-তালিকাভুক্ত |
দামের দিক থেকে Realme Pad-টা সবচেয়ে সস্তা, কিন্তু ২০২১ সালে আসা মডেলটির ডিসপ্লে ৬০Hz আর চিপসেট পুরনো Helio G80। নতুন রেডমি মডেলের 2K ১২০Hz স্ক্রিন আর Snapdragon 6s 4G Gen 2-এর সামনে সেটা স্পষ্টই পিছিয়ে। Realme Pad-এর বিস্তারিত দেখতে পারেন এর প্রোডাক্ট পেজে।
৩০ হাজারের ওপরে বাজেট থাকলে Xiaomi Pad 5-এর ১১ ইঞ্চি ডিসপ্লে আর Snapdragon 860 বড় স্ক্রিনের কাজে ভালো বিকল্প, তবে দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা বেশি। আরও উপরে গেলে Xiaomi Pad 5 Pro-ও আছে, যেটার ব্যাটারি ৮৬০০mAh-এর বেশি। ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকার বাজেটে থেকে গেলে Redmi Pad 2 9.7-ই বর্তমানে সবচেয়ে বালান্সড অফার।
পুরনো বাজেট মডেল মানে Honor Pad X6 আর Honor Pad 6-ও ক্যাটালগে আছে, তবে এদের বাংলাদেশি দাম তালিকাভুক্ত নয়। সেকেন্ড-হ্যান্ড মার্কেটে এগুলো সস্তায় পাওয়া যায়, কিন্তু নতুন কিনতে চাইলে দাম আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। অন্যদিকে OPPO Pad 3 Matte Display Edition-এর বাংলাদেশ লঞ্চ এখনো নিশ্চিত নয়, তাই সেটার দামও এখনো ঘোষণা হয়নি।
Redmi Pad 2 9.7 কার জন্য উপযুক্ত?
সবাইকে না, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ইউজারের জন্য এই ট্যাবলেটটা দারুণ মানানসই। ছোট স্ক্রিনে ভিডিও দেখতে কষ্ট হয়, এমন শিক্ষার্থী আর চাকরিজীবীদের কথা ধরুন। পড়াশোনা, নোট আর এন্টারটেইনমেন্ট — তিন কাজেই এটা কাজে আসে।
অনলাইন ক্লাস আর কোর্স দেখার জন্য 2K স্ক্রিন আর ৭৬০০mAh ব্যাটারি যথেষ্ট, আর ৪০৬ গ্রাম ওজনের কারণে ব্যাগে নিয়ে চলাফেরাও সহজ। বই পড়ার অ্যাপ, PDF মার্কিং কিংবা নোট নেওয়ার কাজে ১৬:১০ ডিসপ্লের অনুপাত ভালো কাজ করে। স্টাইলাস সাপোর্ট নেই, তাই হাতে আঁকা বা হ্যান্ডরাইটিং নোটের জন্য অন্য ট্যাবলেট দেখতে হবে।
যারা ফোনের ছোট স্ক্রিনে সিনেমা বা ওটিটি কনটেন্ট দেখেন, তাদের জন্যও এটি বড় আপগ্রেড — ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের কারণে আলাদা সাউন্ডবক্স লাগে না। অন্যদিকে যাদের শুধু কল, মেসেজ আর ক্যামেরা দরকার, তাদের জন্য ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোনই যথেষ্ট। ফোন বনাম ট্যাবলেটের এই হিসাবটা আরেকটু বিস্তারিত আছে আমাদের ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ফোন গাইডে।
আর যারা ভারী ভিডিও এডিটিং, 3D গেমিং কিংবা ডিজিটাল আর্টের জন্য ট্যাবলেট খুঁজছেন, তাদের জন্য এটা সঠিক পছন্দ নয়। স্টাইলাস সাপোর্ট না থাকায় আর্টিস্টরা হতাশ হবেন, আর ভারী কাজের জন্য Snapdragon 860-এর মতো শক্তিশালী চিপসেটের মডেল বেছে নেওয়া ভালো। নিজের কাজের ধরন আগে ঠিক করুন, তারপর বাজেট অনুযায়ী বাছাই করুন।
কোথায় কিনবেন ও ওয়ারেন্টি
কেনার সময় অফিসিয়াল চ্যানেল বাছাই করলেই অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আর আসল প্রোডাক্ট দুইটাই নিশ্চিত হয়। Xiaomi-র অফিসিয়াল ই-স্টোর, অথরাইজড শোরুম আর বড় অনলাইন রিটেইলাররা এই ট্যাবলেট বিক্রি করছে। কেনার আগে দুই-তিন জায়গার দাম মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।
আমাদের সাইটের Redmi Pad 2 9.7 প্রোডাক্ট পেজে ফুল স্পেসিফিকেশন আর দামের রেকর্ড আছে, আর Xiaomi-র সব মডেল এক জায়গায় পাবেন Xiaomi ক্যাটাগরি পেজে। Xiaomi বাংলাদেশে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দেয়, যার মেয়াদ সাধারণত এক বছর। দোকানভেদে ওয়ারেন্টি নীতিমালা সামান্য আলাদা হতে পারে, তাই বিক্রয় রশিদ আর ওয়ারেন্টি কার্ড ভালো করে রেখে দিন।
কেনার সময় কয়েকটি জিনিস চোখে রাখুন — সিল করা বক্স, অফিসিয়াল রশিদ আর ওয়ারেন্টি কার্ড। ডিভাইস চালু করে স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল বা টাচ সমস্যা আছে কি না, সেটাও দেখে নিন। অনলাইন বনাম অফলাইন কেনার সুবিধা-অসুবিধার বিস্তারিত আছে আমাদের অনলাইন বনাম অফলাইন ফোন কেনার গাইডে।
এই গাইডের সীমাবদ্ধতা
ক্যাটালগ রেকর্ডে পিক্সেল ডেনসিটি ২৬৮ ppi আর ডাস্ট-প্রুফ সুরক্ষার কথা লেখা ছিল, কিন্তু Xiaomi-র অফিসিয়াল স্পেক শিটে ২৫০ ppi বলা হয়েছে এবং কোনো IP রেটিং দেওয়া হয়নি। তাই এই রিভিউতে অফিসিয়াল তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে, আর ভুল তথ্যটুকু এখানে উল্লেখ করে রাখা হলো। যেকোনো ক্যাটালগ রেকর্ডের আগে অফিসিয়াল স্পেক শিট যাচাই করাই আমাদের নিয়ম।
৪G ভার্সনের রিয়েল-ওয়ার্ল্ড রিভিউ এখনো বেশি নেই, তাই সেটার দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। রিটেইলারদের দাম সময়ে সময়ে বদলায়, বিশেষ করে উৎসবের অফারে। এই নিবন্ধটি ১১ আগস্ট ২০২৬-এর তথ্যের ভিত্তিতে লেখা, তাই কেনার আগে বর্তমান দাম আবার যাচাই করে নিন।
Honor Pad X6 আর Honor Pad 6-এর মতো পুরনো মডেলের বাংলাদেশি দাম ক্যাটালগে নেই, তাই তুলনায় দামের কলাম রাখা হয়নি। হাতে-কলমে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এই গাইডে নেই, কারণ এটি অফিসিয়াল স্পেক শিট আর প্রকাশিত রিভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শোরুমে গিয়ে ডিভাইসটা একবার হাতে নিয়ে দেখার পরামর্শ থাকবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
Redmi Pad 2 9.7-এর অফিসিয়াল দাম কত?
Xiaomi-র অফিসিয়াল ই-স্টোর mi.com/bd অনুযায়ী Wi-Fi ভার্সনের দাম ৳ ২১,৯৯৯ আর 4G ভার্সনের দাম ৳ ২৪,৯৯৯, দুটোই ৪GB র্যাম ও ১২৮GB স্টোরেজসহ। লঞ্চের সময় থেকেই এই দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিভাইসটি। উৎসবের অফারে রিটেইলাররা সামান্য কম দামে অফার দিতে পারে, তবে অফিসিয়াল এমআরপি এই দুটোই।
Redmi Pad 2 9.7 কি 4G সাপোর্ট করে?
শুধু Wi-Fi ভার্সনে সিম স্লট নেই, আর 4G ভার্সনে সিম বসিয়ে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যায়। বাসা বা অফিসে ভালো Wi-Fi থাকলে ৳ ২১,৯৯৯-এর Wi-Fi ভার্সনই বুদ্ধিমানের পছন্দ। বাইরে ডেটা দরকার হলে 4G ভার্সনটা বেছে নিতে হবে।
Redmi Pad 2 9.7 আর পুরনো Redmi Pad 2-এর পার্থক্য কী?
২০২৩ সালের Redmi Pad 2-এ ছিল ১০.৯৫ ইঞ্চির স্ক্রিন, ৯০Hz রিফ্রেশ রেট আর Helio G99 চিপসেট। নতুন ৯.৭ ইঞ্চি মডেলে আছে ২০৪৮×১২৮০ রেজোলিউশনের 2K স্ক্রিন, ১২০Hz রিফ্রেশ রেট আর Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেট। নাম এক হলেও দুই মডেলের ডিসপ্লে, চিপসেট আর মাপ সম্পূর্ণ আলাদা, তাই কেনার আগে মডেল নম্বর ভালো করে মিলিয়ে নিন।
Redmi Pad 2 9.7 দিয়ে ফোন কল করা যায়?
4G ভার্সনে সিম বসিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়, কিন্তু Xiaomi এই ট্যাবলেটে ভয়েস কলের সুবিধা নিশ্চিত করেনি। সাধারণত ট্যাবলেটে ইয়ারপিস না থাকায় ফোন কলের জন্য স্মার্টফোনই নির্ভরযোগ্য। মেসেজিং আর ভিডিও কলের অ্যাপ অবশ্য Wi-Fi বা মোবাইল ডেটা দিয়েই চলবে।
Redmi Pad 2 9.7 কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
হালকা আর মাঝারি মানের গেমের জন্য ট্যাবলেটটি যথেষ্ট, কিন্তু ভারী গ্রাফিক্সের গেমে ১২০Hz ডিসপ্লের পুরো সুবিধা মিলবে না। Snapdragon 6s 4G Gen 2 চিপসেট দৈনন্দিন কাজ আর ক্যাজুয়াল গেমিং সহজে সামলাতে পারে। হার্ডকোর গেমিংয়ের জন্য বেশি বাজেটে Snapdragon 860-সহ Xiaomi Pad 5-এর মতো মডেল দেখা ভালো।


