realme 15 সিরিজের দাম বাংলাদেশে ২০২৬ — কোনটা নেবেন

realme 15 সিরিজ বাংলাদেশের বাজারে তিনটি 5G ফোন নিয়ে এসেছে, আর তিনটি মডেলের ব্যাটারিই 7000mAh। অফিসিয়াল দাম ৳ 32,999 থেকে ৳ 59,999 পর্যন্ত, ফলে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বাজেটের জন্য আলাদা মডেল আছে। এই গাইডে ১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা দাম, স্পেসিফিকেশন আর কোন মডেল কার জন্য উপযুক্ত, তা এক জায়গায় সাজানো হলো।
তিনটি মডেলের দাম realme বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজ থেকে যাচাই করা হয়েছে, আর বাজারের চলমান তালিকার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। 15 Pro 5G-এর অফিসিয়াল দাম ৳ 59,999, 15 5G-এর ৳ 44,999 আর 15T 5G-এর ৳ 32,999, প্রতিটি দামেই ভ্যাট প্রযোজ্য। এই গাইডের কোনো দামই অনুমান নয় — প্রতিটি সংখ্যার পেছনে অফিসিয়াল সূত্র আছে।
নিচের টেবিলে তিনটি মডেলের মূল ফিচার এক নজরে পাবেন, তারপর প্রতিটি ফোনের বিস্তারিত আলোচনা। কোন মডেল কিনবেন, তা ঠিক করতে ডিসপ্লে, ক্যামেরা, চার্জিং আর স্টোরেজের পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শেষে থাকা FAQ অংশে সবচেয়ে কমন প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেওয়া হলো।
realme বাংলাদেশের বাজারে গত কয়েক বছর ধরে দাম অনুযায়ী ফিচার দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়, আর ১৫ সিরিজ সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে। তিনটি মডেলেই 5G, উঁচু রিফ্রেশ রেটের OLED ডিসপ্লে আর 7000mAh ব্যাটারি থাকায় ভিত্তিটা শক্ত। তবে ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, ক্যামেরার সেন্সর আর চার্জিংয়ের গতিতে পার্থক্য আছে, যেটা বাজেট ঠিক করতে সাহায্য করবে।
realme 15 সিরিজের দাম বাংলাদেশে ২০২৬ — কোনটা নেবেন
নিচের টেবিলে তিনটি মডেলের ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর অফিসিয়াল দাম ও মূল স্পেসিফিকেশন দেওয়া হলো। অফিসিয়াল দাম বলতে realme বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজে তালিকাভুক্ত দাম বোঝানো হয়েছে, যার সঙ্গে ভ্যাট যোগ হয়। বাজারদাম ভেরিয়েন্ট বা আমদানির ভিত্তিতে আলাদা হতে পারে, সেটি নিয়ে পরে আলাদা অংশে বলা হয়েছে।
| মডেল | KoyTaka দাম (১৬ আগস্ট ২০২৬) | ডিসপ্লে | প্রসেসর | ক্যামেরা | ব্যাটারি | স্ট্যাটাস |
|---|---|---|---|---|---|---|
| realme 15 Pro 5G | ৳ 59,999 (12+256) | 6.8″ OLED, 144Hz | Snapdragon 7 Gen 4 | 50MP OIS + 50MP | 7000mAh, 80W | অফিসিয়াল |
| realme 15 5G | ৳ 44,999 (12+256) | 6.77″ AMOLED, 144Hz | Dimensity 7300+ | 50MP OIS + 8MP | 7000mAh, 80W | অফিসিয়াল |
| realme 15T 5G | ৳ 32,999 (8+256) | 6.57″ AMOLED, 120Hz | Dimensity 6400 Max | 50MP + 2MP | 7000mAh, 60W | অফিসিয়াল |
realme 15 Pro 5G — দাম ও স্পেসিফিকেশন
সিরিজের সবচেয়ে দামি আর ফিচারসমৃদ্ধ মডেলটি হলো 15 Pro 5G, যার অফিসিয়াল দাম ৳ 59,999। বাংলাদেশে এটি 12GB র্যাম আর 256GB স্টোরেজের একটি কনফিগারেশনে আসছে। নিচে ডিজাইন, ক্যামেরা, পারফরম্যান্স আর ব্যাটারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে
162.3 × 76.2 × 7.7 মিলিমিটার মাপের ফোনটির ওজন মাত্র 187 গ্রাম, যা 7000mAh ব্যাটারির ফোনের জন্য চমৎকার। 6.8 ইঞ্চির OLED প্যানেলে 144Hz রিফ্রেশ রেট, 1280 × 2800 রেজোলিউশন আর 1800 nits পর্যন্ত HBM ব্রাইটনেস আছে। IP68/IP69 সার্টিফিকেশন মানে ধুলো আর পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা, আর সামনের দিকে Gorilla Glass 7i প্রটেকশন রয়েছে।
Snapdragon 7 Gen 4 চিপসেটটি 4nm প্রসেসে তৈরি, ফলে দৈনন্দিন কাজে দ্রুততা আর গেমিংয়ে স্থিতিশীলতা দুটোই মেলে। Adreno 722 GPU ভারী গেমও চালাতে পারে, তবে টানা গেমিং সেশনে তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা মাথায় রাখা ভালো। 12GB LPDDR4X র্যাম আর UFS 3.1 স্টোরেজের সংমিশ্রণে মাল্টিটাস্কিং ঝামেলামুক্ত থাকে।
ক্যামেরা
পেছনে 50MP প্রাইমারি ক্যামেরা আছে, যাতে Sony IMX896 সেন্সর, f/1.8 অ্যাপারচার আর OIS সাপোর্ট রয়েছে। এর পাশে 50MP আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা 116 ডিগ্রি ভিউ দেয়, ফলে গ্রুপ ছবি আর ল্যান্ডস্কেপ শুট করা সহজ হয়। 4K ভিডিও 60fps পর্যন্ত রেকর্ড করা যায়, আর সামনের 50MP সেলফি ক্যামেরাও 1080p ভিডিওতে সক্ষম।
ক্যামেরা অ্যাপে প্যানোরামা আর বেসিক মোডগুলো আছে, আর 50MP রেজোলিউশনে বিস্তারিত ছবি তোলা যায়। রাতের ছবিতে OIS আর বড় সেন্সর মিলিয়ে ছবি তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে। সামনের 50MP ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও কল আর সেলফি দুটোই ভালো মানের হয়।
ব্যাটারি ও চার্জিং
7000mAh টাইটান ব্যাটারি এই সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, আর 80W চার্জারে অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী ২৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ হয়। ব্যস্ত দিনে একবার চার্জে সারাদিন চলার মতো ব্যাকআপ পাওয়া যায়। ভারী ব্যবহারেও দিনের মাঝপথে চার্জারের খোঁজ করতে হয় না।
বাংলাদেশে 15 Pro 5G আসছে Flowing Silver, Silk Purple আর Velvet Green — এই তিনটি রঙে। বডির পেছনের অংশ গ্লাস-ফাইবার রিইনফোর্সড প্লাস্টিক বা ইকো-লেদারের, ফলে ধরতে আরামদায়ক। 144Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং আর গেমিংয়ে মসৃণতা আনে, আর 4608Hz PWM ডিমিং চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
যারা সিরিজের সেরা ক্যামেরা, উঁচু মানের ডিসপ্লে আর দ্রুততম চার্জিং চান, তাদের জন্য 15 Pro 5G-ই সঠিক পছন্দ। ৳ 59,999-এর এই ফোনটি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বাজেটে ক্যামেরা আর ব্যাটারি দুটোকেই প্রাধান্য দেয়। বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন দেখতে realme 15 Pro 5G প্রোডাক্ট পেজ দেখুন।
realme 15 5G — দাম ও স্পেসিফিকেশন
সিরিজের মাঝের মডেল 15 5G-এর অফিসিয়াল দাম ৳ 44,999, কনফিগারেশন 12GB + 256GB। Pro মডেলের বেশিরভাগ শক্তিশালী ফিচার এখানে আছে, তবে ক্যামেরা আর ডিজাইনে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বাজেটের জন্য এটি সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অপশন।
ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্স
6.77 ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লেতে 144Hz রিফ্রেশ রেট, 1080 × 2392 রেজোলিউশন আর 1600 nits পর্যন্ত HBM ব্রাইটনেস আছে। Dimensity 7300+ চিপসেটটি 4nm প্রসেসের, আর Mali-G615 GPU দৈনন্দিন কাজ থেকে মাঝারি গেমিং পর্যন্ত সামলাতে পারে। 12GB র্যামের সঙ্গে 256GB UFS 3.1 স্টোরেজ থাকায় অ্যাপ আর ছবি জমানোর জায়গার অভাব হবে না।
ক্যামেরা
পেছনের 50MP ক্যামেরায় Sony IMX882 সেন্সর আর OIS আছে, ফলে কম আলোতেও ছবি তুলনামূলক পরিষ্কার আসে। 8MP আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা 112 ডিগ্রি ভিউ দেয়, যা Pro মডেলের 50MP আল্ট্রাওয়াইডের চেয়ে কম রেজোলিউশনের। 4K ভিডিও 30fps পর্যন্ত রেকর্ড হয়, আর সামনের 50MP ক্যামেরা 4K ভিডিওতেও সক্ষম।
ব্যাটারি
এখানেও 7000mAh ব্যাটারি আছে, আর 80W চার্জিংয়ে অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী পুরো চার্জ আসে প্রায় ৬১ মিনিটে। টানা ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া চালানোর মতো ভারী ব্যবহারেও সারাদিন চলার মতো ব্যাকআপ পাওয়া যায়। তবে NFC না থাকায় মোবাইল পেমেন্টের পরিকল্পনা থাকলে কেনার আগে এই দিকটি মাথায় রাখুন।
Pro আর 15 5G-এর মধ্যে মূল পার্থক্য ক্যামেরা আর ডিসপ্লের কিছু বিবরণে। ১৫ হাজার টাকা কম খরচ করে প্রায় একই ব্যাটারি আর পারফরম্যান্স পেতে চাইলে realme 15 5G প্রোডাক্ট পেজ থেকে শুরু করুন। ক্যামেরায় 50MP আল্ট্রাওয়াইডের বদলে 8MP পেলেও দৈনন্দিন ব্যবহারে পার্থক্য খুব একটা বোঝা যায় না।
তিনটি ফোনেই Android 15 ভিত্তিক Realme UI 6.0 আছে, যা আধুনিক ফিচার আর কাস্টমাইজেশন অপশন দেয়। Pro আর 15T-তে তিনটি বড় Android আপডেটের প্রতিশ্রুতি আছে, তবে 15 5G-এর অফিসিয়াল পেজে এমন স্পষ্ট উল্লেখ নেই। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ।
realme 15T 5G — দাম ও স্পেসিফিকেশন
সিরিজের সাশ্রয়ী মডেল 15T 5G-এর অফিসিয়াল দাম ৳ 32,999, আর বাংলাদেশে 8GB + 256GB কনফিগারেশন আসছে। 7000mAh ব্যাটারি এখানেও আছে, তবে চার্জিং 60W আর ডিসপ্লে 120Hz। ৩০ হাজার টাকার আশপাশের বাজেটে 5G আর বিশাল ব্যাটারি চাইলে এটিই মূল টার্গেট।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে
6.57 ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লেতে 120Hz রিফ্রেশ রেট, 1080 × 2372 রেজোলিউশন আর 1400 nits পর্যন্ত HBM ব্রাইটনেস আছে। 181 গ্রাম ওজনের ফোনটির বডি 158.4 × 75.2 × 7.8 মিলিমিটার, যা এক হাতে ধরতে আরামদায়ক। IP66/68/69 সার্টিফিকেশন মানে বৃষ্টি বা পানির ছিটাতেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
পারফরম্যান্স ও ক্যামেরা
Dimensity 6400 Max চিপসেটটি 6nm প্রসেসে তৈরি, আর 8GB র্যামের সঙ্গে দৈনন্দিন অ্যাপ আর মাঝারি গেমিং ভালোই চলে। পেছনে 50MP ক্যামেরার সঙ্গে 2MP ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট পোর্ট্রেট ক্যামেরা আছে, তবে OIS নেই। ভিডিও রেকর্ডিং 1080p 60fps পর্যন্ত, আর সামনের 50MP সেলফি ক্যামেরা 1080p ভিডিও দেয়।
ব্যাটারি ও স্টোরেজ
7000mAh ব্যাটারি 60W চার্জিং সাপোর্ট করে, আর 10W রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিংয়ে অন্য ডিভাইসও চার্জ করা যায়। 256GB স্টোরেজের পাশাপাশি microSD কার্ড স্লট আছে, যা সিরিজের অন্য দুটি মডেলে নেই। ফলে বড় ভিডিও বা ছবির সংগ্রহ রাখার জন্য এটি আরও নমনীয় অপশন।
যারা বাজেটের মধ্যেই 5G, বিশাল ব্যাটারি আর মেমোরি এক্সপ্যানশন চান, তাদের জন্য 15T 5G উপযুক্ত। realme 15T 5G প্রোডাক্ট পেজ-এ পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আর ছবি আছে। 15T 5G বাংলাদেশে অক্টোবর ২০২৫ থেকে অফিসিয়ালি বিক্রি হচ্ছে, আর বড় রিটেইলাররা অফিসিয়াল দামেই তালিকাভুক্ত করেছে।
বাংলাদেশে 15T 5G আসছে Silk Blue, Suit Titanium আর Flowing Silver রঙে। টেক্সচার্ড ম্যাট ডিজাইনের কারণে হাতে ধরতে আরামদায়ক গ্রিপ পাওয়া যায়। ডুয়াল ন্যানো-সিম স্লটে দুটি সিম ব্যবহার করা যায়, ফলে ব্যক্তিগত আর অফিসিয়াল নম্বর আলাদা রাখা সহজ।
তিন মডেলের সরাসরি তুলনা
তিনটি ফোনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রথমে বাজেট, তারপর ক্যামেরা আর ডিসপ্লের অগ্রাধিকার ঠিক করুন। Pro 5G-তে সেরা ক্যামেরা সেটআপ, 15 5G-তে প্রায় একই পারফরম্যান্স কম দামে, আর 15T 5G-তে মূল ফিচার সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায়। তিন মডেলেই 7000mAh ব্যাটারি থাকায় ব্যাটারি নিয়ে আলাদা ভাবনার প্রয়োজন নেই।
গেমিংয়ের জন্য Pro আর 15 5G-এর 144Hz ডিসপ্লে আর শক্তিশালী চিপসেট ভালো কাজ করবে। ক্যামেরাকে প্রাধান্য দিলে Pro-র ডুয়াল 50MP সেটআপই সেরা, আর 15T-তে OIS না থাকায় রাতের ছবিতে পার্থক্য টের পাবেন। কম্পেয়ার টুলে দুটি মডেলের পাশাপাশি স্পেসিফিকেশন মেলানো যায়।
স্টোরেজের দিক থেকে 15T-তে microSD স্লট থাকা বড় সুবিধা, কারণ অন্য দুটি মডেলে কার্ড স্লট নেই। তিনটি মডেলেই ইনফ্রারেড পোর্ট আছে, ফলে টিভি বা এসি নিয়ন্ত্রণের রিমোট হিসেবে ফোন ব্যবহার করা যায়। NFC-এর ক্ষেত্রে 15T অফিসিয়াল পেজ অনুযায়ী সাপোর্ট করে, 15 Pro-তে অঞ্চলভেদে থাকে, আর 15 5G-তে নেই।
সংক্ষেপে বললে — ক্যামেরা আর প্রিমিয়াম ফিল চাইলে Pro 5G, দাম আর পারফরম্যান্সের ভারসাম্য চাইলে 15 5G, আর বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ ফিচার চাইলে 15T 5G। প্রতিটি মডেলই নিজের দামের জায়গায় যুক্তিসঙ্গত, তাই ভুল পছন্দ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আসন্ন মডেলের খবর রাখতে আপকামিং ফোন পেজটি ফলো করুন।
ব্যাটারির দিক থেকে তিনটি মডেলই সমান, কিন্তু চার্জিংয়ে Pro আর 15 5G-তে 80W, 15T-তে 60W। 15T-তে রিভার্স ওয়্যার্ড চার্জিং থাকায় অন্য ফোন জরুরি ভিত্তিতে চার্জ করা যায়। দৈনিক চার্জিংয়ের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এই পার্থক্যটি মাথায় রাখুন।
প্রতিটি মডেলের রঙের প্রাপ্যতা দোকানভেদে আলাদা হতে পারে, তাই পছন্দের রঙ আগে থেকে নিশ্চিত করে নিন। অফিসিয়াল অনলাইন স্টোর আর বড় রিটেইলারদের তালিকায় সাধারণত সব রঙ থাকে। স্টক শেষ হয়ে গেলে নতুন স্টক আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
অফিসিয়াল দাম বনাম বাজারদাম
এই গাইডে দেখানো দামগুলো realme বাংলাদেশের অফিসিয়াল পেজ থেকে নেওয়া, যার সঙ্গে ভ্যাট যোগ হয়। বাজারে অবশ্য আমদানিকৃত বা আলাদা র্যামের ভেরিয়েন্ট কম দামেও পাওয়া যায়। কিছু রিটেইলারের তালিকায় 15 Pro 5G-এর দাম ৳ 40,599 থেকেও শুরু হয়, কারণ সেখানে 8GB র্যামের আলাদা কনফিগারেশন থাকে।
অফিসিয়াল আর বাজারদামের এই পার্থক্য স্বাভাবিক, তবে ওয়ারেন্টি আর আফটার-সেলস সার্ভিসের জন্য অফিসিয়াল ভেরিয়েন্টই নিরাপদ পছন্দ। দামের হিসাবের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের দাম পদ্ধতি পৃষ্ঠাটি পড়ুন। একই মডেলের দাম দোকানভেদে সামান্য কম-বেশি হতে পারে, তাই কেনার আগে দুই-তিনটি দোকানের দাম মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার বাজেটে অন্য অপশনও দেখতে চাইলে সেরা ফোন ৪০ হাজারের নিচে গাইডটি দেখুন। আরও কম বাজেটে 5G ফোন খুঁজলে ২৫ হাজারের নিচে সেরা 5G ফোন তালিকাটি কাজে লাগবে। প্রতিটি গাইডেই দাম যাচাই করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তুলনা করতে সুবিধা হবে।
বাংলাদেশে ফোন কেনার সময় ভ্যাট ছাড়াও অনেক দোকানে ইএমআই অপশন থাকে, যা বড় বাজেটের ফোনের জন্য সুবিধাজনক। তবে ইএমআই সুদসহ মোট খরচ বেশি দাঁড়ায়, তাই আগে হিসাব করে নেওয়া ভালো। অফিসিয়াল দোকানের অফারগুলো মাঝে মাঝে ছাড় দেয়, ফলে কেনার আগে ঘুরে দেখা যুক্তিসঙ্গত।
কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন
তিনটি মডেলই 5G সাপোর্ট করে, তবে বাংলাদেশে 5G নেটওয়ার্কের কভারেজ এখনো শহরকেন্দ্রিক। 4G ব্যান্ডগুলো সব মডেলেই রয়েছে, ফলে বর্তমান নেটওয়ার্কেও সমস্যা হবে না। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য আপডেট নীতি দেখে নেওয়া ভালো — Pro আর 15T 5G-এর অফিসিয়াল পেজে তিনটি বড় Android আপডেটের কথা বলা আছে।
বিক্রেতা বাছাইয়ের সময় ভ্যাট, ওয়ারেন্টি কার্ড আর বক্সের ভেতরের জিনিসপত্র যাচাই করে নিন। অনলাইনে কিনলে ডেলিভারির সময় ফোনের IMEI আর সিল যাচাই করার সুযোগ নিন। realme ফোনের তালিকা পৃষ্ঠায় ব্র্যান্ডের সব মডেল এক জায়গায় পাবেন, আর সব মোবাইল ফোন দেখতে পারেন মূল বিভাগে।
সাম্প্রতিক Xiaomi মডেলগুলোর সঙ্গে তুলনার জন্য Redmi Note 15 সিরিজের গাইডটিও পড়ে দেখতে পারেন। ১৫ সিরিজ আর Note 15 সিরিজের মধ্যে বাজেটের ওপর নির্ভর করে পছন্দ বদলাতে পারে। আরও তুলনামূলক লেখা পেতে বায়িং গাইড বিভাগটি ফলো করুন।
স্মার্টওয়াচ বা ট্যাবলেটের মতো অন্য ডিভাইসের খোঁজে থাকলেও আমাদের সাইটে দরকারি গাইড আছে। ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টওয়াচের তুলনা আছে এই গাইডে। ট্যাবলেটের দাম জানতে Redmi Pad 2 9.7 গাইডটি পড়ুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
realme 15 Pro 5G কি পানি প্রতিরোধী?
হ্যাঁ, realme 15 Pro 5G-তে IP68/IP69 সার্টিফিকেশন আছে, যা ধুলো, বৃষ্টি আর পানির ছিটা থেকে ফোনকে সুরক্ষা দেয়। তবে পানির ভেতরে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের জন্য এটি ডিজাইন করা নয়। ওয়ারেন্টি ঝামেলা এড়াতে কেনার পর পরিষ্কার পানিতে ফোন ডোবানো এড়িয়ে চলুন।
realme 15T 5G-এ মেমোরি কার্ড দেওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, realme 15T 5G-তে microSDXC কার্ড স্লট আছে, ফলে স্টোরেজ সহজে বাড়ানো যায়। সিরিজের অন্য দুটি মডেল 15 Pro 5G আর 15 5G-তে কার্ড স্লট নেই। তাই প্রচুর ভিডিও বা ছবি রাখার অভ্যাস থাকলে 15T-ই বেশি নমনীয়।
realme 15 সিরিজে কি ওয়্যারলেস চার্জিং আছে?
না, এই সিরিজের কোনো মডেলেই ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট নেই। তিনটি মডেলেই ওয়্যার্ড চার্জিং — Pro আর 15 5G-তে 80W, আর 15T-তে 60W। 7000mAh ব্যাটারির সঙ্গে দ্রুত ওয়্যার্ড চার্জিংই এখানে মূল ফিচার।
realme 15 5G-এর ক্যামেরায় OIS আছে কি?
হ্যাঁ, realme 15 5G-এর 50MP প্রাইমারি ক্যামেরায় Sony IMX882 সেন্সরসহ OIS আছে। কম আলো আর হাত কাঁপলে ছবি তুলনামূলক স্থির থাকে। তবে 15T 5G-তে OIS নেই, তাই রাতের ছবিতে পার্থক্য টের পাবেন।
কোন realme 15 মডেলে NFC সাপোর্ট আছে?
realme 15T 5G-এর অফিসিয়াল পেজে NFC সাপোর্টের কথা বলা আছে, আর 15 Pro 5G-তে NFC অঞ্চলভেদে থাকে। realme 15 5G-তে NFC নেই। মোবাইল পেমেন্ট বা কন্ট্যাক্টলেস ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে কেনার আগে এই দিকটি যাচাই করে নিন।


